সেন্টমার্টিন ঘিরে উদ্বেগ
টেকনাফ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৪ ১৪:২৮ পিএম
আপডেট : ১৬ জুন ২০২৪ ১৪:৩৭ পিএম
সেন্টমার্টিন পরিদর্শন করেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। প্রবা ফটো
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সেন্টমার্টিন দ্বীপসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্ত পরিদর্শন করেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। এসময় তিনি মিয়ানমার সীমান্তে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিবি সদস্যদেরকে সদা তৎপর থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
রবিবার (১৬ জুন) দুপুর ১২টার দিক বিজিবির সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো.শরীফুল ইসলাম (পিবিজিএমএস) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সাম্প্রতিককালে মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের সীমান্তবর্তী মংডু অঞ্চলে মিয়ানমার সেনাবাহিনী এবং সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। মিয়ানমারের মংডু সীমান্তের বিপরীতে বাংলাদেশের টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন দ্বীপ সীমান্তে হওয়ায় উদ্ভূত সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন বিজিবি মহাপরিচালক। এসময় তিনি টেকনাফ ব্যাটালিয়ন ২-বিজিবির অধীনে থাকা সেন্টমার্টিন দ্বীপ বিওপি পরিদর্শন, বিওপির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপে নির্মাণাধীন বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেছেন।
শরীফুল ইসলাম জানান, এই দ্বীপে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দক্ষতা ও সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য বিজিবি মহাপরিচালক সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। একইসঙ্গে মিয়ানমার সীমান্তে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবে লায় বিজিবি সদস্যদেরকে সদা তৎপর থাকার নির্দেশ দেন।
পরে মহাপরিচালক বিজিবি রামু সেক্টর সদর দপ্তর, রামু ব্যাটালিয়ন (৩০ বিজিবি) সদর এবং মরিচ্যা যৌথ চেকপোস্ট পরিদর্শন করেন। এ সময় বিজিবি মহাপরিচালক সীমান্তের দায়িত্বরত সব পর্যায়ের বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
মতবিনিময়ে সীমান্তে দায়িত্বরত সব পর্যায়ের বিজিবি সদস্যেরকে দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত সুরক্ষার জন্য অপারেশনাল, প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন মহাপরিচালক।
পরিদর্শনকালে বিজিবি মহাপরিচালকের সঙ্গে বিজিবি সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার, রামু সেক্টর কমান্ডার ও সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়নসমূহের অধিনায়করাসহ বিজিবির অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
টানা সাড়ে তিন মাস ধরে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে দেশটির স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির লড়াই চলছে। সম্প্রতি মংডু টাউনশিপের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে দুটি শহরসহ, সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) ১৪ টি সীমান্তচৌকি, রাচিডং-বুচিডং টাউনশিপের বেশ কয়েকটি থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি দখলে নিয়েছে আরাকান আর্মি। এখন মংডু দখলের জন্য লড়ছে তারা।
এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে সেন্টমার্টিনগামী ট্রলার লক্ষ্য করে গুলির ঘটনা ঘটে। আতংকে সাত দিন টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে সেন্টমার্টিনে খাদ্য সংকটের আশংকা দেখা দেয়। তবে সম্প্রতি প্রশাসনের নিরাপত্তায় এই রুটটিতে নৌযান চলাচল করছে।