সাইফুল হক মোল্লা দুলু, মধ্যাঞ্চল
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৪ ১২:১২ পিএম
কিশোরগঞ্জের হাওরে একটু দেরিতে পানি এলেও হাওর সেজেছে অনাবিল স্যেন্দর্যে। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো
এবার হাওরে বর্ষা এসেছে একটু দেরিতে। পক্ষকাল বিলম্বে পানি এলেও এবার হাওর সেজেছে নবরূপে। হাওরের অপরূপ সৌন্দর্যের প্রেমে পড়ে অগণিত ভ্রমণপিপাসু ছুটে আসছে হাওর ভ্রমণে। বিস্তীর্ণ হাওরের যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই অনাবিল সৌন্দর্যের স্বপ্নিল মায়াময় দৃশ্য। এসব দৃশ্য হাতছানি দিয়ে কাছে টানে তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষকে। চিত্তবিনোদনহীন মানুষ একটু আনন্দের খোঁজে চলে আসে হাওরের ভাসমান অলওয়েদার সড়ক, ভাসমান ব্রিজ, বিভিন্ন প্রজাতির বন, দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশি দেখতে। বিকালের হাওরের অবারিত নীল আকাশ। সূর্য ডুবে যাওয়ার রক্তিম আবহ উপভোগ করার জন্য সমুদ্রসৈকত ছাড়া একমাত্র মাধ্যম হয়ে দেখা দিয়েছে বিস্তীর্ণ হাওরের বিশাল জলরাশি।
ভয়েস অব হাওরের কর্ণধার অনুপম মাহমুদ বলেন, এবার বর্ষার শুরুতেই জলমগ্ন হাওরের রূপলাবণ্য এখন উপচে পড়ার সময়। পানি ছাড়া হাওর অসম্পূর্ণ। প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করুন এবং সন্ধ্যার আগেই নিরাপদ স্থানে ফিরে আসুন। এবার লক্ষ করা যাচ্ছে, অনেকেই হাওর ভ্রমণের আগ্রহ প্রকাশ করছেন, যা হাওরবাসীর জন্য সুখবর। কারণ হাওরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা হোটেল-রেস্তোরাঁ, নৌকার মাঝি-মাল্লাসহ অসংখ্য মানুষ এ সময় নানা পেশায় জড়িয়ে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়। বিকাশমান হাওর অধ্যুষিত পর্যটন কেন্দ্রে যাওয়ার পথে যানবাহন সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হাওরের অপূর্ব সৌন্দর্য দেখা ও উপভোগ করার জন্য তিনি সারা দেশের মানুষকে আহ্বান জানান।
দেখা গেছে, শুকনো মৌসুমে হাওর মানে মাইলের পর মাইল ফসলি জমি, ধুলোওড়া মেঠোপথ, রুপালি নদী। এই বর্ষায় অন্য বছরের চেয়ে হাওরে পানি তুলনামূলকভাবে কম বলে মনে হচ্ছে। তারপরও পানির টানে এবার হাওরের বেশ কয়েকটি স্থানে ঢল নেমেছে দর্শণার্থীর। এর মধ্যে রয়েছে করিমগঞ্জ উপজেলার চামড়াঘাট, বালিখলা ও হাসানপুর ব্রিজ, ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম অল-ওয়েদার সড়ক ও বেড়িবাঁধ, শিমুলবাঁকের হিজলবন, মিঠামইনের কামালপুরে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের বাড়ি, দিল্লীর আখড়া, নিকলী বেড়িবাঁধ, ছাতিরচরের হিজলবন এবং তাড়াইলের হিজলজানি হাওর।
নিকলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোকারম সর্দার বলেন, প্রতি বর্ষা মৌসুমে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভ্রমণপিপাসু লোকজন বেড়িবাঁধে আসে। এবারও বর্ষার শুরুতেই নিকলী বেড়িবাঁধে মানুষ আসছে। হোটেল-রেস্তোরাঁয় বসছে আড্ডা। প্রতিদিন নতুন উচ্ছ্বাস-আনন্দে ভাসছে নিকলী হাওরের বেড়িবাঁধ এলাকা। সরেজমিনে দেখা গেছে, নিকলীর বেড়িবাঁধ যেন হয়ে ওঠে সমুদ্রসৈকতের বিকল্প।
হাওরের দ্বার হিসেবে সু-পরিচিত চামড়াঘাট নৌবন্দরেও প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ হাওরের বিশালত্ব দেখতে ছুটে যান। ফলে ভ্রমণপিপাসুদের কলতানে চামড়াঘাট নৌবন্দর জমজমাট হয়ে ওঠে। হাওরের করিমগঞ্জ উপজেলার বালিখলা ও হাসানপুর ব্রিজ এবার হাওর-আনন্দে নতুনমাত্রা যোগ করেছে। বিশাল পিচঢালা সড়কের দুইধারে হাজার হাজার জলযানের উপস্থিতি এক অপূর্ব দৃশ্যের সূচনা করেছে। কাকডাকা ভোর হতে শত শত মানুষ প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপেক্ষা করে বালিখলার সৌন্দর্য দেখতে ভিড় করছে। বিশেষ করে পানির ওপর নৌকায় বসে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার অপার আনন্দে বিভোর ভ্রমণপিপাসুরা। এ ছাড়া ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম অলওয়েদার সড়ক ও বেড়িবাঁধ, শিমুলবাঁকের হিজলবন, মিঠামইনের কামালপুরে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের বাড়ি, দিল্লীর আখড়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের কলরব মুখরিত হয়ে উঠছে হাওরের উক্ত স্পটগুলো।
পুলিশ সুপার মো. রাসেল শেখ বলেন, হাওর অপূর্ব সাজে সেজেছে। তাই মানুষের পদচারণা হাওরে বাড়ছে। তারপরও যারা হাওরের অথই পানিতে সৌন্দর্য দেখতে চানÑ তাদেরকে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, বর্ষার শুরুতেই হাওরের এসব স্থানে ভ্রমণপিপাসুদের হাট বসে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে হাওরের এসব স্পট। কিন্তু মৃত্যুঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ভ্রমণকারীদের এসব স্থানে যেতে হবে।