কুড়িগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৪ ১৭:৪১ পিএম
কুড়িগ্রামে পুড়ে যাওয়া বাড়ি ঘরের খণ্ডাংশ। প্রবা ফটো
কুড়িগ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই ৯ পরিবারের ১৬টি বসসতঘর। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। সব হারিয়ে নিঃস্ব এসব পরিবারের চোখে-মুখে এখন আতঙ্ক ও হতাশা বিরাজ করছে।
শুক্রবার (২৮ জুন) রাত সাড়ে ১১টায় কুড়িগ্রামে শহরের ডায়াবেটিক হাসপাতাল মোড়ে এলাকায় একটি কসমেটিক গোডাউনে আগুন লাগলে মুহূর্তে পুরো পাড়ায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
জানা যায়, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬টি বাড়ি পুড়ে যায়। এ সময় ৯টি পরিবারের ১৬টি ঘরে থাকা টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, আসবাবপত্র, নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ একজন এইচএসসি পরীক্ষার্থীর বইপত্র ও প্রবেশপত্র পুড়ে যায়। সংবাদ পেয়ে কুড়িগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিট এসে তিন ঘণ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, শাহজাহানের বাড়ি থেকে আগুনের সূত্রপাত। এলাকার সুবেল, ফাতেমা, কামাল, বদিয়ত, বিলাতু, কহিনুরসহ আরও কিছু পরিবার অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভাড়াটিয়া সুমির চক্রবর্তী বলেন, ‘রাত সাড়ে ১১টায় পানির মোটর পাম্প থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং মহুর্তেই আগুন ছড়িয়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আমি বোম্বে সুইচ, টাকডুমসহ ছয়টি কেম্পানির ডিলারশীপ নিয়েছিলাম। যেখানে প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল ছিল যা সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। আমি এখন নিঃস্ব।’
প্রতিবেশী জিল্লুর রহমান বলেন, ‘আকস্মিকভাবে ঘুম থেকে উঠে দেখি দাউ দাউ করে আগুন জলছে। চোখের সামনে সব পুড়ে গেলেও আল্লাহর অনুগ্রহে আমার পরিবার অক্ষত অবস্থায় রয়েছে।’
কুড়িগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এতে ৯টি পরিবারের ১৬টি বাড়িঘর পুড়ে গেছে। আমরা এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ করছি।’
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকুল ইসলাম হালিম বলেন, ‘আমি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে দেখা করেছি। সেখানে ৯টি পরিবারের ১৬টি ঘর পুড়ে গেছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তাদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া একজন এইচএসসি পরীক্ষার্থীর বই, পোষাক এবং পুড়ে যাওয়া পরীক্ষার প্রবেশপত্রের ব্যবস্থা করেছি।’
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ সাইদুল আলীফ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করেছি এবং ঢেউটিন, টাকাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছি। এছাড়া সদর এমপিকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। তিনি প্রয়োজনীয় সহায়তা করবেন মর্মে প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।’