যশোর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৪ ২২:৩২ পিএম
আপডেট : ২৪ জুন ২০২৪ ২২:৪৭ পিএম
যশোর সদর উপজেলার রূপদিয়ায় গ্রামীণ ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে একটি ক্লিনিকে ভুল অপারেশনে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ তুলে ভাঙচুর হয়েছে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় ক্লিনিকের কর্মীরা পালিয়ে গেলেও রোগী নিয়ে আসা দালালকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। সোমবার (২৪ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বজনরা বলেছেন, সোমবার ভোর ৪টার দিকে যশোর সদর উপজেলার আন্দুলিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের স্ত্রী লিমা খাতুনের প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয়। এ সময় এক ধাত্রীর পরামর্শে তাকে রূপদিয়া বাজারের গ্রামীণ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়। এরপর তাকে কোনো প্রকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া ও রক্তের ব্যবস্থা না করেই অপারেশন করে সিজারিয়ান করা হয়। অপারেশনকালে প্রসূতি মারা গেলে কর্তৃপক্ষ দায় এড়াতে রক্তস্বল্পতার কারণে জ্ঞান ফিরছে না জানিয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে। খুলনায় নিয়ে গেলে চিকিৎসক জানান, রোগী অনেক আগেই মারা গেছে। মারা যাওয়ার সংবাদে স্বজনরা ক্লিনিকে গিয়ে তালা ঝুলানো দেখতে পায়। পরে দুপুর ১টার দিকে নবজাতক ছেলেসন্তানটিও মারা গেলে স্বজনরা ওই ক্লিনিকে ভাঙচুর চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।
স্থানীয়রা জানায়, প্রসূতি মা ও শিশুমৃত্যুর ঘটনা ওই ক্লিনিকে এটিই প্রথম নয়। এই ক্লিনিকে এর আগেও এ ধরনের কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবার তারা পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে ক্লিনিকে তালা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় নেতাদের ধরে আবারও ক্লিনিক চালু করে। তারা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে। তবে ক্লিনিকের কর্মীরা পালিয়ে গেলেও পুলিশ রোগী নিয়ে আসা দালালকে হেফাজতে নিয়েছে।
নরেন্দ্রপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মিহির কুমার মণ্ডল বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। কোন কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, ময়নাতদন্তের পরে জানা যাবে।’ তা ছাড়া নিহত পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে অভিযোগ দিলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।