প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০২৪ ২২:১২ পিএম
কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে মাটিচাপা পড়ে শিশুসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৩ জুলাই) ভোরে উপজেলার বালুখালী ১১ ও ৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো- ১১ নম্বর ক্যাম্পের এফ/১ ব্লকের দিল মোহাম্মদের ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন (২১) ও ৮ নম্বর ক্যাম্পের ৪১ ব্লকের মো. আলমের ছেলে সিফাত।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয়ের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ সামছু-দৌজা নয়ন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মঙ্গলবার সারা দিন থেমে থেমে মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত ছিল, যা মধ্যরাতের পর ভারী বর্ষণে রূপ নেয়। একপর্যায়ে ভোর ৪টার দিকে উখিয়ার বালুখালী ১১ ও ৮ নম্বর ক্যাম্পে আকস্মিক পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এক স্থানীয় শিশু ও একজন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে ১৯ জুন উখিয়া উপজেলায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও আশপাশের একাধিক জায়গায় পাহাড়ধসে দুই স্থানীয় বাসিন্দা এবং আটজন রোহিঙ্গার মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
বাঘাইছড়িতে এইচএসসির কেন্দ্র প্লাবিত, পরীক্ষা স্থগিত
রাঙামাটি বাঘাইছড়িতে বন্যায় কাচালং সরকারি কলেজ কেন্দ্রে বৃহস্পতিবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করেছে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড। বুধবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এএমএম মুজিবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নোটিসে বলা হয়েছে, কাচালং সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের ৪ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য ইংরেজি প্রথম পত্র পরীক্ষা স্থগিত করা হলো।
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন খান বলেন, বাঘাইছড়ি উপজেলার কাচালং সরকারি ডিগ্রি কলেজের পরীক্ষা কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করেছে শিক্ষা বোর্ড। তবে উপজেলার আরেক কেন্দ্র শিজক কলেজে সারা দেশে যেভাবে পরীক্ষা চলছে সেভাবে পরীক্ষা হবে। শুধু কাচালং কলেজের পরীক্ষা কেন্দ্রটা স্থগিত করা হয়েছে।
জানা গেছে, পাহাড়ি ঢলে গত মঙ্গলবার রাতে কলেজ ক্যাম্পাসে ৩ থেকে ৪ ফুট পানি উঠে কলেজের নিচতলা শ্রেণিকক্ষ, অফিস, শিক্ষকদের বাসভবনসহ পুরো ক্যাম্পাস প্লাবিত হয়ে যায়। বুধবার স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষার্থীরা কোমরসমান পানি ডিঙিয়ে বা নৌকায় করে গিয়ে কলেজের দোতলায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। আজকের এইচএসসি স্থগিতের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ ইউএনও এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডকে জানায়।
থানচিতে নৌকাডুবির দুদিনেও খোঁজ মেলেনি ২ শিক্ষার্থীর
বান্দরবানের থানচিতে স্কুলে যাওয়ার সময় নৌকাডুবির দুই দিনেও খোঁজ পাওয়া যায়নি দুই শিক্ষার্থীর। বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নিখোঁজ শান্তি রানী ত্রিপুরা (১০) তিন্দু ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড হরিশ চন্দ্রপাড়া এলাকার মুতিজন ত্রিপুরার মেয়ে এবং ফুলবানী ত্রিপুরা (৯) একই এলাকার নিহ্লা প্রু ত্রিপুরার মেয়ে।
স্থানীয়রা জানায়, গত সোমবার সকালে উপজেলার তিন্দু ইউনিয়নের পদ্মমুখ সংলগ্ন চিংড়ি ঝিরি এলাকা থেকে নৌকায় নদী পার হয়ে স্কুলে যাওয়ার পথে প্রবল স্রোতে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। এতে নৌকায় থাকা অন্যরা সাঁতার কেটে তীরে পৌঁছালেও প্রাথমিক স্কুল পড়ুয়া শান্তি রানী ত্রিপুরা ও ফুলবাণী ত্রিপুরা নিখোঁজ হয়। সেই থেকে তাদের উদ্ধারে বিভিন্ন প্রচেষ্টা চালিয়েও তাদের খোঁজ পাওয়া যায়নি।
