শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৪ ১৯:২২ পিএম
হাসপাতালের বেডে রাসেলস ভাইপার সাপের দংশনের শিকার মাদারীপুরের চরাঞ্চলের বাসিন্দা সুলতান বেপারি। প্রবা ফটো
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার চরাঞ্চল চরজানাজাত ইউনিয়নের উত্তর চর জানাজাত এলাকার কৃষক সুলতান বেপারি। ৫২ বছর বয়সী এই কৃষক পাঁচ দিন আগে গত সোমবার দুপুরে রাসেলস ভাইপার (চন্দ্রবোড়া/উলুবোড়া) সাপের দংশনের শিকার হন। দেরি না করে আশপাশে থাকা কৃষকদের সহযোগিতায় তিনি উপস্থিত হন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ভর্তি নিয়ে তার চিকিৎসায় তাৎক্ষনিক মেডিকেল বোর্ড গঠন করে সরকারি হাসপাতালটির কর্তৃপক্ষ। সাপের বিষ প্রতিষেধক বা অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করা হয় তার দেহে। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর সুস্থতা বোধ করেন সুলতান বেপারি।
অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের পর পুরোপুরি সুস্থতার জন্য এই কৃষককে দুই দিন হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখেন চিকিৎসকরা। গত বুধবার বিকালে নিজ বাড়িতে ফিরেছেন তিনি। বাড়িতে ফেরার পর তিনি সক্রিয় হয়েছেন নিজের কর্মজীবনে। গতকাল বৃহস্পতিবার তাকে দেখা গেছে স্থানীয় মাদবরচর হাটে। সেখানে নিজের পালিত একটি ছাগল বিক্রি করেন তিনি। পরে কিছু নিত্যপণ্য কেনাকাটা করে ফেরেন বাড়িতে।
শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ইব্রাহিম হোসেন জানান, সোমবার দুপুরে চরজানাজাত এলাকা থেকে রাসেল ভাইপারের দংশনের শিকার সুলতান বেপারি হাসপাতালে আসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা যায় তিনি অনেক অসুস্থ। পরে কয়েকজন চিকিৎসকের সমন্বয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করা হয়। অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের আড়াই ঘন্টা পর রোগী সুস্থতা বোধ করেন। দুই দিন হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রেখে তাকে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।
সুলতান বেপারী বলেন, আমি সেদিন পাট জাগ দিতে গিয়েছিলাম। সাপে কামড় দেওয়ার পর চিৎকার করি। পাশে থাকা পরিচিত কৃষকদের সহযোগিতা চাই। তারা আমার হাতে তিনটি বাঁধ দিয়ে আমাকে দ্রুত শিবচর উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেকক্সে নিয়ে যান। সাপটি দেখেই আমি চিনতে পারি সেটা রাসেলস ভাইপার। এর আগেও আমি অনেক মেরেছি। ইদানীং পদ্মার চর এলাকয় এই সাপের উপদ্রব বেড়েছে।
শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ্ আল মামুন বলেন, সত্যিই ভালো খবর যে একজন কৃষক সাপের দংশনের শিকার হয়ে নিজের সচেতনতায় দ্রুত হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিয়েছেন। সাপ নিয়ে কোনোভাবেই আতংকিত হওয়া যাবে। সাপে দংশন করলে যত দ্রুত সম্ভব কাছের হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।