আমতলীতে সেতু ধস
শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৪ ১৭:৫০ পিএম
আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২৪ ১৮:১৬ পিএম
আমতলীতে সেতু ভেঙ্গে ৯ জন নিহতের ঘটনায় সেতু কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের বিচার এবং ঘটনার সময় ‘লুট করা’ স্বর্ণালংকার ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। প্রবা ফটো
বরগুনার আমতলীতে সেতু ভেঙ্গে ৯ জন নিহতের ঘটনায় সেতু কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের বিচার এবং ঘটনার সময় ‘লুট করা’ স্বর্ণালংকার ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিরার (৭ জুলাই) শিবচর প্রেসক্লাবের সামনে শিবচরবাসীর পক্ষে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করা হয়।
এসময় ওই দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া সর্বকনিষ্ট সদস্য সাফরিনসহ (৬ মাস) নিহতদের পরিবারের অপর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বিক্ষেভকারীরা ওই দুর্ঘটনার জন্য আমতলীর সেতুর নির্মাণকারী ঠিকাদার, স্থানীয় প্রশাসন ও তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্যকে দায়ী করেন। এছাড়া ওই সময় নারী সদস্যদের সঙ্গে থাকা ‘লুট করা’ স্বর্ণালংকার ফেরত দেওয়ার দাবি জানান।
এ ব্যাপারে শিবচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল্লাহ-আল-মামুন ও শিবচর উপজেলা চেয়ারম্যান ডা. মো সেলিম মিয়াসহ উপজেলা প্রশাসনের কাছে স্মারক লিপিও দেন তারা।
মানববন্ধনে স্বজন হারানো অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মাহাবুব হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘বরগুনার আমতলীর হলদিয়া হাট সেতুটি মাত্র ১৩ বছর আগে ২ কোটি টাকারও বেশি খরচ করে নির্মাণ করে এলজিইডি। এত অল্প সময়ের মধ্যে সেতুটি কিভাবে পরিত্যাক্ত হলো? আর পরিত্যাক্তই যদি হয় তাহলে প্রশাসন কেন যানচলাচলে বাঁধা দেয়নি? ওইদিন আমরা ওই এলাকার মেহমান। ওই সেতুর যে নাজুক অবস্থা ছিল তা কেউ জানায়নি। এমনকি ওই সেতুতে যান চলাচলের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে- এমন কোন সতর্ক নোটিশও ঝোলানো ছিল না।’
তিনি বলেন, ‘সেতু নির্মাণের সঙ্গে যারা সংশ্লিষ্ট ছিল তারা আমার পরিবারের ৭ জনসহ ৯ জনকে হত্যা করেছে। তাদের অবহেলার কারণে আমার পরিবার আজ নিঃস্ব ও সর্বশান্ত। দুর্ঘটনায় অনেকেই ভাল মন নিয়ে আমাদের সাহায্য করেছে। কিন্তু অনেকেই আবার পরিবারের নারী সদস্যদের সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে। বিয়ে বাড়িতে যাচ্ছিলাম বলে আমার মা বোন ও আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে স্বর্ণালংকার ছিল। তাদের সঙ্গে প্রায় ৬৫ ভরি স্বর্ণালংকার ছিল।’
স্ত্রী ও মা হারা সোহেল খান বলেন, ‘আমার ৬ মাসের শিশুকে নিয়ে আমি বেঁচে ফিরতে পারলেও আমাদের পরিবারের ৭ জনসহ ৯ জন নিহত হয়। আমার স্ত্রীর প্রায় ৩১-৩২ ভরি স্বর্ণালংকার ছিল। যেহেতু বিয়ের অনুষ্ঠান তাই নারীদের সবার গায়েই স্বর্ণালংকার ছিল। আমরা আর তা পাইনি। এমনকি ওইসময় আমতলী থানায় স্বর্ণালংকার লুটের একটি অভিযোগ দেওয়া ছিল। কিন্ত আজ পর্যন্ত কোন কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ।’
স্ত্রী ও ২ মেয়ে হারানো বাবা ব্যাংকার আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এটি দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকাণ্ড। আমার পরিবার বলতে এখন আর কিছু নেই। এর দায় সাবেক সংসদ সদস্য, ঠিকাদার ও এইজিইডি ও প্রশাসনের।’
গত ২২ জুন বরগুনার আমতলীতে বিয়ে বাড়িতে যাওয়ার সময় হলদিয়া ঘাট সেতু ভেঙে মাইক্রোবাস পানিতে পড়ে যায়। এতে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ভদ্রাসন ইউনিয়নের সাহাপাড়া এলাকার একই পরিবারের ৭ জন ও নিকট আত্মীয় ২ জনসহ ৯ জন নিহত হয়।