× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বগুড়া কারাগারের কনডেম সেল থেকে সরানো হলো কয়েদিদের

বগুড়া অফিস

প্রকাশ : ২৮ জুন ২০২৪ ১৯:৪২ পিএম

আপডেট : ২৮ জুন ২০২৪ ২১:৫১ পিএম

বগুড়া জেলা কারাগার। ফাইল ছবি

বগুড়া জেলা কারাগার। ফাইল ছবি

বগুড়া জেলা কারাগারে কনডেম সেলে থাকা ২৬ জন কয়েদিকে অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন কক্ষে স্থানান্তর করা হয়েছে। এদের মধ্যে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদি ১০ জন এবং বাকি ১৬ জন জঙ্গি ও দুর্ধর্ষ কয়েদি।  নিরাপত্তার স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৮ জুন) বিকালে কারা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক কর্নেল শেখ সুজাউর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘বগুড়া কারাগারে পাঁচটি কনডেম সেল রয়েছে। এসব সেলের মধ্যে আত্রাই সেলে জঙ্গি ও দুর্ধর্ষ ১৬ জন কয়েদি ছিল। এছাড়া বাকি ১৩ জন ছিল অন্য সেলে। তাদের মধ্যে বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) তিনজন ফাঁসির কয়েদিকে রাজশাহী কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। আজ শুক্রবার (২৮ জুন)  বাকি ১০ জন ফাঁসির এবং জঙ্গিসহ ১৬ জন কয়েদিকে কারাগারের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন কক্ষে স্থানান্তর করা হয়েছে। এটা মূলত নিরাপত্তার স্বার্থেই করা হয়েছে।’ 

তিনি আরও বলেন, বগুড়া কারাগার থেকে চারজন ফাঁসির কয়েদি পলায়নের ঘটনায় মামলা এবং তদন্ত চলমান রয়েছে। তাই ওই কয়েদিরে ডান্ডাবেরি পরিয়ে অন্যকক্ষে রাখা হয়েছে। তবে তদন্ত ও মামলার কাজ শেষ হলে তাদেরকেও অন্য কারাগারে স্থানান্তর করা হবে। দায়িত্বে অবহেলার বিষয় উঠে আসায় বগুড়া কারাগারের ডেপুটি জেলার হোসেনুজ্জামান, প্রধান কারারক্ষী আব্দুল মতিনসহ পাঁচজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া আরও তিনজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে।’

এর আগে,  গত বুধবার বগুড়া জেলা কারাগারের কনডেম সেলের ছাদ ফুটো করে বিছানার চাদরকে রশি হিসেবে ব্যবহার করে পালিয়ে যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার কয়েদি।

তারা হলেন- কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দিয়াডাঙ্গা এলাকার নজরুল ইসলাম ওরফে মজনু, নরসিংদীর মাধবদী উপজেলার ফজরকান্দি এলাকার আমির হোসেন, বগুড়ার কাহালু পৌরসভার মেয়র আবদুল মান্নানের ছেলে মো. জাকারিয়া এবং বগুড়ার কুটুরবাড়ি পশ্চিমপাড়া এলাকার ফরিদ শেখ।

এই চার কয়েদি একই সেলে থাকার কারণে, দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা করে মঙ্গলবার রাতে তারা কনডেম সেলের ছাদ কেটে কাপড়ের রশি বানিয়ে ছাদ থেকে নেমে পালিয়ে যায়। পরে বুধবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে জেলখানার অদূরে একটি বাজার থেকে স্থানীয়রা তাদের আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। জেল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে বিষয়টি জানায় ৩টা ৫৬ মিনিটে। এরপর পুলিশের সব ফাঁড়ি এবং টহল দলকে অ্যালার্ট করে দেয়া হয়। একপর্যায়ে ভোর সাড়ে ৪টায় সদর ফাঁড়ির সব-ইন্সপেক্টরের নেতৃত্বে পলাতক চার আসামিকে ধরে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়। সেখানে কারা কর্তৃপক্ষ যেয়ে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেন। পরে মামলার পর আদালতের মাধ্যমে আবারও তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। 

ওই ঘটনার দিন সকালেই জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, ডিআইজি প্রিজনসহ একাধিক কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এরপর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা প্রশাসন। এর পাশাপাশি কারা কর্তৃপক্ষও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। 

কয়েদি পালানোর ঘটনায় কারা অধিদপ্তর গঠিত তদন্ত কমিটি বুধবার থেকেই কাজ শুরু করেছে। কমিটির প্রধান অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল শেখ সুজাউর রহমানের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি জেলা কারাগারে তদন্ত কাজ চালিয়েছে। জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটিও বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে কাজ শুরু করেছে।

তদন্তের ব্যাপারে অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল সুজাউর রহমান বলেন, আমরা চার কয়েদির সঙ্গে কথা বলেছি। কীভাবে ঘটনা ঘটল, সেটি তদন্ত করা হচ্ছে। অবকাঠামোগত বা প্রশাসনিক কোনো দুর্বলতা ছিল কি না কিংবা কর্তব্যে অবহেলা ছিল কি না, সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ডিউটি রোস্টার ঠিকমতো অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সেগুলোও তদন্তের অধীন থাকবে। সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত শেষে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরুল কায়েস বলেন, বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে তদন্ত শুরু করেছি। নিরাপত্তা, দায়িত্বে অবহেলাসহ এর সঙ্গে অন্য কোনো পক্ষের যোগাযোগ রয়েছে কি না, সবগুলো বিষয়ই তদন্তে উঠে আসবে।

অন্যদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুজন মিয়া বলেন, চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছি। আদালত রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করলে সে অনুযায়ী জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা