সাইদুল ইসলাম মন্টু, বেতাগী (বরগুনা)
প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৪ ১৫:২৭ পিএম
ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বরগুনার বেতাগী উপজেলার কাউনিয়া কলেজের বিধ্বস্ত ভবন। প্রবা ফটো
দেশের উপকূলীয় জনপদ বরগুনার বেতাগীতে ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডবের ক্ষত এখনও রয়ে গেছে। রেমালে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাস ও বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গ্রামীণ সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো। প্রায় এক মাসেও ক্ষতিগ্রস্ত এসব অবকাঠামো মেরামত হয়নি।
বেতাগীর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তথ্যমতে, রেমালে উপজেলায় ২০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে উপজেলার বাসিন্দাদের দাবি, ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হবে। দীর্ঘদিনেও কর্তৃপক্ষ মেরামত কাজে হাত না দেওয়ায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগ কমেনি। তবে কিছু এলাকায় স্থানীয়রা মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বেতাগী পৌরসভাসহ উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে, বিষখালী নদীর তীরবর্তী উপজেলার সরিষামুড়ি ইউনিয়নের কালিকা-মায়ারহাট সড়কের একটি অংশ ধসে পড়েছে। উপজেলা আন্তঃসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কের সঙ্গে মায়ারহাট বাজার হয়ে ইউনিয়ন পরিষদে যাতায়াতের সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মোকামিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জালাল গাজী বলেন, ‘বিষখালী নদীর তীরবর্তী এলাকায় এলজিইডির পাকা সড়কের কয়েকটি জায়গায় ধসে যাওয়ায় যোগাযোগ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।’ বুড়ামজুমদার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈয়দ গোলাম রব শুক্কুর জানান, তার এলাকায় এলজিইডি নির্মিত বদনীখালী-কাউনিয়া, বদনীখালী-কাজিরাবাদ-সরিষামুড়ি পাকা সড়কের নানা স্থানে ভেঙে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সাময়িক চলাচলের জন্য মেরামত করা হলেও যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বেতাগী হাসপাতাল সড়ক, ঝোপখালী-ভোলানাথপুর সড়ক, বদনীখালী-কাউনিয়া সড়ক, কাউনিয়া-কালিকাবাড়ি সড়ক, বেতাগী বাজার-খারাকান্দা সড়ক, বেতাগী কাউনিয়া সড়ক, মোকামিয়া লঞ্চঘাট সড়ক, মোকামিয়া-চরখালী সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সরিষামুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান শিপন জমাদ্দার বলেন, ‘ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ছোট ছোট যানবাহনও চলাচল করতে পারছে না। কর্মকর্তাদের সরেজমিনে পরিদর্শন ও আবেদন করলেও মেরামত শুরু হয়নি।’
উপজেলার অনেক জায়গায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধ জলোচ্ছ্বাসে ভেঙে গেছে। পাউবো মাটি দিয়ে বাঁধ মেরামত করলেও এলজিইডি সড়কের ওপর ইট বিছানোর কাজ শুরু করেনি। এখন বর্ষা মৌসুমে সেসব জায়গা কর্দমাক্ত হওয়ায় মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান খান বলেন, ‘রেমালে গ্রামীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় লোকজন ভীষণ দুর্ভোগে পড়েছে। এসব ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত মেরামত করা দরকার।’
এ ছাড়া রেমালের তাণ্ডবে উপজেলার ২০টি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলো দ্রুত সংস্কার করায়, শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। সামনে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগের আর শেষ থাকবে না। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার কাউনিয়া কলেজ ও আরএলজিএফ ইসলামিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা সবেচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাউনিয়া কলেজের টিন শেডের ভবন মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। বিভিন্ন আধা পাকা প্রতিষ্ঠানের ভবনের দেয়ালে ফাটল ধরেছে। একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সীমানা প্রাচীর বিধ্বস্ত হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের ভবনের ওপরে গাছ পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আসবাবপত্রের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
কাউনিয়া কলেজের শিক্ষক এএসএম জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ে কলেজটি লন্ডভন্ড হয়ে যায়। মূল্যবান কাগজ, আসবাবপত্র এবং ল্যাবের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অবস্থায় কলেজে ক্লাস কিংবা অফিসিয়াল কাজ পরিচালনা করা যাচ্ছে না। বৃষ্টি এলেই ছুটির প্রয়োজন হয়।’
জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী শেখ তৌফিক আজীজ বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডবে গ্রামীণ সড়কের অনেক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে ইতোমধ্যে চাহিদাপত্র প্রধান প্রকৌশলীর কাছে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেরামতের কাজ শুরু হবে।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপার ভাইজার মাসুদুর রহমান বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান দ্রুত সংস্কার করা না হলে পাঠদান ও পরীক্ষা ব্যাহত হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারুক আহমদ বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ এলেই সংস্কারকাজ শুরু হবে।’