মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৪ ১০:১৯ এএম
আপডেট : ১৩ জুন ২০২৪ ১৭:৫৩ পিএম
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার রৌহা গ্রামে এরশাদের খামার। আলী হোসেন মিন্টু
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের রৌহা গ্রামের জেসি এগ্রো ফার্ম। এ খামারে চোখে পড়বে নানান জাতের গবাদিপশু। প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে সেখানে কোরবানির জন্য মোটাতাজা করা হয়েছে ষাঁড়, মহিষ ও গয়াল। প্রতি বছর কোরবানির ঈদ সামনে রেখে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গরুর হাট বসে। তবে অনেক ক্রেতা খামার থেকেই পশু কিনতে পছন্দ করেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৯ সালে শখের বশে ২০টি গরু নিয়ে জেসি এগ্রো ফার্ম শুরু করেন এরশাদ উদ্দিন। সেই খামার থেকে এবার কোরবানির ঈদে ২০০টি গরু বিক্রি জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
সরেজমিনে এরশাদ উদ্দিনের খামার ঘুরে দেখা যায়, খামারে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে উন্নত জাতের গরু। গরুগুলো মোটা, তরতাজা ও বিভিন্ন রঙের। বেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে লালনপালন করা হচ্ছে গরু। এসব গরু কিশোরগঞ্জসহ আশপাশের ঈদের হাটে বিক্রি করা হবে। এখন থেকেই খামারে গরু দেখতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। এরই মধ্যে ১৪০টি গরু পছন্দ করে অগ্রিম বুকিং দিয়েছেন ক্রেতারা।
বাংলাদেশ মিলস্কেল রি-প্রসেস অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও জেসি এগ্রো ফার্মের চেয়ারম্যান এরশাদ উদ্দিন বলেন, ব্যবসার সুবাদে পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকি। গ্রামের বাড়িতে একটি খামার করার স্বপ্ন ছিল অনেক দিন ধরেই। ২০টি গরু দিয়ে খামার শুরু করি। প্রাকৃতিক খাবার ও মনোরম পরিবেশে খামারের পশুগুলো দ্রুত বেড়ে উঠছে দেখে নিজের কাছে অনেক ভালো লাগে। খামারে প্রায় ৪০০ পশু রয়েছে। এবার কোরবানি ঈদে ২০০টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। খামার থেকে কোটি টাকার ওপরে মুনাফার আশা করছি।
খামারের তত্ত্বাবধানে থাকা হোসাইন মোহাম্মদ রিয়াদ বলেন, ভুট্টা দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি প্রাকৃতিক খাবার, সাইলেস খেতে দেওয়া হয় গরু-মহিষকে। কৃষকদের কাছ থেকে গাছসহ ভুট্টা কিনে খামারেই বানানো হয় এ পশুখাদ্য। ফলে এসব প্রাণী লালনপালনেও খরচ পড়ছে অনেক কম। খামারের দেখভালের দায়িত্বে আছেন ২০ জন শ্রমিক।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র পণ্ডিত বলেন, জেসি এগ্রো ফার্ম করিমগঞ্জের সবচেয়ে বড় খামার। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্পূর্ণ দেশি খাবার ব্যবহার করা হয়। খামারের গরুর মাংস স্বাস্থ্যসম্মত। আশা করছি ফার্মটি অর্থনৈতিক ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে আরও ভূমিকা রাখবে।
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানান, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে জেলার ১৩টি উপজেলায় এ বছর কোরবানি পশুর চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৯৩৩। সব মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ৯৯ হাজার পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।