মাগুরার শ্রীপুর
শ্রীপুর (মাগুরা) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৪ ১৫:২৬ পিএম
মাগুরার শ্রীপুরে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তার রোষানলে ২৫ পরিবার অন্ধকারেকর্মকর্তার রোষানলে ২৫ পরিবার অন্ধকারে। প্রবা ফটো
মাগুরার শ্রীপুরে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তার ব্যক্তিগত রোষানলে উপজেলার শ্রীকোল ইউনিয়নের শ্রীকোল গ্রামের অন্তত ২৫টি পরিবারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এতে স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী, রোগী, বৃদ্ধ ও শিশুরা পড়েছে ভোগান্তিতে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অন্যের দোষে বকেয়া না থাকা সত্ত্বেও তারা এক সপ্তাহ বিদ্যুৎহীন হয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুন দুপুরে শ্রীপুর পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যান রানা শ্রীকোল গ্রামে বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের দায়ে এক গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে যান। তখন স্থানীয়রা লাইনম্যান রানার ওপর চড়াও হলে তিনি অফিসে ফিরে যান এবং বিষয়টি ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রাহাতকে জানান। বিষয়টি জানার পর ডিজিএম ওই লাইনম্যানকে নিয়ে ওই দিন বিকালে শ্রীকোল গ্রামে উপস্থিত হলে স্থানীয়দের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এ সময় তাদের মারধর ও ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারের ব্যবহৃত গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনার জেরে একই বাড়ির আকিদুল মোল্যা, আজাদুর মোল্যা ও মোকাদ্দেস মোল্যার নামে মামলা করেন ডিজিএম রাহাত।
এরপর অভিযুক্ত ওই গ্রাহকের বিদ্যুতের মিটারও খুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পাশাপাশি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বিদ্যুতের খুঁটি থেকে যন্ত্রপাতিও (ফেজ) খুলে নিয়ে যায়। ফলে ওই ফেজের আওতায় থাকা আরও ২৫টি পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। যার পরিবারে বৃদ্ধ, অসুস্থ, এইচএসসি পরীক্ষার্থী, মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীসহ প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা রয়েছে।
শিউলি বেগম নামে গৃহিণী বলেন, আমার চাচা ব্রেন স্ট্রোকের রোগী। ফ্যান ছাড়া কান্নাকাটি করছেন। আমাদের বকেয়া কোনো বিল নেই। অথচ কারা গণ্ডগোল করল তার জন্য আমাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
স্থানীয় বকুল হোসেন বিশ্বাস জানান, আমাদের কোনো বকেয়া বিল নেই। অন্য কেউ গণ্ডগোল করলে, মামলা খেলে, তার দায়ভার তো আমাদের ওপর দেওয়া ঠিক না। আমাদের কি অপরাধ।
দরিদ্র ভ্যানচালক সেলিম জানান, তার ভ্যান প্রতিদিন বিদ্যুতের চার্জে চলে। এই কদিন বিদ্যুৎ না থাকায় তিনি ভ্যান চালাতে পারেননি। সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অথচ তার কোনো বিদ্যুৎ বিল বকেয়া নেই।
স্থানীয় ইউপি সদস্য বিএম সাহাবুদ্দিন সিহাব জানান, যারা হামলা করল, তাদের দোষ থাকলে তার বিচার হবে। কিন্তু এর জন্য ২৫টি পরিবারে শতাধিক মানুষ বিদ্যুৎহীন থাকবে কেন। রাগের বশে এটা তো ঠিক নয়। আমি বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করলেও তারা কোনো আশ্বাস দেয়নি।
শ্রীপুর পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মো. রাহাত মোবাইল ফোনে জানান, এরকম শাস্তি না দিলে ওখানে কাজ করাটা কঠিন হয়ে যাবে। আর তাদের যে বিদ্যুৎ ফেজ তা তুলে আনার ফলে কিছু পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। যা হামলার তদন্তের স্বার্থে করা হয়েছে। হামলার সঙ্গে আর কারা জড়িত তা নির্দিষ্ট না করে সবাইকে লাইন দেওয়া যাচ্ছে না।
বকেয়া না থাকলেও এভাবে সকল গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা আইনানুগ হয়েছে জানতে চাইলে বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।