র্যাবের অভিযান
কক্সবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৪ ১৭:২৩ পিএম
আপডেট : ১৪ জুন ২০২৪ ১৭:৩৬ পিএম
আরসা কমান্ডারকে গ্রেপ্তারের পর অস্ত্রটি জব্দ করেছে র্যাব। প্রবা ফটো
মিয়ানমার থেকে ২০১৭ সালে যখন রোহিঙ্গাদের ঢল নামে, সে সময় বাংলাদেশে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছিল মো. জাকারিয়া। পরিবার নিয়ে আশ্রয় পান কক্সবাজারে উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পে। সুযোগের অপব্যবহার কাকে বলে– গত সাত বছরে অহরহ দেখিয়েছেন জাকারিয়া। সংঘর্ষ, অপহরণ, চাঁদাবাজি, অস্ত্রের কারবার– এমনকি হত্যাকাণ্ড; রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপরাধের ডালে ডালে চড়ে বেড়িয়েছেন তিনি। হয়ে উঠেছেন স্বদেশ মিয়ানমারের সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) গান গ্রুপ কমান্ডার। সম্প্রতি নাশকতার উদ্দেশে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়ে আসেন দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যবহৃত অস্ত্র।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (১৪ জুন) ভোরে বালুখালীর ১০ নম্বর ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে জাকারিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন। দুপুরে কক্সবাজার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন র্যাব-১৫ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচএম সাজ্জাদ হোসেন।
তিনি জানান, জাকারিয়া আরসার গান গ্রুপ কমান্ডার। র্যাবের কাছে তথ্য ছিল– সম্প্রতি তিনি নাশকতার উদ্দেশে পার্শ্ববর্তী দেশে থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্ত্র নিয়ে এসেছেন। এ সূত্র ধরে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাকারিয়া জানিয়েছে– সন্ত্রাসী সংগঠন আরসার গান গ্রুপ কমান্ডার হিসেবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কিলিং মিশন বাস্তবায়নে তিনি ভূমিকা পালন করেন। মিশনে ব্যবহারের অস্ত্র পালংখালী ইউনিয়নের ঘাটি বিলে লুকিয়ে রেখেছিলেন তিনি। তার দেওয়া তথ্যে সেখানে অভিযান চালিয়ে একটি জি-থ্রি রাইফেল ও পাঁচ রাউন্ড গুলি জব্দ করতে সক্ষম হয় র্যাব। জব্দ করা ভারী আগ্নেয়াস্ত্রটি মিয়ানমারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবহার করে।

ঢলের সময় ক্যাম্পে আরসা সদস্য
স্বদেশে নির্যাতনের শিকার হয়ে সীমান্ত পেরিয়ে ২০১৭ সালে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়াদের মধ্যে একজন এই আরসা সদস্য জাকারিয়া– জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য উল্লেখ করে র্যাব কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মিয়ানমারে থাকা অবস্থায় আরাসায় যোগ দিয়েছিলেন জাকারিয়া। স্বদেশে বসবাস করা অবস্থায় সন্ত্রাসী সংগঠনটির শীর্ষ কমান্ডার আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনির সঙ্গে তার সু-সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। ২০১৭ সালে এখানে আসার পর ১০ নম্বর ক্যাম্পে স্বপরিবারে বসবাস শুরু করেন জাকারিয়া। এখানে আসার পর তিনি আরসার বার্তাবাহক/সংবাদদাতা হিসেবে সংগঠনের কার্যক্রমে জড়িত হন। পরে গান গ্রুপের সক্রিয় সদস্য হিসেবে আবির্ভুত হন। সন্ত্রাসী সংগঠনটি থেকে ২০২৩ সালের শেষ দিকে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় ১০ নম্বর ক্যাম্পের এফ/১৭ ব্লক গান গ্রুপের কমান্ডার হিসেবে।
যৌথ অভিযানের মুখে পলায়ন
লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আরসা কমান্ডার জাকারিয়া অস্ত্র পরিচালয় দক্ষ। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে ১০ নম্বর ক্যাম্পের এফ/১৭ ব্লকে অপহরণ, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি ও সাধারণ রোহিঙ্গাদের নির্যাতনসহ নানা অপরাধ চলে জাকারিয়ার নেতৃত্বে। এর মধ্যে মাদকবিরোধী যৌথ অভিযানের সময় আরসা সন্ত্রাসীদের হামলায় গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর ক্যাম্পে তৎপরতা বৃদ্ধি করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তখন মিয়ানমারে পালিয়ে যান জাকারিয়া। সেখানে কিছু দিন অবস্থান নিয়ে আবার বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেন। তার নেতৃত্বে ক্যাম্পে আবারও শুরু হয় কিলিং মিশন ও অপরাধমূলক কর্মকান্ড।
একাধিক মামলা-কারাভোগ
র্যাব কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে– ক্যাম্পে নাশকতা, মারামারি, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি, অপহরণ, অস্ত্রের কারবার, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে কিলিং মিশন বাস্তবায়ন করতেন জাকারিয়া। উখিয়া থানার একাধিক অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত তিনি। গ্রেপ্তার হয়ে দুইবার কারাভোগও করতে হয়েছিল তাকে। এবার তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দিয়ে উখিয়া থানায় হস্তান্তর করেছে র্যাব।