নওগাঁ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২৪ ২০:২৫ পিএম
আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৪ ২১:১০ পিএম
বিস্কুট খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মঈন ইসলাম। প্রবা ফটো
নওগাঁর সদর উপজেলায় ‘মেয়াদ উত্তীর্ণ’ বিস্কুট খাওয়ার পর দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় এক কিশোর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মঙ্গলবারের এ ঘটনায় করা মামলায় যে দোকান থেকে বিস্কুট কেনা হয়েছিল সেই দোকানিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (১০ জুলাই) গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে দোকানি মো. কামরুজ্জামানকে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
মারা যাওয়া শিশুরা হলো- দোগাছী স্কুলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জহুরুল ইসলামের মেয়ে ছয় বছর বয়সি খাদিজা ও আট মাসের তাবাসসুম। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৫ বছরের মঈন ইসলাম একই গ্রামের পাইলট হোসেনের ছেলে।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, জহুরুলের দুই শিশু কন্যা খাদিজা, তাবাসসুম এবং একই গ্রামের মঈন ইসলাম মঙ্গলবার দুপুরের দিকে বাড়ির পাশের কামরুজ্জামানের মুদি দোকান থেকে বিস্কুট কিনে খায়। এর কিছুক্ষণ পরই তারা বমি করতে থাকে। একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের নওগাঁ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে তাবাসসুমকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। আর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খাদিজা ও মঈনের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে সন্ধ্যার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে নেওয়ার পথে খাদিজার মৃত্যু হয়।
শিশুদের চাচা শাহাজান আলী ও বাসিন্দাদের দাবি- দোকানের মেয়াদ উত্তীর্ণ বিস্কুট খাওয়ার কারণেই ওই দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনার পর এ বিষয়ে মুদি দোকানি কামরুজ্জামান বলেছিলেন, ‘বিস্কুটগুলো পাশের শান্তাহার শহরের ডিলারের নিকট থেকে কিনেছি। এগুলো মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে কি না তা আমি সঠিকভাবে বলতে পারব না।’
এ বিষয়ে নওগাঁ সদর হাসপাতালের আরএমও আনসার আলী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘অতিরিক্ত বমি ও পানিশূন্যতার কারণে ওই দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।’
মেয়াদ উত্তীর্ণ বিস্কুটের বিষক্রিয়ায় শিশুদের মৃত্যু হয়েছে কি না- জানতে চাইলে এ চিকিৎসক বলেন, ‘তা এ মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব না। ভিসেরা রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করে বলা যাবে।’
ঘটনার পর নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় নিহতদের বাবার মামলার পর মুদি দোকানি কামরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ওই মুদি দোকানের মেয়াদ উত্তীর্ণ সব বিস্কুট জব্দ করা হয়েছে।’