কুড়িগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০২৪ ১৫:৫৭ পিএম
আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৪ ১৬:২২ পিএম
কুড়িগ্রামের সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের পোরার চর থেকে ক্যামেরাবন্দি করা হয়েছে। প্রবা ফটো
কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্রের পানি বেড়ে বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। বুধবার (৩ জুলাই) দুপুর ১২টায় কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যমতে চিলমারী ও নুনখাওয়া পয়েন্টে এই নদের পানি বিপদসীমার যথাক্রমে ৯ সেন্টিমিটার ও ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এ ছাড়া বিপদসীমা অতিক্রম করেছে দুধকুমার নদীর পানি। অব্যাহত পানিবৃদ্ধির ফলে এর অববাহিকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে কয়েকটি উপজেলার হাজারও মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
পাউবো সতর্কবার্তায় জানায়, দেশের উত্তরাঞ্চল ও এর উজানে আগামী ২৪ ঘণ্টা ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে এ সময় উত্তরাঞ্চলের দুধকুমার নদ, ধরলা ও তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কয়েকটি পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পার।
পূর্বাভাস কেন্দ্রের বার্তায় ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতির পূর্বাভাস দেওয়া না হলেও এই নদের পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ভোগে পড়েছে হাজারও পরিবার। এ পর্যন্ত জেলার সবকটি নদ-নদীতে পানিবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
পাউবো কুড়িগ্রামের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ১৫ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৩৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা অতিক্রম করে। এ সময় ওই পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র বিপদসীমার ৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। একই সময়ে এই নদের পানি নাগেশ্বরীর নুনখাওয়া পয়েন্টে ৪৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ধরলার পানি কুড়িগ্রাম সেতু পয়েন্টে ২১ সেন্টিমিটার এবং দুধকুমার নদের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে ২১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ক্রমেই বিপদসীমার দিকে ধাবিত হচ্ছে। রাতভর তিস্তার পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ৩৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।
ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে নিম্নাঞ্চলে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নুনখাওয়া ও বামমডাঙ্গা, ভুরুঙ্গামারী উপজেলার চর ভুরুঙ্গামারী, ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা এলাকা। উলিপুরের বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের চর বালাডোবা, বতুয়াতলি মূসার চর, ব্যাপারীপাড়া নতুন চর এবং পূর্ব ও পশ্চিম মশালের চর, পোড়ার চর ও গোয়াইপুরীর চরের ১ হাজার পরিবারের ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। বাধ্য হয়ে এসব পরিবারের অনেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে নৌকায় আশ্রয় নিয়েছে। বসতভিটা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় নৌকাতেই রান্না ও খাবার সেরে নিচ্ছে। তবে শৌচাগার নিয়ে বিপাকে পড়েছে পানিবন্দি মানুষজন।
জেলা সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্রপাড়ের এলাকা কালির আলগা ও গোয়াইলপুরির চরে গত তিন দিনে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এসব চরের অধিকাংশ পরিবার এখনও পানিবন্দি।
বতুয়াতলি মূসার চরের সিদ্দিক বলেন, ‘আমাদের গ্রামে ৪০টিরও বেশি পরিবারের বসবাস। সবকটি পরিবারের ঘরের ভেতর পানি। বাইরে চারপাশে পানি। পানি বাড়তেই আছে। অবস্থা খুব ভয়াবহ।’
পোরার চরের বাসিন্দা ইনছুর আলী বলেন, ‘পরিস্থিতি খারাপ। এক রাতেই এই চরে চার ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্রতিটি ঘরে প্রবেশ করেছে।’
কালির আলগা গ্রামের বাসিন্দা সোহরাব হোসেন বলেন, ‘এই দুই দিনে তিন হাত পানি বাড়ছে। বেশিরভাগ বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেছে। মানুষ এখনও আশ্রয়কেন্দ্রে যায়নি।’
এদিকে ব্রহ্মপুত্রের অব্যাহত পানিবৃদ্ধির ফলে উলিপুরের হাতিয়া ইউনিয়নসহ চিলমারী উপজেলার নদের তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়ছে প্লাবিত এলাকার বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। আমরা ত্রাণ সহায়তা বিতরণ অব্যাহত রেখেছি। জেলাজুড়ে ৪ শতাধিক আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পানিবৃদ্ধির ফলে যেসব এলাকা প্লাবিত হচ্ছে, আমরা সেদিকে বাড়তি নজর রাখছি।’