বরগুনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রেমালের ক্ষত
রাসেল মাহমুদ, বরগুনা
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৪ ২০:১৪ পিএম
আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৪ ২০:৩৯ পিএম
বরগুনায় ঘূর্ণিঝড় রেমালে বিধ্বস্ত আমতলীর ড. শহীদুল ইসলাম কলেজ। প্রবা ফট
‘ঘূর্ণিঝড় রেমাল চলে গেছে। তবে দাগ কেটে রেখে গেছে আমাদের কলিজায়। ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। ঘূর্ণিঝড় রেমালের পরের কয়দিন সবাই খবর নেয় তারপর আর কোনো খবর কেউ নেয় না।’ বলছিল এমএউ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মারিয়া।
ঘূর্ণিঝড় রেমালের ক্ষত এখনও রয়ে গেছে বরগুনার ৩ শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনেক শ্রেণিকক্ষই অব্যবহারযোগ্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এর মধ্যে ১৪৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বাকি ১৬৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান। গত ২৬ ও ২৭ মে ঘূর্ণিঝড় রেমাল উপকূলীয় জেলা বরগুনায় ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। প্রবল বাতাসের সঙ্গে ভারী বর্ষণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
ড. শহীদুল ইসলাম কলেজের শিক্ষার্থী রাফি বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমালে কেড়ে নিয়েছে আমাদের ক্লাসরুমগুলো, আমাদের এখন ক্লাস করতে অনেক সমস্যা হচ্ছে। ঠিকমতো ক্লাস হচ্ছে না। আমতলী এমএউ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী রিমা বলেন, টিন কাঠ দিয়ে আমাদের শ্রেণিকক্ষগুলো তৈরি করা হয়। বড় কোনো ঘূর্ণিঝড় এলে আমাদের ক্লাসরুমগুলো ভেঙে পড়ে যায়। তখন ক্লাস করতে সমস্যা হয়, তাই আমরা চাই পাকা ভবন।
ঘূর্ণিঝড় রেমালে আমতলীর ড. শহীদুল ইসলাম কলেজ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়। কলেজের সবগুলো শ্রেণিকক্ষই ভেঙে পড়েছে। কলেজের তিনটি ভবনই বন্যায় ভেঙে গেছে। নতুনভাবে ভবন না তুলে পাঠদান করানো যাবে না। এ কলেজের ভবন নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
বরগুনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল মুকিত মোল্লা বলেন, জেলায় ১৪৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বরগুনা সদর উপজেলায় ২২৮ স্কুলের মধ্যে ৫৬টি, আমতলীতে ১৫২টির মধ্যে ১০টি, পাথরঘাটায় ১৪৯টির মধ্যে ১৮টি, তালতলীতে ৭৯টির মধ্যে ২৫টি, বেতাগীতে ১২৯টির মধ্যে ২৫টি ও বামনায় ৬২টির মধ্যে ১০টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা করে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
জেলায় মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাদ্রাসাসহ ১৬৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে পাথরঘাটায় সর্বাধিক ৫১টি, বরগুনা সদরে ৩৭টি, তালতলীতে ২৬টি, বামনায় ২২টি, বেতাগীতে ২০টি ও আমতলীতে নয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জেলা শিক্ষা অফিসার মুহাম্মাদ জসিম উদ্দিন রহমান বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান সংস্কারের জন্য প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা প্রয়োজন। এসব ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঘূর্ণিঝড়ের পরে লেখাপড়া বিঘ্নিত হচ্ছে। দ্রুততম সময়ে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।