বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৪ ২২:৪৭ পিএম
ন্যায়কুঞ্জ বিচারপ্রার্থীদের কষ্ট লাঘব ও মামলার গতি ত্বরান্বিত করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। বুধবার (২৬ জুন) দুপুরে বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে ন্যায়কুঞ্জের উদ্বোধনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
উপস্থিত বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, ‘আদালত প্রাঙ্গণে বিশ্রামের সুযোগ থাকে না বলে বিচারাধীন মামলার সাক্ষীরা আসতে চান না। ন্যায়কুঞ্জ নামে বিশ্রামাগার নির্মিত হওয়ার পর সেই কষ্ট লাঘব হবে। সাক্ষীরা আদালতে আসতে উৎসাহী হবেন। ধীরে ধীরে বিচার প্রক্রিয়ার মন্থরতা কেটে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘দেশের আদালতগুলোতে বিচারপ্রার্থীদের জন্য কোনো বিশ্রামাগার না থাকায় তাদের কষ্ট হচ্ছিল। বিষয়টি সাবেক প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে আনেন। পরে প্রধানমন্ত্রী দেশের সব আদালত প্রাঙ্গণে বিচারপ্রার্থীদের জন্য বিশ্রামাগার নির্মাণে সম্মতি দেন। এ জন্য তার নির্দেশেই একটি প্রকল্পও গ্রহণ করা হয়।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বিচারপ্রার্থীদের কষ্টের কথা চিন্তা করে প্রধানমন্ত্রী দেশের ৬৪ জেলার সব আদালতে ন্যায়কুঞ্জ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এজন্য আমরা তাকে ধন্যবাদ দিতে চাই। আইনের শাসন মানুষের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার। সেটা নিশ্চিত করতে হলে বিচারপ্রার্থীদের কষ্ট দূর করা প্রয়োজন। ন্যায়কুঞ্জ নির্মাণের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী সেটাই করেছেন।’
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান, আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান, বগুড়ার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ একেএম মোজাম্মেল হক চৌধুরী, স্পেশাল জজ মো. শহিদুল্লাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের সদস্য (জেলা জজ) শরনিম আকতার, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আশিকুল খবির, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুজ্জামান, জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আতাউর রহমান খান মুক্তা, পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল মতিনসহ সিনিয়র আইনজীবীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এক বছর আগে বগুড়ার আদালত প্রাঙ্গণে এক হাজার বর্গফুট এলাকাজুড়ে ন্যায়কুঞ্জ নির্মাণকাজ শুরু হয়। ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ন্যায়কুঞ্জের বসার জন্য ৭২টি আসনের পাশাপাশি ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার, নারী ও পুরুষদের আলাদা টয়লেট এবং খাবার সংগ্রহের জন্য ফুড কর্নারও রাখা হয়েছে।
ন্যায়কুঞ্জ উদ্বোধনের পর প্রধান বিচারপতি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সভাকক্ষে জেলার বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক অভিভাষণ প্রদান করেন।