× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

‘হোটেল সান মেরিনা’ নিয়ে পোস্ট

জমির মালিক বললেন আবেদ টাউট প্রকৃতির লোক

পটুয়াখালী ও কলাপাড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২৪ ০১:২১ এএম

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৪ ১১:১৮ এএম

সৈয়দ আবেদ আলী। ফাইল ফটো

সৈয়দ আবেদ আলী। ফাইল ফটো

‘হোটেল সান মেরিনা’। পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় নির্মাণকাজ শুরু না হওয়া এ হোটেল নিয়ে সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছিলেন সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যানের সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী; যিনি ইতোমধ্যে বিসিএসসহ ৩০টি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। হোটেলের মালিকানা দাবি করে নিজের ফেসবুকে শেয়ার বিক্রির সেই পোস্ট আলোচনার সৃষ্টি করেছে। মূলত তার অবৈধ সম্পদের নানা তথ্য প্রকাশের পর ‘হোটেল সান মেরিনা’ নিয়ে পোস্ট এখন ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আবেদ আলীর বাড়ি মাদারীপুরের ডাসার উপজেলায়। তার বাবার নাম আবদুর রহমান মীর। ডাসার উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার জন্য তিনি ইতোমধ্যে এলাকায় পোস্টার-ব্যানার টানিয়েছেন।

গত ১৮ মে আবেদ আলী তার ফেসবুক পেজে এ হোটেল নিয়ে স্ট্যাটাস দেন। দুই দিন ধরে এ পোস্ট নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। ওই পোস্টে আবেদ লেখেন, ‘আমাদের নতুন হোটেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলাম আজ। সমুদ্রকন্যার পারে আজীবন নিজের জন্য একটা থাকার ব্যবস্থা ও একই সঙ্গে একটা হোটেলের মালিকানা অর্জন করতে আপনিও শেয়ার কিনতে পারেন। শেয়ার কিনতে যোগাযোগ করুন।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সান মেরিনা হোটেলের নির্মাণকাজ এখনও শুরু হয়নি। সামনের অংশে সাত-আটটি টিনশেড দিয়ে তৈরি রুম আছে। এ ছাড়া হোটেলের নির্ধারিত জায়গার সামনের অংশে ভবনের নকশার একটি সাইনবোর্ড ঝোলানো রয়েছে।

জানা গেছে, ২০১০ সালে এ হোটেলের মূল মালিক দাবিদার মো. মোশারফ হোসেন হোটেল নির্মাণের জন্য কুয়াকাটা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পাঞ্জুপাড়ায় ৪০ শতাংশ জমি কেনেন। তিনি লিবার্টি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এ গ্রুপ পিডিবি (পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড), পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি), রুরাল ইলেকট্রিফিকেশন বোর্ড (আরইবি), ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি), ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) ঠিকাদার হিসেবে সাবস্টেশন ও ট্রান্সমিশন লাইনের নিয়মিত কাজ করে থাকে।

সেখানে কর্মরত মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘আমি মোশারফ স্যারের অধীনে আট বছর চাকরি করছি। সৈয়দ আবেদ আলী নামে কাউকে আমি দেখিনি। তবে তিনি কয়েক মাস আগে এখানে এসে হোটেলের শেয়ার নেওয়ার জন্য আলোচনা করেছিলেন। তখন আমি তাকে মোশারফ স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলি। তখন একটা ছবি তুলতে দেখেছি আমাদের হোটেলের বিজ্ঞাপনের সঙ্গে।’

সান মেরিনা হোটেলের মালিক মোশারফ হোসেন বলেন, ‘দু-তিন মাস আগে সৈয়দ আবেদ আলী আমার হোটেলটির সামনে অন্য একটি হোটেলে এসে ওঠেন। পরদিন সকালবেলা আমার হোটেলের জায়গায় গিয়ে শেয়ার কিনবেন বলে জানান। তখন তিনি আমার লোকের কাছ থেকে শেয়ার কেনার বিস্তারিত জেনে যান। এ পর্যন্তই। আসলে আমি কখনও তাকে দেখিনি এবং চিনিও না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আবেদ আলীকে একজন টাউট প্রকৃতির লোক মনে হয়েছে। আমি এজন্য ঢাকার গুলশান থানায় আবেদ আলীর বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি।’

হোটেল সান মেরিনার সাইট ম্যানেজার ফারুক হোসেন বলেন, ‘আমি সাত-আট বছর ধরে এ মালিকের চাকরি করি। আমি কোনো দিন আবেদ আলী নামে কারও নামই শুনিনি। তবে বেশ কিছুদিন আগে তিনি আমাদের এখানে এসেছিলেন। কথা প্রসঙ্গে কীভাবে শেয়ার কিনতে হয় সেটা আমার কাছে জানতে চেয়েছিলেন। সে সময় আমি ঢাকায় হেড অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছিলাম।’

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘কুয়াকাটায় আবেদ আলীর কোনো জমি আছে বা সান মেরিনায় কোনো শেয়ার আছে কি না, সে বিষয়ে তদন্ত করতে হবে। যদি আবেদ আলীর মালিকানাধীন কিছু পাওয়া যায় তাহলে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।’

দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে রবিবার সন্ধ্যায় প্রচারিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) ও পিএসসির আওতাভুক্ত অন্যান্য নন-ক্যাডার পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে ১২ বছর ধরে। প্রশ্নফাঁসে সরাসরি জড়িত পিএসসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পিএসসির উপপরিচালক আবু জাফর, জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী পরিচালক এস এম আলমগীর কবির, নিখিল চন্দ্র রায়, পিএসসি চেয়ারম্যানের সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী এবং অফিস সহায়ক খলিলুর রহমান। সোমবার ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রশ্নফাঁসে জড়িত আলোচিত আবেদ আলীসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার ক্রাইম ইউনিট। তাদের মধ্যে ছয়জন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা