তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৪ ১২:৫১ পিএম
তালা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ। প্রবা ফটো
তালা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্নভাবে কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সেই টাকা দিয়ে তিনি খুলনার জোড়া গেট এলাকায় বহুতলবিশিষ্ট বাড়ি নিজ নামে ও স্ত্রীর নামে বাগেরহাটের ফকিরহাটে কয়েক একর জমি কিনেছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১৩ এপ্রিল তালায় যোগদানের পর থেকে উপজেলার শতাধিক নিয়োগ তার আমলে দেওয়া হয়েছে। ঈদের ছুটির আগে ডুমুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সোনার বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে তেরছি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সৈয়দ দিদার বখত মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলাগাছি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সুজন শাহ বালিকা বিদ্যালয়, ইসলামকাটি পিএন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ইসলামকাটি বালিকা বিদ্যালয়, কুমিরা পাইলট বালিকা বিদ্যালয়, পাটকেলঘাটা আদর্শ বিদ্যালয়, বারাত মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কাশিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাগুরা বালিকা বিদ্যালয়, তালা পাবলিক স্কুল, কৃষ্ণকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খলিল নগর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খলিল নগর বালিকা বিদ্যালয়, কৃষ্ণকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খেরশা বালিকা বিদ্যালয়, ঘোষ নগর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মহান্দি প্রগতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, জেএনএ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, এইচএমএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি টাকা।
তালা উপজেলার এক শিক্ষক নেতা জানান, ফিরোজ আহমেদ তালায় যোগদানের পর থেকে তালা শিক্ষা অফিস দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। নতুন প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করতে গুনতে হয় মোটা অঙ্কের ঘুষ। দাবি মতো টাকা না দিলে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের পড়তে হয় তার রোষানালে। এছাড়া পে স্কেল পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে তাকে গুনতে হয় ঘুষ। সবকিছু মিলিয়ে তালা উপজেলা শিক্ষা অফিস এখন ঘুষ বাণিজ্যের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। শুক্রবার তালার এইচএমএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নিয়োগে বাধা প্রদান করে স্থানীয়া। পরে ঘুষ ভাগাভাগির মাধ্যমে দুপুর দেড়টায় সেই নিয়োগ সম্পন্ন হয়।
তালা উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সজিব উদ্দৌলা জানান, এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বারবার কথা বলছেন। কোনো লাভ হয়নি। খুব শিগগিরই এই শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দেবেন বলে জানান তিনি।
অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, নিয়োগ বিধি মোতাবেক হয়। ঘুষের টাকার কথার কোনো ভিত্তি নেই। টাকা নেওয়া বিদ্যালয় কমিটির বিষয়। এখানে ৫ জন প্রতিনিধি থাকে। আমার একার কোনো ক্ষমতা নেই।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহজান কবির জানান, নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে তার কোনো কর্তৃত্ব নেই। এখানে জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধিসহ নিয়োগ বোর্ডের কর্মকর্তারা জড়িত থাকে। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান তিনি।