× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বরগুনার বেতাগী

ইটভাটার জন্য এক যুগের ভোগান্তি

সাইদুল ইসলাম মন্টু, বেতাগী (বরগুনা)

প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৪ ১৫:৩৮ পিএম

হলুদ পলিথিনে কালভার্টের মুখ আটকে চলছে ইটভাটা। সড়কের দুই পাশে ভাটার স্থাপনা। এতে ব্যাহত হচ্ছে জমির চাষাবাদ। বেতাগী উপজেলার বদনীখালী এলাকা থেকে তোলা। প্রিবা ফটো

হলুদ পলিথিনে কালভার্টের মুখ আটকে চলছে ইটভাটা। সড়কের দুই পাশে ভাটার স্থাপনা। এতে ব্যাহত হচ্ছে জমির চাষাবাদ। বেতাগী উপজেলার বদনীখালী এলাকা থেকে তোলা। প্রিবা ফটো

বরগুনার বেতাগীতে খালের কালভার্টের মুখ আটকে ইটভাটায় ইট পোড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে বছরের পর বছর ধরে ব্যাহত হচ্ছে কৃষকের চাষাবাদ, পরিবেশ ও জলধারার ধ্বংস হচ্ছে। ফলে চরম সংকটে সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দাসহ প্রাণ-প্রকৃতি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বুড়ামজুমদার ইউনিয়নের বদনীখালী গ্রামের বেড়েরদোন খালে চাষাবাদের সুবিধার্থে সরকারি অর্থায়নে একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। খালের এ কালভার্টের দুই পাশে বাঁধ দিয়ে ‘বিইপি’ নামে ইটভাটা নির্মাণ করায় এলাকার ৭০০ একর জমিতে চাষাবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পানিতে ডুবে যায়। কালভার্টের মুখ বন্ধ থাকায় জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগের শিকার হলেও ভাটার মালিকদের টনক নড়তে দেখা যায়নি। তা ছাড়া সড়ক ও ফসলি জমির পাশে ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ধান, ফলদগাছ, বাঁশঝাড় ও সুপারিগাছ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি বছরের পর বছর ধরে কালভার্টের মুখ আটকে থাকায় পানি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জলধারাটি বন্ধ ও ভরাট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। 

পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ২০১০ এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩-এ বলা হয়েছে, বসতি এলাকা, পাহাড়, বন ও জলাভূমির এক কিলোমিটারের মধ্যে কোনো ইটভাটা করা যাবে না। কৃষিজমিতেও ইটভাটা অবৈধ। এ ছাড়া হাইব্রিড হফম্যান, জিগজ্যাগ, ভার্টিক্যাল শ্যাফট ক্লিন অথবা পরীক্ষিত নতুন প্রযুক্তির পরিবেশবান্ধব ইটভাটা স্থাপন করার বিধান রয়েছে। কিন্তু এ ইটভাটাটি এর কোনো কিছু মেনেই করা হয়নি। ভাটাটি ১২০ ফুট স্থায়ী চিমনি স্থাপন করে ইট পোড়াচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বদনীখালী গ্রামের বেড়েরদোন খালের কালভার্টটির দুই পাশে ইট দিয়ে বাঁধ দিয়ে নামে কাউনিয়া-বদনীখালী সড়কের দুই পাশ ঘেঁষে বিইপি নামে ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে। ছয় একর জমির ওপর ২০১২ সালে স্থায়ী চিমনির এই ভাটাটি স্থাপন করা হয়। পাশেই রয়েছে নদী, বসতি ও কয়েকশ একর ফসলি জমি। বর্তমানে কালভার্টের মুখ আটকে চলছে ভাটা। খালের শাখাটি দিনে দিনে মরে গিয়ে বর্তমানে প্রায় অস্তিত্ব হারানোর পথে। কালভার্টটি দিয়ে যেটুকু পানি ওঠানামা করত, তাও ত্রিপল (জলরোধকারী স্থূল বস্ত্রবিশেষ) মুখ আটকে পানি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ব্যবসায়ী জলিলুর রহমান, খলিলুর রহমান, জাহাঙ্গীর হোসেন ও তার মামা আওলাদ হোসেন যৌথভাবে ওই ভাটার মালিক বলে জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, কালভার্ট দিয়ে পানি নিষ্কাশন হতো। বাঁধ দেওয়ার ফলে খালের পানি ওঠানামার পথটি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে এলাকার সেচ দিতে পারছেন না। তা ছাড়া বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় পুরো এলাকা জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে ও ধানের চারায় পচন ধরে। আর খরা মৌসুমে পানির অভাবে রবি ফসলে সেচ দিতে পারছেন না। বছরের পর বছর ধরে এমন অবস্থা থাকায় কৃষকরা চরম সমস্যায় পড়েছেন। 

