বেড়া-সাঁথিয়া (পাবনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০২৪ ১৯:১৮ পিএম
আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৪ ১৯:৩০ পিএম
পাবনার বেড়া উপজেলার হাটুরিয়া-নাকালিয়া চড় পেঁচাকোলো গ্রামে ঘোড়া জবাই করছেন যুবকরা। ছবি: সংগৃহীত
ঘোড়া জবাই করে মাংস খাওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ভাইরাল হয়ে যায়। এই ঘটনায় এলাকার মুসল্লিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। প্রতিবাদে এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন। যারা মাংস খেয়েছিল স্থানীয়দের ভয়ে দোকান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে প্রতিবাদের মুখে অনেকেই এলাকা ছেড়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে পাবনার বেড়া উপজেলার হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়নের চড় পেঁচাকোলা গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২৯ জুন বেড়া শাহা পাড়ার মহিউদ্দিন চৌধুরী নামের এক ব্যক্তি মানিক হোসেন, আব্দুস সোবহান, হিরো আলমসহ কয়েকজন যুবকদের নির্দেশ দেন ঘোড়া কিনতে। তার কথা মতো, ৬-৭ জন যুবক ১ হাজার টাকা দিয়ে একটি ঘোড়া কিনে আনেন। এরপর সেই ঘোড়া জবাই করা হয়। যুবকরা বেড়া উপজেলার হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়নের চড় পেঁচাকোলা নদীর পাড়ে নিয়ে আনন্দ-উল্লাস করে ঘোড়াটিকে জবাইয়ের ভিডিও ধারণ করে এবং রান্না করে সবাই মিলে খায়। এরপরই শুরু হয় এলাকায় সমালোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২ জুলাই) বিকালে পেঁচাকোলা চার মাথা মোড় এলাকায় মুসল্লি ও সাধারণ জনগণ ধর্মীয় ব্যাখ্যা দিয়ে সড়কে নেমে আন্দোলন করেন ও সড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করেন।
হাটুরিয়া চারমাথা বাজারের ব্যবসায়ী আলামিন বলেন,‘যার নির্দেশে ঘোড়ার মাংস রান্না হয়েছে এবং যারা খেয়েছেন তাদের সবার শাস্তি চাই।’
মডেল মসজিদের ইমাম মোস্তফা কামাল ও বেড়া শাহ্ পাড়া মাসজিদের ইমাম শাহারিয়ার বিন জাকারিয়া বলেন, ‘হাদিস শরীফে ঘোড়ার মাংস খাওয়ার পক্ষে-বিপক্ষের দুই ধরনেরই বক্তব্য আছে। তাই এর মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকলেই ভালো।’
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চড় পেঁচাকোলা এলাকায় ঘোড়া জবাই করে মাংস খাওয়ার ভিডিও দেখেছি। এতে মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আমি ধর্মীয় বিষয়ে কিছু বলতে চাচ্ছি না। তবে আমাদের দেশে ঘোড়া সংখ্যা কম। এভাবে এর মাংস খাওয়া শুরু হলে এ প্রাণী বিলুপ্তির পথে চলে যাবে। তাই আমি ঘোড়ার মাংস খেতে নিরুৎসাহিত করব। ’