রমেক হাসপাতাল
রংপুর অফিস
প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২৪ ১৯:১৭ পিএম
আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৪ ১৯:৩৮ পিএম
রমেক হাসপাতাল। ছবি : সংগৃহীত
রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে ভিন্ন গ্রুপের রক্ত শরীরে প্রবেশ করানোয় ফাতেমা বেগম নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১০ জুলাই) ভোরে ঢাকার সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। তিনি নগরীর কেরানীপাড়ার বাসিন্দা দুলাল মিয়ার স্ত্রী।
ফাতেমা বেগমের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মারুফ জিয়ামের বন্ধু ইয়াসিন আরাফাত প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এ তথ্য জানিয়েছেন ।
জানা গেছে, জরায়ু মুখে অপারেশনের জন্য গত ২১ জুন রমেক হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি হন ফাতেমা। পরদিন তার রক্ত পরীক্ষা করতে হাসপাতালে ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগে স্যাম্পল পাঠানো হয়। সেখানে তার রক্তের গ্রুপ নির্ধারণ করা হয় এ পজেটিভ। অপারেশনের পর রক্ত লাগবে জেনে ‘এ’ পজেটিভ ডোনার থেকে রক্ত সংগ্রহ করা হয়। এদিন দুপুর ১২টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সফলভাবে ফাতেমা বেগমের অপারেশন সম্পন্ন করা হয় এবং তার শরীরে এ পজেটিভ রক্ত প্রবেশ করানো হয়। এর ৩/৪ ঘণ্টার মধ্যে ফাতেমা বেগমের ক্যাথেটার দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে।
খবর পেয়ে চিকিৎসকরা এসে জরায়ু মুখে আবার অপারেশনের কথা বলে। এ জন্য আবারও ফাতেমা বেগমের রক্ত পরীক্ষার জন্য হাসপাতালের ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগে পাঠানো হয়। এবার তার রক্তের গ্রুপ ‘ও’ পজেটিভ দেখা যায়। ভুল রক্ত দেওয়ার জন্য ফাতেমার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে জানা যায়। তাৎক্ষণিকভাবে ফাতেমাকে আইসিইউতে নিয়ে ২৯ জুন পর্যন্ত চিকিৎসা দেওয়া হয়। হাসপাতালের আইসিইউ থেকে জানানো হয় ফাতেমা বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিতে হবে।
বিষয়টি সমঝোতা করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসার জন্য ১ লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় ফাতেমার পরিবারকে। এ সময় ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসার সব ব্যয়ভার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বহন করার দাবি জানায় ফাতেমার পরিবার। কর্তৃপক্ষ এতে রাজি না হওয়ায় ফাতেমা বেগমের মেয়ে সাহারা খাতুন হাসপাতাল পরিচালক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেয় এবং ফাতেমা বেগমকে ঢাকার সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে ভর্তি করে। এখানেও দিন দিন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। বুধবার ভোরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ফাতেমার শরীরে ভুল রক্ত প্রবেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে রংপুর মেডিকেল কলেজের পরিচালক ডা. ইউনুস আলী বলেন, সাধারণত কোনো রোগীর শরীরে ভুল রক্ত গেলে তার কয়েক মিনিটের মধ্যেই রোগী রিয়্যাক্ট করে। চুলকানী অথবা অস্থিরতা দেখা যায়। ফাতেমা বেগমের ক্ষেত্রে তা ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা পর বোঝা গেছে। হাসপাতালে কখনও এমনটি ঘটে না।
তিনি জানান, ফাতেমা বেগমের মেয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৩ জুলাই ৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে হেমাটোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. কামরুজ্জামান আহ্বায়ক, ইউরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. শহিদুল ইসলাম সুগম, মেট্রোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আনিসুজ্জামান, গাইনি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সফুরা খাতুন, আইসিইউ বিভাগের ডা. জামাল উদ্দিন মিন্টু, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মজিদুল ইসলাম ও উপপরিচালক ডা. আখতারুজ্জামান সদস্য হিসেবে রয়েছেন।
তিনি বলেন, পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হলে রোগী ও তাদের স্বজন ঢাকায় অবস্থান করায় কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারেনি। এরপর তদন্ত কমিটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরও তিন দিনের সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার কমিটি তদন্ত রিপোর্ট দিলে ঢাকার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।