কুমিল্লা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৪ ২০:৫৯ পিএম
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার সালমানপুরে শুক্রবার ককবরক মাতৃভাষা স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ করা হয়। প্রবা ফটো
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার সালমানপুর। লালমাই পাহাড়বেষ্টিত সালমানপুরে ত্রিপুরাদের মাতৃভাষা ককবরক শেখার জন্য স্থাপিত হয়েছে বিদ্যালয়। ২০২২ সালে এক কক্ষবিশিষ্ট ককবরক মাতৃভাষা স্কুলটি স্থাপন করেন সদর দক্ষিণ উপজেলার তৎকালীন নির্বাহী কর্মকর্তা শুভাশিস ঘোষ।
শুক্রবার (৫ জুলাই) বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেছেন বরুড়ার জোড়পুকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পাপিয়া আচার্য ও তার পরিবার। শিক্ষা উপকরণ ছাড়াও বিদ্যালয়ের জন্য একটি সিলিং ফ্যান দেওয়া হয়। শিক্ষা উপকরণ পেয়ে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা।
পাপিয়া আচার্য জানান, লালমাই পাহাড়ের পাদদেশের পাঁচটি গ্রামে শতাধিক ত্রিপুরা পরিবার বাস করে। এ তথ্য আমাদের কাছে অজানা ছিল। সম্প্রতি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হই। আরও অবাক হই মাতৃভাষা শেখার জন্য তাদের একটি স্কুল আছে জেনে। আমরা তাদের পাশে থাকতে চাই।
বিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক সজিব ত্রিপুরা বলেন, ‘আমাদের ছেলেমেয়েরা ককবরক ভাষায় কথা বলতে পারত, কিন্তু লিখতে পারত না। কুমিল্লার সাবেক জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান ও সদর দক্ষিণ উপজেলার সাবেক ইউএনও শুভাশিস ঘোষ স্কুলটি উদ্বোধন করায় বর্তমান প্রজন্ম নতুন করে হারিয়ে যাওয়া ভাষা শিখতে পারছে। আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। যারা শিক্ষা উপকরণ নিয়ে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞ। তাদের এমন কর্মকাণ্ড আমাদের আরও অনুপ্রাণিত করবে।’
স্কুলের শিক্ষক অপর্ণা ত্রিপুরা বলেন, ‘আমাদের স্কুলে বেঞ্চ ও ভালো বোর্ড নেই। বাচ্চাদের কেমন শেখাচ্ছি তা বোঝার জন্য বাইরের শিক্ষক মাঝেমধ্যে মনিটরিং করলে ভালো হতো। স্থানীয় প্রশাসন এ বিষয়ে সাহায্য করতে পারেন।’
সদর দক্ষিণ উপজেলার ইউএনও রুবাইয়া খানম বলেন, ‘ককবরক ভাষা শেখার স্কুলের উন্নয়নের ব্যাপারে ত্রিপুরা পল্লীর বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলব।’