বামনা (বরগুনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৪ ১৭:৩০ পিএম
আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২৪ ১৭:৫৮ পিএম
সাত মাসের বাছুর থেকে দুধ সংগ্রহ করছে বাছুরটির পরিচর্যাকারী। প্রবা ফটো
বরগুনার বামনা উপজেলার ঘোপখালী গ্রামে মায়ের দুধ পান করা একটি বকনা বাছুরের দুধ দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি অলৌকিক এবং এই দুধ খেলে সব সমস্যার সমাধান মিলবে- এমন ধারণা থেকে দুধ নিতে ভিড় করছেন দূর-দূরান্তের লোকজন।
দুধ দেওয়া বকনা বাছুরটির মালিক ওই গ্রামের চিশতীয়া নিজামিয়া রাশিদিয়া দরবার শরিফের গদিনিশিন পীর মো. মজিবুল হক মন্টু। তিনি জানান, গত বছর ডিসেম্বর মাসে তার পালিত অস্ট্রেলিয়ান ফ্রিজিয়ান জাতের একটি গাভি একটি বকনা বাছুর জন্ম দেয়। গত মাসে গর্ভধারণ ছাড়াই ওই বাছুরটির স্তন হঠাৎ ফুলে যায়। এরপর থেকে নিয়মিত সেই বাছুরটির স্তন থেকে দুধ সংগ্রহ করেন তিনি। প্রথম মাসে অল্প পরিমাণে দুধ হলেও বর্তমানে বাছুরটি প্রতিদিন ২ লিটার করে দুধ দিচ্ছে বলে জানান তিনি।
বাছুরটির পরিচর্যাকারী মো. জাকির হোসেন জানান, বাছুরটির বয়স মাত্র ৭ মাস। এখনও সে তার মায়ের দুধ পান করে আবার নিজেও দুধ দেয়। একদিন বাছুটির দুধ সংগ্রহ না করলেই দুধের বাট থেকে রক্ত বের হয়। গর্ভধারণ ছাড়া বাছুরের দুধ দেওয়া এটা সত্যি বিরল ঘটনা।
মজিবুল হক মন্টুর ছেলে সেনাবাহিনী সদস্য মো. রিয়াজুল হক রাজু জানান, তার বাবা একটি দরবার শরিফের গদিনিশি। বাছুরটির দুধ হওয়ার পরে তার বাবা স্বপ্নে একটি কুরআনের আয়াত জানতে পারেন এবং ওই বাছুরের দুধ মানুষের মাঝে বিতরণ করার আদেশপ্রাপ্ত হন। এর পর থেকে প্রতি বৃহস্পতিবার ওই বাছুরটির দুধ দিয়ে মিষ্টান্ন তৈরি করে শতাধিক লোকের মানুষের মাঝে বিতরণ করেন।
ঘোপখালী গ্রামের বাসিন্দা মিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন অনেক দূর থেকে মানুষ আসে দুধ নিতে। তারা উপকার পেয়ে অন্যকে বলার পরে তারাও এই বাছুরের দুধ নিতে ছুটে আসছে। আমি নিজেও এই দুধ খেয়েছি। খেতে খুবই মিষ্টি।’
স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী মনোতোষ হাওলাদার বলেন, ‘আমি খবর পাই ঘোপখালী গ্রামে রিয়াজুল হক রাজুদের খামারে একটি বাছুর দুধ দেয়। বিষয়টি আমার কাছে অলৌকিক মনে হয়েছে। আমি দেখতে গেলে দেখি বাছুরটি থেকে সত্যিই দুধ দোহন করা হচ্ছে। এটি আসলেই বিরল ঘটনা, যা আমি আমার বয়সে দেখিনি। আমিও সেই দুধ খেয়েছি।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, ‘কয়েক দিন আগেও দেখেছি বাছুরটি অনেক ছোট। হঠাৎ দেখতে পাই সেই বাছুরটি দুধ দিচ্ছে। তবে এটি এখনও গর্ভধারণ করেনি। স্থানীয় একজন এই দুধ খেয়ে উপকার পাওয়ার পর এখন দলে দলে লোকজন এই দুধ নিতে ভিড় জমাচ্ছে। এটি আল্লাহর রহমত ছাড়া সম্ভব নয়।’
এ ব্যাপারে বামনা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অরবিন্দু কুমার বলেন, ‘ঘোপখালী গ্রামে ৭ মাসের বাছুর দুধ দিচ্ছে বিষয়টি আমার জানা নেই। আর এটি কোনো অলৌকিক ঘটনাও নয় এটি মূলত অক্সিটজি হরমোনাল ইমব্যালেন্সের কারণে হচ্ছে। এ ঘটনা ইতঃপূর্বেও আমরা বেশ কয়েকটি জায়গায় দেখেছি।’