× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষকের স্বপ্নের ফসল

সিঙ্গাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৪ ১৮:৫৫ পিএম

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৪ ১৮:৫৬ পিএম

উপজেলার চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে কাচা মরিচ, ভূট্টা, চিনা বাদাম, তিল ও আউশ ধান নিয়ে বিপাকে কয়েক হাজার কৃষক। প্রবা ফটো

উপজেলার চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে কাচা মরিচ, ভূট্টা, চিনা বাদাম, তিল ও আউশ ধান নিয়ে বিপাকে কয়েক হাজার কৃষক। প্রবা ফটো

উজানের ঢল ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে দেখা দিয়েছে বন্যা। তলিয়ে গেছে উপজেলার কৃষকদের স্বপ্নের ফসল। এতে বিপাকে পরেছে হাজারো কৃষক। হঠাৎ করে ক্ষেতে পানি আসায় মরিচ, ভূট্টা, চিনা বাদাম, তিল, আউশ ধানসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতির সম্ভাবনায় দিশেহারা কৃষকেরা।

চলতি মৌসুমে উপজেলার অন্যতম প্রধান ফসল কাঁচা মরিচ। এ বছর উপজেলায় বিন্দু মরিচের আবাদ হয়েছে ১৭৫০ হেক্টর, কৃষিবিদ মরিচ ১১০৬ হেক্টর ও কারেন মরিচ ৬৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। এর আগে প্রচণ্ড খরা ও ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে দফায় দফায় ক্ষতির সম্মুখীন হয় মরিচ চাষিরা। মৌসুমের শেষ দিকে কিছুটা মরিচে লাভের আশা উঁকি দিতেই উজান থেকে নেমে আসা বন্যার পানি ও কয়েক দিনের টানা বর্ষণে মরিচ ক্ষেতে পানি প্রবেশ করে। যার ফলে  ঝড়ে পরছে মরিচের ফুল। ফলে কৃষকের লাভের আশা পরিণত হয়েছে লোকসানের আশঙ্কায়। উপজেলার চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ভূট্টা, চিনা বাদাম, তিল ও আউশ ধান নিয়েও বিপাকে কয়েক হাজার কৃষক।

আজিমনগর ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামের নাসির উদ্দীন জানান, হঠাৎ করেই চরের নিম্নাঞ্চলে পানি চলে আসায় বাদাম, ভূট্টা, তিল, আউশ ধান তলিয়ে যাচ্ছে। এতে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। সময় মতো ফসল তুলতে পারছি না।

মরিচের ফলন নষ্ট হওয়ায় কাঁচা মরিচের দামও আকাশচুম্বী। এতে করে সাধারণ ক্রেতাদের কাঁচামরিচ কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বর্তমান এ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ২২০ থেকে ২৩০ টাকা কেজি পাইকারি বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা দরে। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের জীবনযাপন হয়ে উঠেছে নাভিশ্বাস। 

গোপীনাথপুর ইউনিয়নের গোপীনাথপুর চরপাড়া গ্রামের সাহেব আলী বলেন, আমি ২ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছি। গাছ ভাল হলেও আশানুরূপ ফলন পায়নি। এর মধ্যেই ক্ষেতে পানি চলে আসে। এতে লাভ তো দূরের কথা চালানই উঠেনি।

উপজেলার ঝিটকা বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. বাবুল হোসেন জানান, ঝিটকা বাজার থেকে ১০০/১৫০ টন মরিচ রপ্তানি হতো। এ বছর ফলন ভাল হলেও খরার কারণে ফলন নেই বললেই চলে। এ মৌসুমে ৭ থেকে ৮ টনের বেশি মরিচ আসেনি। আর এখন তো বন্যার পানি এসেছে। আজকের বাজারে মরিচ বিক্রি হয়েছে সর্বনিম্ন ২২০ থেকে ২৩০ টাকা দরে।

খুচরা কাঁচামাল ব্যবসায়ী ওয়াসিম জানান, আজ আমরা মরিচ বিক্রি করছি ২৮০ টাকা করে। আমাদের যেভাবে কিনতে হয়, সেভাবেই বিক্রি করতে হয়। তবে পানি আসায় মরিচের আমদানি খুবই কম। বাইরে থেকে মরিচ আমদানি না হলে দাম আরও বাড়বে।

এ ব্যাপারে হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার রহমান জানান,  প্রতিবছরেই বন্যাসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতির মুখামুখি হয় এই এলাকার কৃষকেরা। কৃষকদের ক্ষতিপূরণ করার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সরকার।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা