× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

উদ্বোধনের আগেই দেবে গেল ৩০ লাখ টাকার সেতু

গাইবান্ধা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৮ জুন ২০২৪ ০৯:৪২ এএম

আপডেট : ২৮ জুন ২০২৪ ১৭:৩৮ পিএম

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের বেলকা খেয়াঘাট এলাকায় তিস্তার শাখা নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর মাঝখানের চারটি সিসি পিলার দেবে গেছে। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের বেলকা খেয়াঘাট এলাকায় তিস্তার শাখা নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর মাঝখানের চারটি সিসি পিলার দেবে গেছে। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তার শাখা নদীর ওপর নির্মাণাধীন কাঠের সেতুর একটি অংশ দেবে গেছে। সম্প্রতি উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের বেলকা খেয়াঘাট এলাকায় নির্মাণাধীন সেতুর মাঝখানের চারটি সিসি পিলার দেবে যায়। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের গাফিলতি ও দায়সারা কাজের জন্য সেতুটির এ অবস্থা বলে মনে করেন স্থানীয়রা। 

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় লোকজন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের বেলকাঘাট থেকে নৌকাযোগে নদী পারাপার হতো। দুই পারের মানুষের যোগাযোগের মাধ্যম ছিল একমাত্র নৌকা। স্থানীয় জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বেলকাঘাট এলাকায় একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করে এলজিইডি। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অর্থায়নে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় এটি বাস্তবায়ন করে। 

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের আগস্টে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। আর ২০২৩ সালের মে মাসে শেষ হওয়ার কথা। ২০০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৬ মিটার প্রস্থের সেতুটি নির্মাণে ৩০ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে এই টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজের দায়িত্ব পায় গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছানা এন্টারপ্রাইজ। 

সেতুর নির্মাণকাজ প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। সিসি পিলারের ওপর দুই পাশে ঢালাই দেওয়া হয়। সেতুর পাটাতনে সিমেন্টের স্ল্যাবের পরিবর্তে কাঠ দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় সেতুর ওপর দিয়ে স্থানীয় লোকজন যাতায়াত শুরু করে। সাইকেল ও রিকশা পারাপার হতে থাকে। কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই সেতুটির চারটি পিলার দেবে যাওয়ার এমন ঘটনায় প্রকল্পটির কার্যকারিতা এবং পরিকল্পনার বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 ব্রিজটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে বেলকা ও হরিপুর ইউনিয়নের চরবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছে। তাদের দৈনন্দিন চলাচল এবং ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থী, রোগীসহ জরুরি পরিষেবা গ্রহণকারীরা চরম অসুবিধায় পড়েছে।

মানিক মিয়া নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘এই ব্রিজটি ছিল আমাদের জন্য একটি স্বপ্নের মতো। এটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আমাদের অনেক সমস্যা দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এই ব্রিজ দিয়ে কীভাবে চলাচল ও দৈনন্দিন কাজ করব তা নিয়ে আমরা চিন্তিত।’ 

বেলকা এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আগে এখানে কোনো সেতু ছিল না। নৌকা দিয়ে পার হতে হতো সবাই। এতে সাধারণ মানুষদের দুর্ভোগ পোহাতে হতো। একটি কাঠের সেতু নির্মিত হচ্ছে দেখে খুশি হয়েছিলাম। এখন দেখছি নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই এটি দেবে পড়েছে।’

 এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছানা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ছানা মিয়ার সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিন ফোন রিসিভ করেননি। 

উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুল মান্নাফ বলেন, ‘আমরা সেতুটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অবগত আছি এবং দ্রুত এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে বর্তমানে এটি সম্পূর্ণরূপে ঝুঁকিপূর্ণ এবং পথচারীদের চলাচলের জন্য উপযুক্ত নয়।’ 

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘লোকমুখে শুনেছি। এটি স্থানীয় জনগণের জীবনের ওপর একটি বড় ধরনের প্রভাব। তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা