কুমিল্লা সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০২২ ০৯:০০ এএম
আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০২২ ১২:০২ পিএম
অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকানপাট। ছবি : প্রবা
দেশের অন্যতম বৃহৎ তরকারি বাজার কুমিল্লার নিমসারে এবার মহাসড়কের মাঝখানে আড়ত ও দোকান গড়ে তুলেছেন দখলদাররা। বাজারটি মূলত মহাসড়কের দুই পাশ ঘিরে হলেও তারা এবার স্থাপনা গড়েছেন সড়কের দুই লেনের মাঝের অংশে। এতে যেমন হচ্ছে বিশৃঙ্খলা, তেমনি ঘটছে দুর্ঘটনা, লাগছে যানজট আর সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় অবস্থিত নিমসার বাজারের এক অংশে আড়ত, অন্য অংশে খুচরা শাকসবজি-ফলমূল এবং আরেক অংশে আলু, মসলার পাইকারি; মুরগি ও মাছের খুচরা বাজার বসে। বাজারটিতে প্রতিদিন পাইকারি মালামাল বিক্রির দেড় শতাধিক আড়তের বাইরেও খুচরা চার শতাধিক শাকসবজির দোকান বসে। আড়তগুলোয় প্রতিদিন গড়ে ৫-৬ লাখ টাকার শাকসবজি ও তরকারি বিক্রি হয়। আড়তে যেসব শাকসবজি বিক্রি হয় তার সিংহভাগই কুমিল্লার বাইরের জেলাগুলো থেকে আসে। কিছু মালামাল আসে নিমসারের আশপাশ ও কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলা থেকে। সেখান থেকে ব্যবসায়ী ও খুচরা বিক্রেতারা পণ্য কিনে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিক্রি করেন। তবে বাজারের আড়তদারদের বেশিরভাগই কুমিল্লার স্থানীয়। এ বাজারটিতে প্রকৃত ব্যবসায়ীর পাশাপাশি রয়েছেন কিছু অবৈধ দখলদারও।
সরেজমিন দেখা যায়, নিমসার স্কুলের সামনে থেকে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের আশপাশে ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী দুই লেনের মাঝখানে গড়ে তোলা হয়েছে অর্ধশতাধিক আড়ত-দোকান ও খাবারের হোটেল। বিভিন্ন ধরনের সবজি ও তরকারি বিক্রির পাশাপাশি এসব আড়ত ও দোকানে বিক্রি হচ্ছে ফল ও কাঁচামাল। এ ছাড়া পুরো বাজারে কয়েক শ অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হলেও কিছুদিন পর ফের স্থাপনা গড়া হয় সেখানে। সবশেষ ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে নিমসার বাজারে অভিযান চালিয়ে কয়েক শ অবৈধ দোকান ও আড়ত উচ্ছেদ করা হয়েছিল। এরপর আর কোনো অভিযানের তথ্য পাওয়া যায়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে বাজারজুড়ে কয়েক শ অবৈধ দোকান ও আড়ত গড়ে তুলে সেখানে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে মহাসড়কের দুই লেনের মাঝখানের সরকারি অধিগ্রহণকৃত অংশে গড়ে তোলা দোকান-আড়তের দৃশ্যটি। এ ছাড়া মহাসড়কের জমি দখল করেও চলে দোকান নির্মাণ ও ব্যবসা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র বলছে, বুড়িচং উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক, পরিহলপাড়ার রুহুল আমিনসহ ২০-২৫ জনের একটি প্রভাবশালী চক্র এসব স্থাপনা গড়ে ভাড়া দিচ্ছেন। সেখানে আড়ত ও দোকান নিয়ে বসা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দখলদাররা এসব দোকান বিভিন্নজনকে বিভিন্ন রেটে ভাড়া দেন। আর ভাড়াটিয়াদের ভাষ্য, ‘আমরা তাদের কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছি। বৈধ নাকি অবৈধ তা বলতে পারব না।’
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হালিমা খাতুন বলেন, ‘নিমসার বাজারের কিছু অবৈধ স্থাপনার বিষয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর থেকে আমাদের বলা হয়েছে। সেখানে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি শিগগিরই অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করবেন।’
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা বলেন, ‘মহাসড়কের নিমসার বাজার ও আশপাশের অংশে যেসব অবৈধ স্থাপনা আছে সেগুলো উচ্ছেদ করা হবে। অতিদ্রুতই অভিযান চালিয়ে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করা হবে।’