ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৪ ১৯:৫৫ পিএম
রাসেল মিয়া। ফাইল ফটো
ইউরোপের দেশ ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে একাধিক পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভৈরব শহরের তাতাঁরকান্দি এলাকার রাসেল মিয়ার বিরুদ্ধে। সে ওই এলাকার কুদ্দুছ মিয়ার ছেলে।
এ ঘটনায় রাসেলকে আটক করেছে কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে তাতাঁরকান্দি এলাকায় জনতা তাকে আটক করে পুলিশে সোপার্দ করে।
ভুক্তভোগীরা জানান, রাসেল ভৈরবসহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় ২০/১৫ জন লোককে প্রথমে দুবাই ও পরে লিবিয়া পাঠিয়ে সাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধ পথে ইতালি পাঠাবে বলে প্রায় ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। পরে লিবিয়া নিয়ে মাফিয়াদের সঙ্গে কন্ট্রাক করে তাদের হেফাজতে নিয়ে আরও টাকা দাবি করছে। আবার টাকা নেওয়ার ৬ মাস পরেও অনেককে পাঠাতে পারেনি।
তারা জানান, টাকা দেওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে তারা রাসেলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেননা। বৃহস্পতিবার রাতে সে বড়ি এলে জনতাসহ ভোক্তভোগীরা তাকে আটক করে। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে রাতেই থানায় নিয়ে যায়।
তারা আরও জানান, তাদের পরিবারের লোকজন লিবিয়ায় অপহরণকারীদের হাতে বন্দি হয়ে আছে, আবার কেউ কেউ লিবিয়ায় জেলে আছে। অপহরণকারীরা তাদেরকে অমানসিক নির্যাতন অত্যাচার করছে মুক্তিপণের টাকা দিতে। টাকা না দিলে তাদেরকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে বলেও জানান তারা।
জানা গেছে, লিবিয়া থেকে সাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধ পথে ইতালি পাঠাতে যারা রাসেল মিয়াকে টাকা দিয়েছে তারা হলেন, ভৈরব পৌর শহরের হানিফ মিয়ার ছেলে রাসেল, একই এলাকার ইউনুছ মিয়ার ছেলে ফারুক মিয়া, হবিগঞ্জের মাধবপুর এলাকার সবুজ ও কিশোরগঞ্জের তোফায়েল ২২ লাখ, নরসিংদীর শিবপুর এলাকার এবাদুল্লাহর ছেলে শাকিবুল হাসান, ভৈরব পৌর শহরের জগনাথপুর এলাকার রইছ উদ্দিনের ছেলে হাছেন আলীসহ তিনজন হাছেন আলী, শহরের আমলাপাড়া এলাকার নূর ইলামের ছেলে সুমন, জগন্নাথপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার রাব্বি, তাতারকান্দি এলাকার রন্টি, রোকেল, রবিন, ইসলাম, হামিন, বাসস্ট্যান্ড এলাকার টাইরই, ঢাকা শহরের কাঞ্চন, নিউটাউন এলাকার আরিফ আমলা পাড়া এলাকার সুমন ছাড়াও আরও ৫/৭ জন।
ভুক্তভোগী ইউনুছ মিয়া বলেন, ‘আমার ছেলে ফারুককে ইতালি পাঠাতে রাসেলকে ২৪ লাখ টাকা দিয়েছি চারমাস আগে, এখন ছেলের খোঁজ নেই। শুনেছি অপহরণকারীদের হাতে লিবিয়ায় বন্দি।’
শাকিবুল হাসানের বাবা এবাদউল্লাহ বলেন, ‘ইতালি পৌঁছানো পর্যন্ত আমার ছেলের বডি কন্ট্রাকের নামে ১৪ লক্ষ ৫০ নেয় রাসেল। কিন্তু মাফিয়ার কথা বলে আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করছে। আমি এমনিতেই নিঃস্ব। এত টাকা পাবো কই? আমার ছেলেকে কিভাবে ছাড়িয়ে আনব কিছুই বুঝতেছি না। তাই থানায় অভিযোগ দিয়েছি।’
আর এক ভুক্তভোগী রাসেলের বাবা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ছেলেকে ইতালি পাঠাতে ৭ লাখ টাকা দিয়েছি কিন্ত সে এখন লিবিয়ার জেলে বন্দি।’
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম জানান, রাসেলকে বৃহস্পতিবার রাতে জনতা আটক করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ তার নিরাপত্তার জন্য উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এখন ভোক্তভোগীরা মামলার প্রস্ততি নিচ্ছে। তারা মামলা করার পর তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল অনেকের কাছ থেকে বিদেশের কথা বলে টাকা নিয়েছে বলে স্বীকার করেছে।