রংপুর অফিস
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৪ ১৮:৪৯ পিএম
আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৪ ১৯:২২ পিএম
সরকারের ওপর আস্থাহীনতার কারণেই শিক্ষার্থীদের কোটা ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের পেনশন (প্রত্যয় স্কিম) আন্দোলন হচ্ছে বলে মনে করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। তিনি বলেন, ‘এ আন্দোলন যৌক্তিক ও সমর্থনযোগ্য। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে আস্থাহীনতা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ সরকারের প্রতি আস্থা পাচ্ছে না। সরকার তাদের অনুগতদের চাকরিতে নিয়ে আসছে মুক্তিযোদ্ধা কোটাকে ব্যবহার করে। আর এ জন্য ছাত্ররা আন্দোলন করছে।’
সোমবার (৮ জুলাই) বেলা ৩টায় রংপুরে দুই দিনের সফরে এসে সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
সর্বজনীন পেনশনের প্রত্যয় স্কিমের প্রজ্ঞাপন বাতিলসহ তিন দফা বাতিলের দাবিতে ১ জুলাই থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করছেন দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এ আন্দোলন নিয়ে জিএম কাদের বলেন, ‘নতুন পেনশন স্কিমের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তারা সরকারের ঘনিষ্ঠজন। সরকারের সঙ্গে তারা সব সময় থাকে এবং সরকারের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে। সরকার বলছে নতুন পেনশন স্কিমে আরও বেশি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে। কিন্তু এরপরেও শিক্ষকরা আস্থাহীনতার জায়গা থেকে আন্দোলন করছে। তাদের মনে শঙ্কা রয়েছে- সত্যিকার অর্থে সরকার পেনশনের টাকা দেবে কি না কিংবা দিতে পারবে কি না।’
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘তিস্তা নদীতে আমরা পানি পাচ্ছি না। সেই নদীতে মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে জলাধার নির্মাণ করে পানি ধরে রাখার চেষ্টা করা হবে। তিস্তা প্রকল্প বিষয়টি সরকার জটিল করে তুলেছে। আমরা বিভিন্নভাবে বাহিরের শক্তির কাছে পরনির্ভর হয়েছি।
‘সরকার জনগণের স্বার্থ চিন্তা না করে নিজেদের ক্ষমতায় থাকার চিন্তা করেছে’ এমন মন্তব্য করে তিনি প্রশ্ন রাখেন- ‘যদি পদ্মা সেতু ঋণ নিয়ে তৈরি করা হয়, তবে কেন তিস্তা মহাপরিকল্পনা ঋণ নিয়ে করা হবে না? এটি হলে গোটা দেশের মানুষ উপকৃত হবে।’
বাজেট নিয়ে জিএম কাদের বলেন, ‘আমাদের বাজেট ঋণ নির্ভর। এর মধ্যে বাজেটের বড় একটি অংশ ঋণ পরিশোধ করতে ব্যয় হবে। উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন করতে হলে সরকারকে ঋণ নিতে হবে। তাই আমরা বলতে পারি ঋণ নিয়ে ঘি খাওয়ার মতো অবস্থা দেশে বিরাজ করছে। ফলে এ ঋণের বোঝা জনগণের ওপর পড়বে।’
‘ইতোমধ্যেই আমাদের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধস নেমেছে। সরকার করোনা, ইউক্রেন যুদ্ধের অজুহাত দেখাচ্ছে। অথচ ভারতের মুদ্রাস্ফীতি অর্ধেকে নেমেছে, নেপালে মুদ্রাস্ফীতি কমেছে। দেউলিয়া দেশ শ্রীলঙ্কা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সব দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আর আমরা পিছিয়ে পড়ছি। সরকার দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করছে। বড় বড় মেগাপ্রকল্পের নাম ব্যাপক অঙ্কের টাকা নষ্ট হয়েছে।’
এ সময় জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, মহানগর জাতীয় পার্টির সহসভাপতি লোকমান হোসেন, জাহেদুল ইসলাম, যুবসংহতি নেতা ইউসুফ আহমেদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।