× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জাতীয় নেতা শহীদ কামারুজ্জামানের ১০১তম জন্মবার্ষিকী আজ

রাজশাহী অফিস

প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৪ ১৫:০০ পিএম

জাতীয় নেতা শহীদ কামারুজ্জামানের ১০১তম জন্মবার্ষিকী আজ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আস্থাভাজন রাজনৈতিক সহযোগী, বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সারির নেতা, বাংলাদেশ সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার স্বরাষ্ট্র, কৃষি এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এবং এদেশের ইতিহাসের কলঙ্কজনক পর্ব জেলহত্যা কাণ্ডের শিকার শহীদ আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের ১০১তম জন্মবার্ষিকী আজ বুধবার।

জাতীয় নেতা কামারুজ্জামান ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জুন বৃহত্তর রাজশাহী জেলার নাটোর মহকুমার বাগাতিপাড়া থানার মালঞ্চী রেলস্টেশন সংলগ্ন নূরপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস রাজশাহী শহরের কাদিরগঞ্জ মহল্লায়। অবিভক্ত বাংলার বিশিষ্ট রাজনীতিক ও সমাজসেবক আবদুল হামিদ মিয়া (১৮৮৭-১৯৭৬) ও নারী সংগঠক জেবুন নেসার প্রথম সন্তান কামারুজ্জামান। তিনি তার দাদির দেওয়া ডাক নাম ‘হেনা’ নামেও জনগণের মধ্যে সুপরিচিত। তার দাদা হাজী লাল মোহাম্মদ সরদারও ছিলেন রাজনীতিকÑ দু’বার অবিভক্ত বাংলার লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সদস্য (এমএলসি)। কামারুজ্জামানও ছাত্রজীবনেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন।

এএইচএম কামারুজ্জামান তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার প্রধান সারির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে অর্থনীতিতে অনার্সসহ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৫১ সালে বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া থানার চামরুল গ্রামের জোতদার আশরাফ উদ্দীন তালুকদারের মেয়ে জাহানারা বেগমের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। ১৯৫৬ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনশাস্ত্রে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। একই বছর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং পরের বছর ১৯৫৭ সালে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

কামারুজ্জামান তার ৩৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনে নির্বাচনে অংশ নিয়ে কখনই পরাজিত হননি। ছয় দফা আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৬৭ সালে তিনি নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং বিরোধীদলীয় উপনেতা নির্বাচিত হন। তবে ঊনসত্তরের গণ-আন্দোলনের সময় তিনি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফা দাবির সমর্থনে জাতীয় পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে তিনি রাজশাহী থেকে আবারও জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭০ সালের পর উত্তপ্ত ও জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট দলীয় হাইকমান্ড গঠন করেন। কামারুজ্জামান ছিলেন তাদের অন্যতম।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে গণহত্যা শুরু হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১০ এপ্রিল গঠিত হয় প্রথম বাংলাদেশ সরকার। দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও এই সরকার পরিচালনায় এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত জনগণের মধ্যে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন কামারুজ্জামান। স্বাধীন বাংলাদেশেও তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালে গঠিত বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের (বাকশাল) কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হন তিনি। নতুন মন্ত্রিসভায় তাকে শিল্পমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতীয়-আন্তর্জাতিক চক্রান্তের অংশ হিসেবে একদল প্রতিক্রিয়াশীল সেনাচক্র সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে। এর পরপরই জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এ এইচ এম কামারুজ্জামান এবং ক্যাপ্টেন মনসুর আলীকে গ্রেপ্তার ও কারাবন্দি করা হয়। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কারাগারের ভেতর কামারুজ্জামানসহ আরও তিন জাতীয় নেতাকে হত্যা করা হয়।

ব্যক্তিজীবনে শহীদ কামারুজ্জামান ছয় সন্তানের জনক। তার বড় পুত্র অ্যাডভোকেট এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র। প্রসঙ্গত, চারপুরুষ ধরে রাজনীতিতেÑ এমন পরিবার বাংলাদেশে হাতেগোনা।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা