বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৪ ২৩:১৩ পিএম
আপডেট : ২৫ জুন ২০২৪ ০০:০২ এএম
বরিশালের বাকেরগঞ্জে জেলেদের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়নে জেলেদের বরাদ্দের চেয়ে কম চাল দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির ও সদস্য আবুল কালাম তালুকদারের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২৪ জুন) সকালে ইউনিয়ন পরিষদে ইউপি সদস্য আবুল কালাম জেলেদের ভিজিএফ চাল বিতরণ করেন। এ সময় নিয়ামতি ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার মাধ্যমিক একাডেমি শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুল হক অনুপস্থিত ছিলেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নিবন্ধনকৃত জেলেদের জন্য প্রতি মাসে ৪০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। চলতি বছরে নিয়ামতি ইউনিয়নের ১৫০ জন জেলেকে প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে চার মাস চাল বিতরণ করার কথা। কিন্তু দুই ধাপে দুই মাসের ৮০ কেজি চাল না দিয়ে ৫০ কেজি করে দেওয়া হয়েছে। ট্যাগ অফিসারের অনুপস্থিতিতে জনপ্রতি ৩০ কেজি করে চাল কম দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দের বাকি চাল লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। চাল বিতরণের প্রথম থেকেই নানা অভিযোগ করে আসছিলেন স্থানীয় জেলেরা।
ইউনিয়নের রুপারজোর গ্রামের জেলেরা জানান, তাদের গ্রামে ৫৭ জেলে পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে ২৪ পরিবারের নিবন্ধন করা হয়ছে। প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে চার মাসে তাদের ১৬০ কেজি চাল দেওয়ার কথা। সেখানে ১০০ কেজি দেওয়া হয়েছে। বাকি চাল চেয়ারম্যান ও মেম্বার মিলে আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ তাদের।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের মোবাইলে কল দিলে তিনি বরিশালে মিটিংয়ে আছেন বলে জানান। ‘বাকেরগঞ্জ এসে সাক্ষাতে কথা বলব’ বলে ফোন কেটে দেন। এ ছাড়া ইউপি সদস্য আবুল কালাম তালুকদারের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার এনামুল হক বলেন, ‘আমি ছুটিতে রয়েছি। আমাকে না জানিয়ে আমার অনুপস্থিতিতে চাল বিতরণের নিয়ম নেই।’
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দিন বলেন, ‘গত দুই দিনে আমার কাছে জেলেরা মোবাইলে অভিযোগ করেছেন। বারবার ফোন করে চেয়ারম্যানকে সঠিক নিয়মে চাল বিতরণ করতে বলেছি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুর রহমান বলেন, ‘জেলে পরিবারপ্রতি যা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা-ই বিরতণ করতে হবে। সরকারি বরাদ্দের কম চাল দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’