চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৪ ২২:৩৯ পিএম
আম রপ্তানি বাড়াতে বিভিন্ন দেশের ১৩ জন রাষ্ট্রদূত চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমবাগান পরিদর্শনে এসেছেন বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুস শহীদ। বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে কসবা ইউনিয়নের কেন্দবোনা এলাকায় একটি বাগান পরিদর্শনের আগে তিনি এ তথ্য জানান।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে অনেক রাষ্ট্রদূত আছেন। এখানে তারা এসেছেন তাদের সরকারকে ও আমাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করতে। তাদেরকে উৎসাহিত করতে আমবাগান পরিদর্শনে নিয়ে আসা হয়েছে। আমাদের দেশের আম যদি তারা উৎসাহী হয়ে তাদের দেশে আমদানি করেন। তাহলে আমরা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারব।’
বাগান পরিদর্শন করেছেন ব্রুনাই দারুস সালাম, অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, স্পেন, পাকিস্তান, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভুটান, ভিয়েতনাম, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার ও লিবিয়ার রাষ্ট্রদূত এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রতিনিধি।
বাগান পরিদর্শন শেষে সিঙ্গাপুরের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স শিলা পিল্লাই বলেন, ‘যেভাবে বাগানগুলো পরিচর্যা করা হচ্ছে এবং নিরাপদ পদ্ধতিতে আম উৎপাদন করা হচ্ছেÑ এটি দেখে আমি মুগ্ধ। এখানে গবেষণা করে বিভিন্ন জাতের আম উৎপাদন করা হয়। যে পদ্ধতিতে এখানে আমের চাষাবাদ হয়, এসব পদ্ধতি আমাদের দেশে প্রয়োগ করা হয় না। তবে আমার ধারণা এই পদ্ধতিতে আম চাষাবাদ অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের আম রপ্তানিতে উজ্জ্বল ভবিষৎ দেখা যাচ্ছে।’
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার বাংলাদেশে নিযুক্ত প্রতিনিধি ড. জিয়াওকুন শি বলেন, ‘প্রথমবারের মতো আমবাগান দেখতে এসেছি, যা খুবই সুন্দর। একই বাগানে ১৬ জাতের আম উৎপাদন হতে দেখে এতে আমরা অভিভূত। বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়। সেক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে উত্তম কৃষিচর্চা অনুসরণ। এগুলো দেখতেই আমরা এখানে এসেছি। এবং আমাদের কাছে মনে হয়েছে উত্তম কৃষিচর্চা অনুসরণ করে এখানে আম উৎপাদন হয়। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিও এই চর্চাকে উৎসাহিত করে।’
আম রপ্তানি ও বিপণন নিয়ে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিপু বলেন, ‘কৃষি উৎপাদন যেখান থেকে শেষ হয়, সেখান থেকেই বাণিজ্যের কাজ শুরু। চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম দেশে ও বিদেশে ব্র্যান্ডিং করার জন্য। ব্রুনাইসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা আমের বিষয়ে খুবই আগ্রহী। বাগান ঘুরে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা অভিজ্ঞতা নিয়ে যাবেন এবং তাদের দেশে সরকারের সঙ্গে আম রপ্তানির বিষয়ে আলোচনা করবেন। গুড অ্যাগ্রিকালচার প্রাকটিসের (জিএপি) মাধ্যমে যদি আম উৎপাদন না করা যায়, তাহলে বিদেশে রপ্তানি করা যায় না। ইতোমধ্যে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে জিএপি পদ্ধতিতে আম চাষাবাদ শুরু হয়েছে।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘কৃষি ও বাণিজ্য, সেই সঙ্গে পররাষ্ট্রÑ এই তিন মন্ত্রণালয় সমন্বয় করে আমের ব্র্যান্ডিংটা শুরু করেছি। প্রান্তিক পর্যায়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের নিয়ে আসা, এটা একটা বড় অর্জন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের সাইজ ও গায়ের রঙ দেখে আমরা সবাই অভিভূত।
এ সময় কৃষি সচিব ওয়াহিদা আক্তার, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ মো বখতিয়ার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহা. জিয়াউর রহমান, জেলা প্রশাসক একেএম গালিভ খানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।