× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বাপার সভা

আলতাদীঘির হারানো ঐতিহ্য ফেরানোর দাবি

নওগাঁ প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৪ ২২:৫২ পিএম

আপডেট : ২৩ জুন ২০২৪ ২২:৫৮ পিএম

আলতাদীঘির হারানো ঐতিহ্য ফেরানোর দাবি

নওগাঁর আলতাদীঘি শালবন জাতীয় উদ্যানের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম ও পরিবেশবান্ধব প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আলোচনা সভা করা হয়েছে। শনিবার (২২ জুন) বিকালে নওগাঁ শহরের ঐতিহ্যবাহী প্যারীমোহন লাইব্রেরি মিলনায়তনে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এই সভার আয়োজন করে।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ২০১১ সালে জাতীয় উদ্যান ঘোষণার পর থেকে আলতাদীঘি জাতীয় উদ্যানে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। কিন্তু সেসব প্রকল্প শুধুই মানুষের মনোরঞ্জনের জন্য নেওয়া হয়েছে। প্রকৃতি, বন বা বন্যপ্রাণীর জন্য কোনো উপকারেই আসেনি।অপরিকল্পিতভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পদক্ষেপ নেওয়ায় শালবন ও বন্যপ্রাণীর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। হারিয়ে যাওয়া সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার দাবি তুলে ধরেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাপা নওগাঁ জেলা শাখার সভাপতি মুকুল চন্দ্র কবিরাজ। আরও বক্তব্য দেন নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আব্দুল করিম, বাপা কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, একুশে পরিষদের সভাপতি ডিএম আব্দুল বারি, সহসভাপতি নাইস পারভীন, বিশিষ্ট সাংবাদিক রায়হান আলম, এমআর রকি ও শফিক ছোটন। এ ছাড়া পরিবেশকর্মী, বৃক্ষপ্রেমী, গবেষক, স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন। 

বিভিন্ন সময় আলতাদীঘি ও শালবনে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলো পরিবেশবান্ধব নয় উল্লেখ করে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বক্তারা। বাপার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, প্রতিনিয়ত পরিবেশ ধ্বংস করা হচ্ছে। আশঙ্কাজনক হারে উজাড় করা হচ্ছে বনভূমি। নওগাঁর আলতাদীঘি একটি প্রাকৃতিক শালবন। জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হলেও যথাযথভাবে সংরক্ষণের অভাবে আজ অস্তিত্ব সংকটে। বর্তমান অবস্থায় উদ্বেগ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

পরিবেশকর্মী নাইস পারভীন বলেন, সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতায় প্রায়ই আগুনে পুড়ছে আলতাদীঘি শালবন। কিন্তু এর প্রতিকারে বন বিভাগ কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আজ পর্যন্ত আগুন লাগার কোনো ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। দীঘি খননের সময় ইউকিলিপটাস ও আকাশমণি গাছ কাটার কথা বলা হলেও প্রাকৃতিক শালবনের কয়েকশ শালগাছ বিনষ্ট ও কাটা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

একুশে পরিষদের সভাপতি ডিএম আব্দুল বারি বলেন, খোদ বন বিভাগের কর্মকাণ্ডে বর্তমানে চরম সংকটে আলতাদীঘি শালবন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আব্দুল করিম বলেন, খননের আগে আলতাদীঘিতে যেসব মাছ, জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণী ছিল, সেগুলো বিকল্প স্থানে সংরক্ষণ করা উচিত ছিল। আলতাদীঘি শালবনের ক্ষতি পূরণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করেন বক্তারা।

আলতাদীঘিতে চলমান উন্নয়ন প্রকল্প ও পরিবেশবান্ধবতা তুলে ধরেন বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রফিকুজ্জামান শাহ ও বন সংরক্ষক আমিনুল ইসলাম। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় আলতাদীঘির গভীরতা কমে এসেছে। ফলে সেখানকার প্রকৃতি, বন্যপ্রাণী ও পরিবেশে সংকট তৈরি হয়েছে। তাই পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, দীঘির দক্ষিণ পাশে একটি সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ার, পূর্ব পাশে অতিথিশালা, বন বিভাগের অফিস নির্মাণসহ পর্যটকদের জন্য বেশ কিছু সুবিধা করা হচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হাতে নেওয়া হয়েছে। পরিবেশ, বন ও বন্যপ্রাণীর কোনো ক্ষতি হবে না বলে দাবি করেন তারা। 

বন কর্মকর্তারা বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের শুরুতেই দীঘির চারপাশ থেকে সামাজিক বনায়নের ১ হাজার ২টি ইউকিলিপ্টাস ও আকাশমণি গাছ কাটা হয়েছে। দীঘি পুনঃখননের পর দেশীয় প্রজাতির ৫ হাজার ফলের গাছ রোপণ করা হয়েছে।

আগুনে কিছু শালগাছের ক্ষতি হয়েছে স্বীকার করে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রফিকুজ্জামান শাহ বলেন, বিগত দিনে ধূমপায়ীদের মাধ্যমে বনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী দিনে যাতে কেউ বনের ক্ষতিসাধন করতে না পারে, সেদিকে কড়া নজর রাখা হয়েছে।

চলমান প্রকল্প বাস্তবায়নের পর বন থেকে বেতগাছ সরিয়ে ফেলা হবে। এ ছাড়া নতুন করে বিভিন্ন ফাঁকা জায়গায় বৃক্ষরোপণ করা হবে। ফলে আলতাদীঘি শালবনে খুব শিগগিরই সুন্দর পরিবেশ গড়ে উঠবে বলে দাবি করেন তারা।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা