সিলেট অফিস
প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৪ ১৮:০৪ পিএম
আপডেট : ২৩ জুন ২০২৪ ১৯:০০ পিএম
কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর। সংগৃহীত ফটো
পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে সৃষ্ট সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সব নদ-নদীর পানির বিপদসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। খুলে দেওয়া হয়েছে গোয়াইনঘাটের জাফলং ও রাতারগুলসহ জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলো। এক সপ্তাহ পর রবিবার (২৩ জুন) থেকে পর্যটকরা আবার ভ্রমণ করতে পারছেন দর্শনীয় স্থানগুলোতে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শর্তজুড়ে দিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পর্যটকরা এসব শর্ত মেনে ঘুরার সুযোগ পাবেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তৌহিদুল ইসলাম জানান, শুক্র ও শনিবার গোয়াইনঘাটের সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসনের একটি টিম জাফলং পরিদর্শন করেন। সেখানকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পর্যটন কেন্দ্রটি চালু করার সিদ্ধান্ত নেয় উপজেলা পর্যটন কমিটি। এজন্য ব্যবসায়ী, নৌকা চালক-মালিক, ট্যুরিস্ট পুলিশ, থানা পুলিশ এবং উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণের কারণে সিলেটের সব নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। একই সঙ্গে বন্যায় জেলার ১০ লাখের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। প্রায় ২৯ হাজারের মতো বাসিন্দা বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নেন। এমতাবস্থায় নিরাপত্তার স্বার্থে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় পর্যটনকেন্দ্রগুলো এক সপ্তাহের মতো বন্ধ ছিল। বন্যার পানি কমে যাওয়ায় এবং পাহাড়ি ঢল বন্ধ হওয়ায় পর্যটনকেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তাজনিত নানা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনাগুলো হলো, নৌকায় লাইফ জ্যাকেট থাকতে হবে; পর্যটকদের লাইফ জ্যাকেট পরিয়ে ঘাট থেকে নৌকা ছাড়তে হবে; পর্যটকরা কিছুতেই পানিতে নামতে পারবেন না বা পানিতে নেমে সাঁতার কাটতে পারবেন না; ভরা বর্ষা মৌসুমে পর্যটকরা শিশু ও বাচ্চাদের নিয়ে যাতে না আসেন সে বিষয়ে তাদের নিরুৎসাহিত করা হলো; পর্যটকরা নৌকায় উঠে হই-হুল্লোড় করবেন না, নৌকায় উঠে সুশৃঙ্খলভাবে বসে থাকবেন; বিশেষকরে পিয়াইন নদীর পানির গভীরতা ও স্রোত বিবেচনায় সাঁতার জানে না এবং ১২ বছরের কম বয়সিদের নিয়ে জাফলং পর্যটনকেন্দ্রে নৌকায় চলাচল করা যাবে না এবং মাঝিরা পর্যটকদের সঙ্গে ভালো আচরণ করবেন ও আবহাওয়া পরিস্থিতি অবনতি হলে পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকবে।
এসব নির্দেশনা না মানার কারণে কোনো ধরনের দুর্ঘটনার ঘটলে কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন
সিলেটের উল্লেখযোগ্য পর্যটনকেন্দ্রগুলো হলো, গোয়াইনঘাটের জাফলং, রাতারগুল, বিছনাকান্দি ও সংগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণা, কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর, জৈন্তাপুরের লালাখাল, পান্থুমাই, ডিবির হাওর এবং কানাইঘাটের লোভাছড়া।