খানসামা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে
ভুবন সেন, খানসামা (দিনাজপুর)
প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৪ ১৬:০৫ পিএম
শয্যা সংকটে রোগীদের বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। প্রবা ফটো
এক সপ্তাহ ধরে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় বেড়েছে জ্বর, গলাব্যথা, কাশি ও সর্দি রোগীর সংখ্যা। উপজেলার প্রতিটি বাড়িতেই এখন জ্বরের রোগী। চলমান বিরূপ আবহাওয়ার কারণে এই সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যা সংকটে মেঝেতে চলছে চিকিৎসাসেবা। রয়েছে জনবল সংকটও। সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক, নার্স-মিডওয়াইফ ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। সেই সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন ফার্মেসিতে প্যারাসিটামল গ্রুপের ওষুধ সংকটের খবর পাওয়া গেছে।
ঋতু চক্রের পরিক্রমায় প্রকৃতির খরতাপ অপরিচিত নয়। তবে প্রকৃতির চিরচেনা এই রূপে কয়েক বছর ধরে চলছে ছন্দপতন। এতে শুধু মানুষই নয়, নাভিশ্বাস অবস্থা সমগ্র প্রাণ-প্রকৃতির। ভয়াবহ খরতাপে সড়কে কম মানুষের দেখা মিললেও সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র হাসপাতালে। উষ্ণতম দিনের সংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রোগীর সংখ্যাও।
গত সোমবার দুপুরে সরেজমিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মূল গেট দিয়ে প্রবেশ করতেই দেখা যায়, জরুরি বিভাগ ও আউটডোরে রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা ঘুরে দেখা যায়, পুরুষ, মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডের শয্যা ভর্তি রোগীতে। বারান্দা ও মেঝেতেও চিকিৎসা নিচ্ছে অনেকে। আবহাওয়া অনুকূলে না আসা পর্যন্ত অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়া, সুতি কাপড় পরা এবং বেশি বেশি পানি পান করার পরামর্শ চিকিৎসকদের।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১০২ জন। এর মধ্যে জ্বর-কাশির রোগীই ৭০ জন। ঈদের দিন থেকে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে রোগীর সংখ্যা। গত এক সপ্তাহ প্রায় ৫০০ জনের অধিক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ জ্বরের রোগী। এছাড়া প্রতিদিন জরুরি বিভাগ ও ইনডোরে সেবা নিচ্ছে প্রায় ৩০০ রোগী। এর মধ্যেও অধিকাংশ জ্বর, সর্দি, কাশি ও ব্যথার রোগী।
জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হয়ে গোয়ালডিহি গ্রামের লাবিব নামের এক শিশু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। শয্যা সংকট থাকায় তাকে বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার মা হালিমা খাতুন বলেন, এক সপ্তাহ ধরে ছেলের জ্বর-সর্দি। প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেও কমেনি। তাই হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। হাসপাতালের শয্যা খালি পাওয়া যায়নি। এমনকি মেঝেতেও ঠাঁই হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে বারান্দায় রেখে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
সর্দি-জ্বর নিয়ে হাসপাতালের মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন গুলিয়ারা গ্রামের মিনতি রায়। তিনি বলেন, হঠাৎ জ্বর ও শরীর ব্যথা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে এলে ভর্তির পরামর্শ দিয়েছেন। তাই বেড ফাঁকা না থাকায় মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছি।
ওষুধ ব্যবসায়ী বখতিয়ার উদ্দিন জানান, ঈদের ছুটি ও গত সপ্তাহ ধরে জ্বরের রোগী বাড়ায় বাজারে কিছু কোম্পানির প্যারাসিটামল গ্রুপের ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। তবে এটি ২-১ দিনে স্বাভাবিক হবে বলে কোম্পানির বরাতে নিশ্চিত করেছেন তিনি।
২০২১ সালের জুলাই মাসে ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণসহ সেবা কার্যক্রম চালুর প্রশাসনিক অনুমোদন পায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু এতদিনেও জনবল ও বরাদ্দ পায়নি। শুধু তা-ই নয়, ৩১ শয্যারই জনবলও সংকট রয়েছে। সংকট নিয়ে রোগীর সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) শামসুদ্দোহা মুকুল বলেন, ভাইরাস ও আবহাওয়া পরিবর্তনজনিত জ্বর ও কাশির রোগী বেড়েছে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কেউ এমন রোগে আক্রান্ত হলে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। জনবল ও বরাদ্দ সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।