থানচি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের টিম লিডার তরুণ জ্যাতি বড়ুয়া জানান, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও মঙ্গলবার সারা দিন সন্ধান করেও তাদের উদ্ধার করা যায়নি। গতকালও সারা দিন সাঙ্গু নদীতে নজর রাখা হয়েছিল, কিন্তু নিখোঁজের ৪৮ ঘণ্টা অতিক্রম হলেও শিশু দুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
ইউএনও মোহাম্মদ মামুন বলেন, ফায়ার সার্ভিসের লোকজন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যানসহ, স্থানীয়দের নিয়ে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়েও নিখোঁজ ছাত্রীদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
বাঘাইছড়িতে বন্যার পানিতে ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিখোঁজ
রাঙামাটি বাঘাইছড়ি উপজেলার বাঘাইছড়ি গ্রামে পানিতে ডুবে ৮ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়েছে। মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে বাঘাইছড়ি আবাসিক স্কুলের পাশে বন্যার পানি দেখতে গিয়ে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তা পার হতে গিয়ে পা পিছলে পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ হয় সে। নিখোঁজ শিক্ষার্থী বাঘাইছড়ি গ্রামের মিল্টন চাকমার ছেলে কৃতিত্ব চাকমা। সে বাঘাইছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্র। মঙ্গলবার থেকে স্থানীয় লোকজন ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা তাকে উদ্ধারে কাজ করলেও গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত তার খোঁজ মেলেনি।
এদিকে দুপুরে নিখোঁজ হওয়া শিক্ষার্থীর পরিবারের খোঁজখবর ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ইউএনও শিরীন আক্তার।
দেবে গেছে মহালছড়ি-গুইমারা সড়ক, ভারী যান চলাচল বন্ধ
খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার আঞ্চলিক সড়কের কিছু অংশ ফাটল ধরে দেবে গেছে। মহালছড়ি-গুইমারা সড়কের কাটাটিলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে দুই উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগে ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি ওই সড়কে ভারী যান চলাচল আপাতত বন্ধ রয়েছে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকাল থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু করেছে। মঙ্গলবার দুপুর থেকে সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
মহালছড়ির ইউএনও পারভিন খানম বলেন, প্রবল বর্ষণের কারণে মহালছড়ি-গুইমারা সড়কটি দেবে গিয়ে ফাটল ধরেছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ সড়কটি মেরামতের কাজ করছে। আশা করি দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক করা যাবে। সড়কটি মূলত মহালছড়ি উপজেলার সঙ্গে গুইমারা উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগে ব্যবহৃত হচ্ছে।
সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকরা ফিরেছে
পাহাড়ি ঢলে বাঘাইহাট-সাজেক সড়ক ডুবে যাওয়ায় রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে আটকে পড়া পর্যটকরা ফিরে এসেছে। পানি কমে আসায় বুধবার বেলা ১১টার পর থেকে পর্যটকরা সাজেক ছাড়তে শুরু করে বলে জানিয়েছেন সাজেক কটেজ মালিক সমিতির সহকারী সাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা।
মতিজয় ত্রিপুরা বলেন, মঙ্গলবার বিকালের পর থেকে বৃষ্টিপাত কমেছে। এতে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি নামতে শুরু করেছে। বাঘাইহাট সড়কে পানি কমে আসায় সাজেকের পর্যটকরা নিজেদের গন্তব্যে রওনা হয়েছে।
মতিজয় ত্রিপুরা বলেন, গঙ্গারাম মুখে সড়কের কিছু অংশ এখনও পানিতে ডুবে আছে। ওই স্থানে নৌকায় পার হয়ে যেতে হচ্ছে। বর্তমানে সাজেকে কোনো পর্যটক নেই।
টানা বৃষ্টিতে বাঘাইছড়ির সাজেক ইউনিয়নের কাচালং ও গঙ্গারাম নদীর পানি বেড়ে যায়। এতে পাহাড়ি ঢলে সোমবার রাতে বাঘাইহাট-সাজেক সড়কের বাঘাইহাট বাজার এলাকা ও মাচালং বাজার এলাকার সড়ক ডুবে যায়। বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে আটকা পড়ে সাত শতাধিক পর্যটক।