বদনীখালী গ্রামের কৃষক মো. সেন্টু মৃধা অভিযোগ করে বলেন, ‘এই ইটভাটা নির্মাণের সময় ভাটামালিক খলিলুর রহমান কালভার্টের বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে নদী থেকে ফসলের মাঠ পর্যন্ত একটি পাকা নালা (ড্রেন) নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ এক যুগেও তা নির্মাণ করে দেননি।’

একই এলাকার কৃষক মজিবর রহমান ও মোশারেফ হোসেন জানান, ইটভাটার কারণে তারা বছরের বছর ধরে চরম দুর্ভোগের শিকার হয়ে এলেও দেখার কেউ নেই। তাদের চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। তা সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানজিলা আহমেদ বলেন, কৃষি ও কৃষকের ক্ষতি হয় এমন কিছু করা উচিত নয়। ইটভাটা থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়ার প্রভাবে ওই এলাকায় ধান, আম, কাঁঠাল, লিচু, নারিকেল ও সুপারিগাছের পাতা বাদামি হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। 

ইটভাটার দেখভালের দায়িত্বে থাকা মো. মাহাতাব হোসেন জানান, বর্ষা মৌসুমে কালভার্টটির বাঁধ অপসারণ করা হয়। গ্রীষ্ম মৌসুমে কারও পানির প্রয়োজন হয় না বলে তারা বাঁধ দিয়ে কাজ করেন। 

ভাটার পরিচালক মো. আওলাদ হোসেন বলেন, ‘আমি বাইরে আছি। এসব বিষয়ে জলিলুর রহমানের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি ভালো বলতে পারবেন।’ অপর পরিচালক জলিলুর রহমান বলেন, ‘ভাটাসংলগ্ন কালভার্ট নিয়ে কৃষকের কোনো ধরনের সমস্যা নেই। যারা এ অভিযোগ করেন সম্পূর্ণ মিথ্যা। কৃষকরাই প্রয়োজনমতো পানি ওঠানামা করেন। প্রবেশমুখের ত্রিপল কৃষকরাই দেন।’ 

বুড়ামজুমদার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সৈয়দ গোলাম রব শুক্কুর বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরাও জানি। ইটভাটার কারণে সেখানকার পরিবেশ, জলধারার ধ্বংস, কৃষকের চাষাবাদ ব্যাহত ও গাছপালার ক্ষতি হচ্ছে। এর প্রতিকারে প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। ওই ইটভাটার একাধিক মালিক। তাদের সঙ্গে কেউ পেরে উঠতে পারে না।’

পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশালের পরিচালক (উপসচিব) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘এটা শুধু পরিবেশ কেন, কৃষকের ক্ষতি, আমাদের সকলের ক্ষতি ও আইনগত অপরাধ। দ্রুত সেখানে লোক পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে স্থানীয় প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারলে কৃষকরা বেশি উপকৃত হবেন।’

উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত ইউএনও বিপূল সিকদার বলেন, ‘ওই এলাকার কেউ কোনো অভিযোগ জানায়নি। যদি এমন হয়, তা দেখে যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা