প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৪ ২২:৫৪ পিএম
সিলেট মহানগরীতে ‘নকল পণ্য প্রতিরোধ ও বর্জনে করণীয়’ শীর্ষক সেমিনার মঞ্চে অতিথিরা। সংগৃহীত ফটো
প্রসাধনী সামগ্রী, ওষুধ ও তামাকজাতসহ নকল পণ্যের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে জনসাধারণকে সচেতন করতে হবে। নকল প্রতিরোধে এর উৎসে যেতে হবে। উৎসে গিয়ে বন্ধ করলে এ ধরণের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব।
রবিবার (৭ জুলাই) সিলেট মহানগরীতে ‘নকল পণ্য প্রতিরোধ ও বর্জনে করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এই সেমিনারের আয়োজন করে।
সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাহমিন আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেট বিভাগীয় কমিশনার আবু আহমদ ছিদ্দীকী। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় উপ-পরিচালক মো.ফখরুল ইসলাম, বিএটিবির হেড অব করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স সাবাব আহমদ চৌধুরী প্রমুখ।
সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার আবু আহমদ ছিদ্দীকী বলেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে নকল পণ্য উৎপাদন ও বিক্রি যেমন অপরাধ, তেমনি নকল পণ্য কেনা ও তা ব্যবহার করাও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। কিন্তু বাংলাদেশে তা ব্যতিক্রম। ফলে কম মূল্যে বিভিন্ন নামি-দামি ব্র্যান্ডের নকল পণ্যে বাজার সয়লাব হয়ে আছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সমাজের দায়িত্ববান ব্যক্তিদের অবস্থান থেকে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই নকল পণ্য উৎপাদিত হয়, কিন্তু তা সাধারণত নামি-দামি ব্র্যান্ডের পোষাক, ঘড়ি ও বিভিন্ন বিলাসী পণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু বাংলাদেশে খাদ্যদ্রব্য ও নকল হচ্ছে। যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় উপপরিচালক মো.ফখরুল ইসলাম বলেন, লোভনীয় ছাড়ে বেশিরভাগ ভেজাল থাকে। এ বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত। তা ছাড়া আরেকটা বিষয় হচ্ছে আমাদের দেশের ব্র্যান্ডের পণ্য কেউ মানুষ আগ্রহী কম। বিদেশি পণ্য কিনতে গিয়ে বেশিরভাগ নকল পণ্য কিনে প্রতারিত হতে হয়। কম মূল্যের পণ্যের পেছনে দৌঁড়ানো বন্ধ করতে হবে।
বিএটির হেড অব করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স সাবাব আহমেদ চৌধুরী বলেন, নকল পণ্য মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়েছে। শুধু বাজারের দোকানে অভিযান পরিচালনা করলে হবে না। সোর্স বা উৎসে যেতে হবে। তাহলেই নকলের তীব্রতা কমিয়ে আনা সম্ভব।
সেমিনারের বিষয়বস্তুর ওপর সচিত্র প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সিলেট জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম মাসুদ।
আরও বক্তব্য দেন, সিলেট চেম্বারের সহ-সভাপতি এহতেশামুল হক চৌধুরী, সিলেট কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাটের যুগ্ম কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. ফজলে এলাহী মো. ফয়সাল প্রমুখ।