× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সিলেটে বন্যা

ত্রাণ নয়, ঘর মেরামতে সাহায্য চান তারা

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৪ ১৫:২৬ পিএম

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে অনেকে। আবার কেউ ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে বাড়ি ফিরেই অনেকে পড়েছেন নানা ভোগান্তিতে। বন্যার তাণ্ডবে ঘরবাড়ি তছনছ হয়ে গেছে। ভেসে উঠছে বাসা-বাড়ি ও রাস্তাঘাটের ক্ষত চিহ্ন। তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে খাবারের বিশুদ্ধ পানি ও গো-খাদ্যের। গবাদি পশু নিয়ে সীমাহীন দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন বন্যা আক্রান্ত লোকজন।

এদিকে, ঈদের ছুটি শেষে আজ বুধবার থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে। কিন্তু বন্যাকবলিত অনেক এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পাঠদানের জন্য কতটুকু উপযোগী হবে তা নিয়ে অনেক অভিভাবক দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র পানি ছাড়ছে, আবার কোনো প্রতিষ্ঠানের চারদিকে রয়েছে নোংরা পানি। এসব নোংরা পানি থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। এমতাবস্থায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পানিবাহিত নানা রোগের আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

তবে এ ব্যাপারে দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে আশ্বস্ত করেছেন সিলেট জেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ মো. আব্দুল ওয়াদুদ। তিনি বলেন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনও বন্যায় আক্রান্ত রয়েছে অথবা আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ও ম্যানেজিং কমিটি তদারকি করবে। যদি পাঠদানের উপযোগী না হয়, তবে সংশ্লিষ্টরা বসে সিদ্ধান্ত নেবেন।

গত চার দিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ায় নগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি নামছে। তবে অনেক নিচু এলাকার সড়ক ও বাসাবাড়ি থেকে পুরোপুরি পানি নামেনি। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় লোকালয় থেকে পানি কমে যাওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ঘরবাড়িতে ফিরছে বাসিন্দারা। যারা ফিরেছে, তারা পড়ছে নানা ভোগান্তিতে। ঘরবাড়িতে পানি ঢোকায় এখনও সেটা স্যাঁতসেঁতে রয়েছে। অনেকের কাঁচা ঘর বন্যায় ভেঙে গেছে। আবার অনেকের ঘরের চাল আছে তো বেড়া নেই। অনেক এলাকায় দেখা দিয়েছে ত্রাণের সংকট। রয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাবও। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকাকালে শুকনা খাবার পেলেও বাড়ি গেলে সেটা মিলবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে বন্যার্তরা।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নগরীর দুটি ওয়ার্ড ও জেলার চার পৌরসভা এবং ১০৩ ইউনিয়নে ৮ লাখের মতো মানুষ এখনও বন্যা আক্রান্ত রয়েছে। গতকাল সকালে নগরীর শাহজালাল উপশহর, কুশিঘাট, তোপখানা, মেন্দিবাগ, যতরপুর, সোবহানীঘাট, টুকের বাজারসহ আশপাশের এলাকায় বাসাবাড়ি ও রাস্তা থেকে পানি অনেকটা কমেছে। সরেজমিনে পরিদর্শনকালে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পানি কমেছে। তবে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।

কানাইঘাট উপজেলার ১ নম্বর লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের কান্দলা গ্রামের বিধবা মহিলা মল্লিকা বেগম বলেন, ‘বন্যার পানিতে আমার ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি ত্রাণ চাই না, ঘর মেরামতের জন্য সরকারের সাহায্য চাই।’ একই উপজেলার মেছা গ্রামের জসিম উদ্দিন বলেন, বানের পানিতে ঘরবাড়ি তছনছ হয়েছে। গ্রামের অনেক রাস্তাঘাট এখনও পানির নিচে রয়েছে। এলাকায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস জানান, এখনও সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি কয়েকটি পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর রয়েছে। তবে পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টি না থাকায় অন্যান্য নদীর পানি বিপদসীমার নিচে রয়েছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নগরীর পাশাপাশি সীমান্তবর্তী পাঁচ উপজেলা গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট, জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ ও জকিগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তবে গতকাল পর্যন্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ও পাহাড়ি ঢল থামায় পানি অনেকটা কমেছে। একইভাবে সদর, ওসমানীনগর দক্ষিণ সুরমা, বিশ্বনাথ, ফেঞ্চুগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে রয়েছে। সিলেটের জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান বলেন, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল না থাকায় পানি অনেকটা কমেছে। এভাবে আবহাওয়া ভালো থাকায় পানি দ্রুত নামবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বন্যার্তদের মাঝে শুকনো ও রান্না করা খাবার বিতরণ চলমান রয়েছে। 


বিএনপি নেতাদের কাজ নেই, তাই সরকারের উকুন বাছে : সুনামগঞ্জে জাহাঙ্গীর কবির নানক

বন্যার্তদের সাহায্য নিয়ে বিএনপির সমালোচনা করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, শুনেছি বিএনপি নেতা ফখরুল ইসলাম নাকি বস্তা ভরে সাহায্য করেছেন। কারা পেয়েছেন এই সহায়তা, কেউ পায়নি। তারা শুধু মিথ্যা কথা বলে। দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে। ষড়যন্ত্র করে দেশকে ধ্বংস করতে চায়। কাজকাম নেই, তাই সরকারের উকুন বাছাই তাদের কাজ।

মঙ্গলবার দুপুরে তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পরে সুনামগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। এসময় মন্ত্রী বলেন, সুনামগঞ্জকে বন্যামুক্ত রাখতে নদী শাসন করা হবে। যারা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের যত টিন লাগে দেওয়া হবে। আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হবে। 

তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রনজিত চন্দ্র সরকার, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য আজিজুস সামাদ ডন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল হুদা মুকুট, সাধারণ সম্পাদক নোমান বখত পলিনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

(প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন সুনামগঞ্জ প্রতিবেদক ও সিলেট অফিস)

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা