মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৪ ২২:৩৩ পিএম
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় টেন্ডার ছাড়াই গাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে একটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার বিকালে উপজেলার মিয়ারহাট আদর্শ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় মাঠে গাছভর্তি একটি ভ্যান আটকে দেয় স্থানীয়রা। এ ছাড়াও স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, কোনো প্রকার টেন্ডার ছাড়াই গোপনে গাছ কেটে নেওয়ার সংবাদ পেয়ে আটক করা হয়। আটক করার পর গাছ ক্রেতার মাধ্যমে জানতে পারেন এই গাছ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাদল মিয়া ও সহকারী শিক্ষক কামরুল হাসান বিক্রি করেছেন। গোপনে বিক্রি করে নিজেদের পকেট ভর্তি করেছেন তারা। আমরা প্রধান শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
সোহানুর রহমান নামে একজন বলেন, আমি এই স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী। দীর্ঘদিন থেকেই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিদ্যালয়টি নিজের খেয়ালখুশিমতো পরিচালনা করছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাদল মিয়া। স্কুলটির প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদিনকে সুকৌশলে সাসপেন্ড করে নিজেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হয়ে কর্মচারী নিয়োগের মাধ্যমে ২২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ২০১৬ সাল থেকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে একটানা এডহক কমিটির মাধ্যমে বিদ্যালয়টি পরিচালনা করে আসছে। টেন্ডার ছাড়াই নিজের খেয়ালখুশিমতো স্কুলের গাছ বিক্রিই প্রমাণ করে তিনি (প্রধান শিক্ষক) কোনো নিয়মের পরোয়া করেন না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাদল মিয়া বলেন, বৃষ্টিতে গাছটি পড়ে গিয়েছিল। শিক্ষক অফিস রুমের ফ্যানটি নষ্ট হয়েছিল।গাছ বিক্রির টাকা দিয়ে ফ্যান ক্রয় করেছি। আমি এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি। স্কুল কমিটির সভাপতির সঙ্গে পরামর্শক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ ছাড়া অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
স্কুল কমিটির সভাপতি শাহজাদা সরকার সোহাগ বলেন, আপনাদের কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে আমি রাজি নই। আমি বর্তমানে ঢাকায় আছি। ফিরলে বিস্তারিত কথা হবে। তা ছাড়া স্কুলের উন্নয়নের জন্যই গাছ বিক্রির অনুমতি দিয়েছি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মমিন মন্ডল বলেন, বিষয়টি জানার পর প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দিয়েছি যেখানের গাছ সেখানেই রাখতে। টেন্ডার ছাড়া স্কুল মাঠের গাছ বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি সম্প্রতি এখানে যোগদান করেছি। এডহক কমিটি ও নিয়োগের অনিয়মের বিষয়ে অবগত নই।
সার্বিক বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিকাশ চন্দ্র বর্মণের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।