× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জ্যেষ্ঠ ও তৃণমূল নেতাকর্মীদেদের ক্ষোভ

সাইদ মেমন, বরিশাল

প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২৪ ১৬:৫৭ পিএম

বাঁ থেকে মনিরুজ্জামান খান ও জিয়াউদ্দিন সিকদার

বাঁ থেকে মনিরুজ্জামান খান ও জিয়াউদ্দিন সিকদার

সদ্য ঘোষিত বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির এক নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক নিয়ে জ্যেষ্ঠ ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। নেতাদের দাবি, এক নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন দলের ত্যাগী নেতা। তবে এক নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক হওয়ার মতো বয়স হয়নি। তাকে এক নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক করে জ্যেষ্ঠ নেতাদের অবজ্ঞা করা হয়েছে। এতে কার্যত তারা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়বেন। 

আকস্মিকভাবে গত ১৩ জুন বরিশাল মহানগর বিএনপির ৪২ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ভেঙে দেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তেমনি গত ৭ জুলাই তিন সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা দেওয়া হয়। কমিটিতে সাবেক আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুককে বহাল রাখা হয়েছে। সদস্য সচিব হিসেবে রাখা হয়েছে আগের কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউদ্দিন সিকদার জিয়াকে। এ ছাড়াও এক নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে আফরোজা খানম নাসরিনকে। 

সাবেক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মীর জাহিদুল কবির জাহিদ ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আলী হায়দার বাবুলকে নতুন কমিটিতে রাখা হয়নি। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন যুবদল নেতা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব নিয়ে কারও মধ্যে কোনো ক্ষোভ নেই। ক্ষোভ এক নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিনকে নিয়ে। কারণ অনেক সিনিয়র নেতা রয়েছেন। তাদের কোন স্থানে রাখা হবে?

ওই যুবদল নেতা বলেন, সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আলী হায়দার বাবুল ত্যাগী নেতা। আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন। অ্যাডভোকেট আলী হায়দার বাবুল, সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র আলতাফ মাহমুদ সিকদার ও কেএম শহীদুল্লাহ, অ্যাডভোকেট মহসিন মন্টু, আনোয়ারুল হক তারিনের মতো জ্যেষ্ঠ নেতাদের এক প্রকার অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। তাদের কি আফরোজা খানম নাসরিনের নিচে রাখা যাবে- এমন প্রশ্ন রাখেন ওই যুবদল নেতা। 

সাবেক এ ছাত্রনেতা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি না দিয়ে পরিধি আরও বাড়ানো উচিত ছিল। কারণ আগের আহ্বায়ক কমিটির পরিধি যখন বাড়ানো হয়, তখন একটি অংশের নেতারা বাদ পড়ে যান। কমিটিতে যারা থাকেন, তারা নিজেদের অনুসারীদের রাখেন। এতে দলের মধ্যে একটি অংশ নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। এবারে যেন সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই দিকে কেন্দ্রীয় কমিটির খেয়াল রাখতে হবে। 

বর্তমানে দলের দুঃসময়। এই সময়ে নিজেদের মধ্যে গ্রুপিং-বিভেদসহ দলের কমিটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেও নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে মহানগর যুবদলের এক নেতা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, এক নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক নাসরিন আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। দলের ত্যাগী নেতা, এ নিয়ে কারও কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু বয়সের চেয়ে তাকে অনেক ওপরে নিয়ে আসা হয়েছে। যেটা ঠিক হয়নি।

নতুন কমিটি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না সাবেক কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আলী হায়দার বাবুল। তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে জড়িত। শহীদ জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দলকে ভালোবাসি। আমৃত্যু বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকব। বিএনপি রাজনীতির করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৩৭ বার জেলে গেছেন। বর্তমান সরকারের সময় ১২ বার জেলে গেছেন। পদের জন্য রাজনীতি করেন না জানিয়ে বলেন, এর আগেও ১০ বছর কোন পদ আমার ছিল না। আমি দলের কর্মী হয়েছিলাম। এবারও দলের কর্মী হয়েই রাজনীতি করব। 

মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, তাকে সদস্য সচিব করায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞ। তার প্রতি যে আস্থা রেখেছেন, তা জীবন দিয়ে হলেও রক্ষা করবেন। দলের মধ্যে কোনো বিভেদ রাখবেন না। সবাইকে নিয়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরদার করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। 

এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির এক নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা দিয়েছিলেন, যারা রাজনীতির মাঠে সক্রিয় থাকবেন, তাদেরই পদ দেওয়া হবে। সেই বিবেচনায় তাকে পদ দেওয়া হয়েছে। নাসরিন বলেন, সিনিয়র নেতারা মাঠে থাকলে তো তাদের বাদ দেওয়া হতো না বলে দাবি করেন তিনি। বয়সের বিষয়ে বলেন, আমি ৮৭ সালে এসএসসি পাস করেছি। আমার বয়স কম কোথায়?

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা