কক্সবাজার অফিস
প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৪ ১৬:১৮ পিএম
আপডেট : ১৪ জুন ২০২৪ ১৭:১২ পিএম
নাফ নদে থাকা বড় জাহাজটি থেকে স্থলে গুলি করা হচ্ছে। প্রবা ফটো
মিয়ানমারের সীমান্তের ওপার থেকে রাতভর মর্টার শেল ও গ্রেনেড বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা গেছে। সীমান্তের ওপার থেকে ভেসে আসা সেই শব্দে টেকনাফ সীমান্ত এলাকার মানুষ আতঙ্কে ঘুমাতে পারেনি। তবে রাতে ঘুমাতে না পারলেও সকাল থেকে পরিস্থিত শান্ত রয়েছে। নেই কোনো বিস্ফোরণের শব্দ। তবে এখনও একই স্থানে মিয়ানমারের সেই জাহাজটি রয়ে গেছে। যে জাহাজ থেকে মিয়ানমারের স্থলে গুলি করা হচ্ছে। এসব তথ্য জানিয়েছে সীমান্তের বাসিন্দারা।
সীমান্তের লোকজন জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত থেমে থেমে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মর্টার শেল ও গ্রেনেড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এতে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ ও সেন্টমার্টিনের সীমান্ত এলাকা কম্পন সৃষ্টি হয়েছে। রাতভর ঘুমাতে পারেনি সীমান্তের এসব লোকজন। তবে আজ শুক্রবার (১৪ জুন) ভোর থেকে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ভোর থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত আর কোনো শব্দ পাওয়া যায়নি। তবে নাফ নদের ওপারে মিয়ানমার সীমান্তে এখনও অবস্থান করছে দেশটির সেই জাহাজ। যে জাহাজ থেকে মিয়ানমারের স্থলে গুলি করা হচ্ছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আদনান চৌধুরী জানিয়েছেন, গত বুধবার রাত থেকে মিয়ানমার সীমান্তে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। শুক্রবার সকাল থেকে তা শোনা যাচ্ছে না। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলি তাদের নিজস্ব ব্যাপার। তবে নাফ নদের মিয়ানমার অংশে একটি বড় জাহাজ অবস্থান করায় আপাতত এ নৌপথ দিয়ে সেন্টমার্টিন যাতায়াত বন্ধ রাখা হয়েছে। সার্ভিস ট্রলারগুলো বিকল্প পথে সেন্টমার্টিন যাতায়াত করছে।
টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ মিস্ত্রি পাড়ার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আমিন জানিয়েছেন, বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দে আতঙ্কের মধ্যে রাত কাটা হচ্ছে। মিয়ানমারের কিছু কিছু এলাকা থেকে আগুনের ধোঁয়া উড়তেও দেখা গেছে। বিস্ফোরণের শব্দের সঙ্গে সঙ্গে কম্পন সৃষ্টি হয়। এতে রাতভর জেগে থেকে কাটাতে হয়েছে।
গত বুধবার রাত থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শুরু হয় বলে জানান সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ৩টা পর্যন্ত থেমে থেমে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কিন্তু শুক্রবার ভোর থেকে আর কোনো শব্দ পাওয়া যাচ্ছে না। রাতভর আতঙ্কে কেটেছে।
বুধবার দুপুর থেকে নাফ নদের টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মৌলভীপাড়ার বিপরীতে মিয়ানমারের নিকটবর্তী দেখা মিলে একটি বড় আকারের জাহাজ। এরপর বুধবার রাত ৯টা থেকে এপারে ভেসে আসতে থাকে বিস্ফোরণের বিকট শব্দ। যে শব্দ টানা ৩ ঘণ্টা ধরে বিকট আকারে সীমান্তের লোকজন শুনেছে। এরপর থেমে থেমে শব্দ শোনা গেছে রাতভর। বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত আবারও শোনা গেছে এই বিকট শব্দ। বৃহস্পতিবার সকালের পর সেই বড় জাহাজটি দক্ষিণ দিকে সরে গিয়ে বর্তমানে টেকনাফের নাফ নদ ও বঙ্গোপসাগরের নাইক্ষ্যংদিয়া পয়েন্টে অবস্থান করতে দেখা যায়। সেই জাহাজ থেকে মিয়ানমারের স্থলভাগে থেমে থেমে গোলাগুলি ও মর্টার শেল বর্ষণের শব্দ অব্যাহত ছিল। শুক্রবার সকাল থেকে বিস্ফোরণের শব্দ বন্ধ রয়েছে। তবে ওই স্থানে দাঁড়িয়ে আছে জাহাজটি।
সীমান্তের একাধিক সূত্র জানায়, টানা সাড়ে তিন মাস ধরে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে দেশটির স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির লড়াই চলছে। সম্প্রতি মংডু টাউনশিপের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে দুটি শহরসহ, সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) ১৪ টি সীমান্তচৌকি, রাচিডং-বুচিডং টাউনশিপের বেশ কয়েকটি থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি দখলে নিয়েছে আরাকান আর্মি। এখন মংডু দখলের জন্য লড়ছে তারা।