চাঁদপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৪ ২৩:০৬ পিএম
সাইফুদ্দিন। প্রবা ফটো
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্ট কেন্দ্র করে চারটি পরিবারকে ‘সমাজচ্যুত’ (সামাজিকভাবে হেয় করতে অধিকার হরণের চেষ্টা) করার খবর পাওয়া গেছে। গত শনিবার স্থানীয় পঞ্চায়েতের মাতবরদের এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) জানাজানি হয়। তবে পাঁচ দিন পার হলেও পরিবারগুলো স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জনপ্রতিনিধির কাছে কোনো অভিযোগ দেয়নি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মতলব উত্তর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাইফুদ্দিন তার এলাকার মসজিদের ইমামকে চাকরিচ্যুত করা নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন ২২ জুন। ওই পোস্টে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তার দেওয়া পোস্টে মতামত দেন পাশের কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা। এ নিয়ে মসজিদ কমিটি ও সামাজিক মাতবররা বৈঠক করেন ২৯ জুন। সেদিনের বৈঠকে সাইফুদ্দিনসহ চার পরিবারকে সমাজচ্যুত করার সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্তের পর শিপন আহম্মেদ নামে স্থানীয় এক বাসিন্দার ফেসবুক আইডি থেকে সাইফুদ্দিনের ছবি সংবলিত পোস্ট দিয়ে ‘সমাজ থেকে তাকে বের করে দেওয়া হয়েছে’ বলে প্রচার করা হয়। সমাজচ্যুত চার পরিবারে অন্তত ৩৯ জন সদস্য রয়েছেন।
সাইফুদ্দিনের পোস্টে ‘মসজিদ কমিটির সম্মানহানি’ হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন বৈঠকে উপস্থিত থাকা মসজিদ কমিটির সদস্য রুহুল আমিন মিয়াজী। তিনি বলেন, বৈঠকে সমাজের ৮০-১০০ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সবার সম্মতিতে চার পরিবারকে সমাজচ্যুত করা হয়েছে।
একই ঘটনায় দুই পরিবার ক্ষমা চেয়ে ‘রেহাই’ পেয়েছে মন্তব্য করে বৈঠকে উপস্থিত থাকা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সবুজ বেপারী বলেন, বাকি চার পরিবার ক্ষমা চাইলে তাদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।
এই ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) চাঁদপুরের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, এই ধরনের অধিকার লঙ্ঘন করার ক্ষমতা রাষ্ট্র অন্তত কাউকে দেয়নি। যত দ্রুত সমাধান হবে, ততই মঙ্গল। প্রশাসনের উচিত বিষয়টি ভালোভাবে খতিয়ে দেখা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি অবগত নয় বলে নিশ্চিত করেছেন মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন রনি। তিনি বলেন, ওই এলাকার মসজিদের ইমামকে বিদায় দেওয়ার বিষয়টি শুনেছি। এ নিয়ে কী ঘটনা ঘটেছে, আমার জানা নেই। তা ছাড়া সমাজচ্যুতির কোনো ঘটনার বিষয়ে আজ (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ দেয়নি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ওই চার পরিবারের মধ্যে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সাইফুদ্দিন। তিনি দাবি করেন, ঢাকায় ব্যবসা করার কারণে তিনি এলাকায় অনুপস্থিত ছিলেন। গত বুধবার তিনি বাড়িতে এসেছেন। অন্যরা তার আসার অপেক্ষায় ছিল। সবার সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি গতকাল এসপি (পুলিশ সুপার) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) সুদীপ্ত রায় প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, তারা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন। মতলব উত্তর থানায় অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। থানা থেকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সার্বিক বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) একি মিত্র চাকমা জানান, তার কাছে কেউ এমন কোনো অভিযোগ দেয়নি। ঘটনা তার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।