শফিব সরকার, ময়মনসিংহ
প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৪ ১০:০০ এএম
ময়মনসিংহের বলাশপুরের হাক্কানি মোড় সড়কের অধিকাংশ ম্যানহোলের ঢাকনা নেই। প্রবা ফটো
‘কী লিকবাইন, আংগর কপাল খারাপ। ম্যানহোলের ঢাকনাও চুরি অয় এই দেশে। এই রাস্তাটুকু আসতে অইল অনেক সতর্ক হইয়া। বুড়া মানুষ চোখের পাওয়ার কইমা গেছে। কহন জানি পইরা যাই ম্যানহোলে। এই ডরে ডরে আসলাম। ম্যানহোলের ঢাকনা চুরি কইরা নিছে অনেক দিন তো অইল। মানুষ পইড়া যায়। কই ঠিক তো কইরা দেয় না। আর কয় দিন এইভাবে চলমু, কইনছেন দেহি।’ এভাবে কথাগুলো বললেন ময়মনসিংহ নগরীর বলাশপুর এলাকার বাসিন্দা সত্তরোর্ধ্ব আব্দুর রশিদ।
নগরীর বলাশপুর-আলিয়া মাদ্রাসা রোডের অধিকাংশ ম্যানহোলের ঢাকনা নেই। চুরি করে নিচ্ছে ম্যানহোলের ঢাকনা। সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ বারবার চেষ্টা করেও ঠেকাতে পারছে না চুরি। এতে এলাকাবাসী ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে এই সড়কে। শুধু এই সড়ক নয়, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ম্যানহোলের ঢাকনা চুরি হচ্ছে। কোতোয়ালি থানা পুলিশ বলছে, তারা চোর ধরতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বলাশপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, ‘বলাশপুর এলাকার হাক্কানি মোড় থেকে আলিয়া মাদ্রাসা পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার সড়কের অধিকাংশ ম্যানহোলের ঢাকনা নেই। এমনকি ঢাকনা নেই এর কোনো সতর্কতামূলক চিহ্ন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি সড়কে। এতে অসতর্ক অবস্থায় ম্যানহোলে পড়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে এই এলাকার মানুষ। বিশেষ করে, অপরিচিত পথচারীরা বেশি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এ ছাড়া এই পথ দিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা চলাচল করে থাকে। তাদের জন্য আমরা সব সময় আতঙ্কিত থাকি।’
পথচারীদের চলাচলে অসুবিধার কথা স্বীকার করে সংশিষ্ট ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আব্বাছ উদ্দিন মণ্ডল বলেন, ‘এলাকাবাসীর কথা চিন্তা করে সড়কের নিচ দিয়ে দামি পাইপের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সড়কে অসংখ্য ম্যানহোল বসানো হয়েছে। কিন্তু চোরের অত্যাচারে ম্যানহোলের ঢাকনা টিকিয়ে রাখা যাচ্ছে না। ম্যানহোলের ঢাকনা না থাকায় প্রায় সময় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে এলাকাবাসী। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অচিরেই নতুন করে ঢাকনা লাগানো হবে।’
সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ড বলাশপুর এলাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই হাঁটুপানি জমত। এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কথা ভেবে সিটি মেয়র উদ্যোগ নেন পানি নিষ্কাশনের। বিশেষ প্রকল্প এনে বলাশপুর এলাকায় প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কের নিচ দিয়ে পাইপ লাইনের ব্যবস্থা করা হয়। যাতে সহজেই পানি নিষ্কাশন হয়। পাইপ লাইনের ময়লা পরিষ্কার করার জন্য সড়কের প্রতি ২০ ফিট পর পর ম্যানহোল বসানো হয়েছে। কিন্তু চোরের দল ওইসব ম্যানহোলের ঢাকনা চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। চুরি যাওয়া ম্যানহোলে একাধিকবার নতুন ঢাকনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এরপরও চুরি ঠেকানো যাচ্ছে না।’
নির্বাহী প্রকৌশলী আরও বলেন, ‘ম্যানহোলের ঢাকনা চুরির বিষয়ে পুলিশ সুপার বরাবর একাধিক চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। শুধু বলাশপুর নয়, সিটি এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে প্রতিনিয়ত ম্যানহোলের ঢাকনা চুরি হচ্ছে। বেশি চুরি হচ্ছে নতুন গড়ে ওঠা ওয়ার্ডগুলোতে। ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন পার্কের বিভিন্ন সৌন্দর্যবর্ধনও চুরি হচ্ছে।’ তবে সিটি মেয়রের পরামর্শে ম্যানহোলের মুখে ঢালাই সিস্টেম করে ঢাকনা লাগানোর কথা জানান এই কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মাইন উদ্দিন বলেন, ম্যানহোলের ঢাকনা চুরি হচ্ছে, এমন কোনো অভিযোগ তারা পাননি। তবে চোর, মাদকসেবীসহ অন্য অপরাধীদের গ্রেপ্তারে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত আছে।