বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৪ ১৭:২১ পিএম
আপডেট : ৩০ জুন ২০২৪ ১৭:৩৪ পিএম
বগুড়া পৌরসভার বাজেট অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম। প্রবা ফটো
বগুড়া পৌরসভা নতুন (২০২৪-২৫) অর্থবছরের জন্য ২৭১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে। রবিবার (৩০ জুন) সকালে শহরের শহীদ টিটু মিলনায়তনে নাগরিকদের সামনে বগুড়া পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম বাদশা বাজেট উপস্থাপন করেন।
প্রধান অতিথি ছিলেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্নিগ্ধ আকতার, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শুভাশীষ পোদ্দার লিটন এবং প্যানেল মেয়র উপস্থিত ছিলেন।
এবারের বাজেটে গৃহ ও ভূমির (বসত-বাড়ি) ওপর কর খাতে আয় দ্বিগুণ বাড়িয়ে ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। একইভাবে স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর খাতের আয় ১৭ শতাংশ বাড়িয়ে ২০ কোটি, ইমারাত নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ খাতেও প্রায় একই হারে কর বাড়িয়ে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা, ব্যবসা খাতের কর ২৭ ভাগ বাড়িয়ে ৬ কোটি টাকা এবং ভূমি উন্নয়ন কর খাতে নতুন করে ১০ লাখা টাকা কর ও ব্যাটারিচালিত রিকশার লাইসেন্স খাত (সরকারিভাবে লাইসেন্স প্রদানের সিদ্ধান্ত পাওয়া গেলে) থেকে আরও ৫০ লাখ টাকা আয় ধরা হয়েছে।
ঘোষিত বাজেটের ২৭১ কোটি টাকার মধ্যে মাত্র ৩০ শতাংশ বা ৭৯ কোটি টাকা পৌরসভার নিজস্ব আয় ধরা হয়েছে। বাকি ৭০ শতাংশ বা ১৯১ কোটি টাকা উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে সহায়তা হিসেবে পাওয়ার আশা করা হয়েছে। একইভাবে গত বছরও (২০২৩-২৪) ৭০ ভাগ প্রকল্প সহায়তা ধরে বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৫০ কোটি টাকা। তবে শেষ পর্যন্ত তা ৬০ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। বাজেট ঘোষণার সময় উপস্থিত নাগরিকরা শহরে যানজট নিরসনে স্কুল বাসের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণ, শহরের বিভিন্ন স্থানে বর্জ্য রাখার স্থানগুলোকে আবদ্ধ করা এবং গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের অধিকহারে বৃত্তি প্রদানের পরামর্শ দেন।
মেয়র রেজাউল করিম বাদশা জানান, ১৪৮ বছরের পুরোনো বগুড়া পৌর এলাকায় ১ হাজার ৩৫০ কিলোমিটার সড়ক এবং ১ হাজার ২১০ কিলোমিটার ড্রেনের তথ্য দিয়ে বলেন, গত বছর সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ এবং সংস্কার খাতে ১৩ কোটি টাকারও বেশি খরচ করা হয়েছে। নতুন অর্থ বছরে ওই খাতে দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে ২৭ কোটি টাকা খরচের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তিনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং আখ্যায়িত করে বলেন, বগুড়া শহরে প্রতিদিন ২০০ মেট্রিক টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। কিন্তু এত বিপুল পরিমাণ বর্জ্য অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় যানবাহন ও সরঞ্জাম নেই। ফলে যানবাহন এবং সরঞ্জামগুলো ভাড়া নিয়ে বর্জ্য অপসারণ করতে হচ্ছে। এতে পৌরসভার বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় হচ্ছে। বর্জ্য অপসারণ খাতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীন ‘সলিড ওয়েস্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট’ খাতে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়ার আশা করে মেয়র বলেন, ‘প্রকল্পটি চালু হলে বগুড়া একটি পরিচ্ছন্ন নগর হিসেবে গড়ে উঠবে।’
মেয়র রেজাউল করিম বাদশা বলেন, আগামীতে নতুন শিক্ষার্থী ছাউনি, পৌরসভা অফিসসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে মহিলাদের জন্য শৌচাগার এবং প্রবীণদের জন্য বিশ্রামাগার নির্মাণের কথা জানান।