× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পেঁয়াজের চাহিদা কম তবু বাড়ছে দাম

হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৪ ১১:২৬ এএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

অর্থনীতিতে একটি তত্ত্ব আছেÑ কোনো পণ্যের চাহিদা কমলে বাজারে ওই পণ্যের দাম কমে যায়। পণ্য বেচাকেনায় বেশিরভাগ সময় এ তত্ত্বটি সত্য প্রমাণিত হলেও এবার উল্টোচিত্র দেখা গেছে মশলাজাতীয় পণ্য পেঁয়াজের দামে। বছরের অন্যান্য সময় যেখানে চাহিদা কমলে পেঁয়াজের দাম কমে যেত, সেখানে এবার চাহিদা কমার পরও কমছে না দাম। এবার চাহিদা কমার পর উল্টো ভোগ্যপণ্যের অন্যতম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে বাড়ছে পণ্যটির দাম। ১০ দিনের ব্যবধানে পাইকারিতে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে অন্তত ১০ টাকা। ঈদুল আজহার আগে যেখানে দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছিল ৭৫ টাকায়, সেখানে গতকাল শনিবার হচ্ছে ৮৫ টাকায়। অন্যদিকে ভারতীয় পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, মোকামে দাম বাড়ার কারণেই বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। মোকামে দাম না কমলে খাতুনগঞ্জেও কমবে না বলে জানিয়েছেন তারা। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, বাড়তি মুনাফার আশায় মোকাম পর্যায়ে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে পেঁয়াজের দাম বাড়লেও একই সময়ে বাজারে কমছে আদা, রসুনের। ১০ দিনের ব্যবধানে বাজারে চায়না রসুনের দাম কমেছে কেজিতে ৩৫ টাকা। চায়না আদার দাম কমেছে কেজিতে ১৫ টাকা। খাতুনগঞ্জে এখন প্রতি কেজি চায়না রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ টাকায়। অন্যদিকে প্রতি কেজি চায়না আদা বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৪৫ টাকায়। 

ঈদুল আজহা সামনে রেখে ঈদের আগে বাজারে বেড়ে যায় মশলাজাতীয় পণ্যের দাম। ওই সময় ঈদ সামনে রেখে পেঁয়াজসহ মশলাজাতীয় পণ্য কেনে বাসায় মজুদ করেন ভোক্তারা। তাই ঈদের পরে বাজারে পেঁয়াজ, রসুন, আদাসহ মশলাজাতীয় পণ্যের চাহিদা কমে যায়। কারণ তখন বাসায় পেঁয়াজ মজুদ থাকায় অনেকের নতুন করে এসব পণ্য কেনার প্রয়োজন পড়ে না। তাই ঈদের পর এখন বাজারে মশলাজাতীয় পণ্য বিশেষ করে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার চাহিদা কমেছে। কিন্তু অন্যান্য বছরের তুলনায় দাম কমেনি। 

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ঈদের পর গত ১৯ জুন থেকে বাজারে বেচাকেনা শুরু হলেও এখনও বাজারে পেঁয়াজ, রসুন, আদা বেচাকেনা স্বাভাবিক হয়নি। বাজারে এসব পণ্যের চাহিদা এখন অনেক কম। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ ট্রাক পেঁয়াজ বিক্রি হতো, সেখানে এখন এক থেকে দুই ট্রাক বিক্রি হচ্ছে না। প্রতি ট্রাকে ১৩ টন করে হিসাব করলে স্বাভাবিক সময়ে ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ২ লাখ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হতো, সেখানে এখন বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ হাজার কেজি।

বিপুল পরিমাণ চাহিদা কমার পরও বাজারে কমছে না পেঁয়াজের দাম। উল্টো মোকামে দাম বাড়ার অজুহাতে বাড়ছে দাম। ঈদের পর দেশি এবং ভারতীয় দুই ধরনের পেঁয়াজের দামই এখন বাড়ছে। ভারতীয় এবং দেশি দুই ধরনের পেঁয়াজই বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকায়। 

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী হামিদুল্লাহ মিয়া মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ঈদের পর বেচাকেনা এখনও জমে ওঠেনি। গত সপ্তাহে স্বাভাবিক সময়ে যে পরিমাণ বেচাকেনা হয় তার ১০ শতাংশও বিক্রি হয়নি। তবে বাজারে পেঁয়াজের প্রচুর সরবরাহ আছে। আড়তে পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই।’

চাহিদা কম তবু দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মোকাম (পাবনা) ও ভারতীয় সীমান্তে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। তাই খাতুনগঞ্জেও পেঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বমুখী। মোকামে প্রতি মণ দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ১০০ থেকে ২০০ টাকায়। ভারতীয় পেঁয়াজের দাম আরেকটু বেশি। সীমান্তে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম পড়ে যাচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা। এর সঙ্গে ট্রাক ভাড়া ও অন্যান্য খরচ যোগ হওয়ার পর সেই পেঁয়াজ ৯০ টাকার কমে বিক্রির সুযোগ নেই। তাই মোকাম পর্যায়ে দাম বাড়ার কারণেই এখন বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে।’ 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা