বামনা (বরগুনা) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৪ ২০:০৬ পিএম
বামনার রামনা স্কুলের সামনে থেকে উদ্ধার হওয়া প্রাইভেটকার। প্রবা ফটো
বরগুনার বামনা উপজেলার রামনা ইউনিয়নের শের-ই-বাংলা সমবায় বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে গত শনিবার পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি প্রাইভেটকার উদ্ধার করে বামনা থানা পুলিশ। এর আগের দিন ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় একটি অজ্ঞাতনামা লাশ পাওয়া যায়। বামনা পুলিশের তদন্তে জানা যায়, ঝালকাঠিতে পাওয়া লাশটি বরগুনায় উদ্ধার হওয়া প্রাইভেটকারের চালকের। চালককে হত্যার পর লাশ একস্থানে ফেলে গাড়িটি বামনায় রেখে পালিয়ে যায় হত্যাকারীরা। এদিকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে সন্দেহভাজন খুনিদের ছবি উদ্ধার করতে পারলেও তাদের পরিচয় নিশ্চিত হতে পারেনি বামনা থানা পুলিশ।
নিহত চালকের নাম জহুর উদ্দিন (৩০)। তিনি নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার গৌরীপুর গ্রামের আক্কাস আলীর ছেলে।
গত শনিবার বিকালে বামনা থানা পুলিশ খবর পেয়ে গাড়িটি উদ্ধার করে। তদন্ত করে পুলিশ জানতে পারে এর আগের দিন ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার অজ্ঞাত পরিচয়ে পাওয়া মরদেহটি ওই প্রাইভেটকার চালকের। রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মইনুল হায়দার নিপুর বাড়ির সামনে একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় রাজাপুর থানায় অপমৃত্যু মামলা পর ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহটি অজ্ঞাত পরিচয়ে দাফন করে পুলিশ।
গতকাল রবিবার নিহত জহুরের পরিবার খবর পেয়ে রাজাপুর থানায় এসে মরদেহের ছবি দেখে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী কল্পনা আক্তার অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে রাজাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। তবে কী কারণে জহুরকে হত্যা করা হয়েছে, সেটা জানতে পারেনি পুলিশ ও নিহতের পরিবার।
বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তুষার কুমার মন্ডল জানান, রামনা ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জানান, স্কুলের সামনের সড়কে একটি গাড়ি গত শুক্রবার রাত থেকে পড়ে রয়েছে। খবর পেয়ে শনিবার বিকালে গাড়িটি উদ্ধার করে তদন্ত চালায় পুলিশ। এ সময় গাড়ি থেকে একটি অস্পষ্ট মোবাইল ফোন নম্বর উদ্ধার করা হয়। ওই নম্বর থেকে পুলিশ জানতে পারে গাড়িটির চালকের নাম ও ঠিকানা। এরপর বিভিন্ন থানায় বিষয়টি জানালে রাজাপুর থানায় অজ্ঞাত পরিচয়ে লাশ উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পারে। পরবর্তীতে বামনা থানা পুলিশ নিশ্চিত হয় রাজাপুরে উদ্ধার হওয়া ওই অজ্ঞাত ব্যক্তিকে হত্যা করে প্রাইভেটকারটি বামনা উপজেলায় রেখে হত্যাকারীরা পালিয়ে যায়।
ওসি তুষার কুমার মন্ডল বলেন, শনিবার রাতে উপজেলার ডৌয়াতলা বাজারের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে দুই সন্দেহভাজন যুবকের ছবি উদ্ধার করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত তাদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। তারা ঘটনার দিন রাত ১টা ৩০ মিনিটে বামনা থেকে একটি ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলে পাথরঘাটা উপজেলার লেমুয়ায় যেতে চাইলে চালক রাত গভীর হওয়ায় তাদের কাকচিড়া বাজারে নামিয়ে দেয়। আমরা প্রাইভেটকারের প্রকৃত মালিককে শনাক্ত করে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তার নাম রবিউল ইসলাম। তিনি ঢাকার হাজারীবাগ এলাকার বাসিন্দা।
নিহত জহুর উদ্দিনের শ্বশুর নুরুল ইসলাম বলেন, বামনা থানায় যে দুজন সন্দেহভাজন যুবকের ছবি পাওয়া গেছে, তার একজনকে আমি চিনি। কিন্তু তার নাম জানি না। ওই ছেলেও গাড়িচালক। আমার মেয়ের জামাইয়ের সঙ্গে কিছুদিন আগে যুবকের ঝগড়া ও মারামারি হয়েছিল বলে জানি।
প্রাইভেটকারের প্রকৃত মালিক ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কর্মচারী রবিউল ইসলাম বলেন, গাড়ির সন্ধান পেয়ে রাজাপুর থানায় এসেছি। তবে গত শনিবার রাতে বামনা থানা পুলিশ আমার গাড়ির সন্ধান দেয়। আমার গাড়িটি জহুর ভাড়ায় চালাত। প্রতি রবিবার সে আমার কাছে ভাড়ার টাকা জমা দিত। অন্যান্য দিনে সে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করত।
নিহতের ছোট ভাই নজরুল ইসলাম বলেন, আমার বড় ভাই গত বুধবার থেকে বাসায় ফেরেননি। শুক্রবার থেকে তার ফোন বন্ধ ছিল। শনিবার খবর পাই ঝালকাঠির রাজাপুর এলাকায় একটি ডোবায় তার মরদেহ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান বলেন, অজ্ঞাত পরিচয়ের মরদেহটি পেয়ে প্রাথমিকভাবে জানতে পারি এটি একটি হত্যাকাণ্ড। পরে মরদেহটির ময়নাতদন্ত শেষে গত শনিবার পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি শনাক্ত না করায় তাকে পুলিশের উদ্যোগে দাফন করা হয়েছে। রবিবার সকালে নিহতের পরিবারের লোকজন রাজাপুর থানায় এসেছে। তারা মরদেহের ছবি দেখে শনাক্ত করেছেন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রাজাপুর থানায় হত্যা মামলা করেছেন।