গাইবান্ধার প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৪ ১৪:১৪ পিএম
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে গাইবান্ধার সব নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবা ফটো
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে গাইবান্ধার সব নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণে ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়াও তিস্তা, যমুনা, ঘাঘট এবং করতোয়া নদীর পানিও বেড়ে গিয়েছে। পানি বৃদ্ধির ফলে ইতোমধ্যে জেলার সুন্দরগঞ্জ, সদর ও ফুলছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) সকাল ৬টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি জেলার ফুলছড়ি উপজেলার তিস্তামুখ পয়েন্টে বিপদসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এছাড়াও ঘাঘট নদীর পানি জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে বিপদসীমার ৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে কাউনিয়া পয়েন্ট তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার ও করতোয়ার পানি গোবিন্দগঞ্জের কাটাখালি পয়েন্টে বিপদসীমার ১৭৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি, মোল্লারচর, গিদারি, ঘাগোয়া ও ফুলছড়ি উপজেলার এরান্ডাবাড়ি, ফুলছড়ি ও ফজলুপুর এবং সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ও হরিপুর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সদর উপজেলার মোল্লার চর ও ফুলছড়ির ফজলুপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গনে তোষাপাটসহ বিভিন্ন ফসলি জমি বিলিন হচ্ছে নদীগর্ভে।
ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের হাবিব মিয়া বলেন, হঠাৎ করে গত চারদিন ধরে দ্বিতীয় দফায় ব্রহ্মপুত্রের পানি বাড়তে শুরু করেছে। এ অবস্থায় কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের বেশ কয়টি গ্রাম পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। নৌকা ছাড়া আমাদের চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের রফিক মিয়া বলেন, একদিকে বন্যা অন্যদিকে নদী ভাঙনে আমাদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। চরবাসীকে একাধিকবার ঘরবাড়ি সরাতে হচ্ছে। কিন্তু আজও স্থায়ীভাবে নদী ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা হচ্ছে না।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাফিজুল হক জানান, উজানের ঢলে গাইবান্ধার সবগুলো নদ-নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘাঘট ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে সুন্দরগঞ্জ সদর ও ফুলছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সার্বিক পরিস্থিতির উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।