নুপা আলম, কক্সবাজার
প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৪ ০৮:৪৩ এএম
আপডেট : ১৩ জুন ২০২৪ ১৭:৫৬ পিএম
বেশি দিন হয়নি, গত বছরের শেষ দিকে কক্সবাজারবাসীর দীর্ঘদিনের আবেগ-প্রত্যাশা ও স্বপ্নের ট্রেন বাস্তবের রেলপথে চলতে শুরু করে। ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রেলপথটি গত বছরের ১১ নভেম্বর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনের পর গত বছরের ১ ডিসেম্বর ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ এবং চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ চলাচলের মধ্য দিয়ে শুরু হয় রেলপথে কক্সবাজার-ঢাকা সরাসরি যাত্রী পরিবহন।
এরপর গত ৮ এপ্রিল থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চালু হয় বিশেষ একটি ট্রেন। যেটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়ার পরও গত ৩০ মে বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে টানা ১২ দিন বন্ধ থাকার পর বুধবার (১২ জুন) থেকে আবারও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে এই বিশেষ ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। এর ফলে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনে। আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে যাত্রীমহলে। কিন্তু তারা এ-ও মনে করছেন, এই রেলপথকে অজনপ্রিয় ও অকার্যকর করে তুলতে একটি মহল এখনও তৎপর রয়েছে।
কারণ রেল কর্তৃপক্ষ আগেই জানিয়েছে, স্পেশাল ট্রেনটি ঈদুল আজহা-পরবর্তী এক সপ্তাহ বা ২৪ জুন পর্যন্ত চলাচল করবে। যাত্রীরা বলছেন, চাহিদা থাকার পরও ট্রেনটিকে বারবার সাময়িকভাবে চালু করা হচ্ছে, যা যাত্রীস্বার্থের পরিপন্থি। তারা বলছেন, বন্ধ না করে এটি ধারাবাহিক করা হোক। পাশাপাশি একাধিক নতুন ট্রেনও চালু করা হোক। যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই যাতায়াত করতে পারে।
শুধু কক্সবাজারবাসীই নন, অর্থনীতিবিদ-নীতিনির্ধারকরাও মনে করেন, ঢাকা-কক্সবাজার রেলপথে ট্রেন চলাচল যত বাড়বে, যাতায়াত-যোগাযোগ ও শিল্পবাণিজ্যে ততই আমূল পরিবর্তন ঘটবে। এর ফলে স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতি সচল এবং গতিশীল হয়ে উঠবে। বাড়বে কক্সবাজারে পর্যটকের আগমন, বিকশিত হবে পর্যটন শিল্প। এটা না হলে ১৮ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় অর্থহীন হয়ে যাবে।
ইতোমধ্যে ঢাকা-কক্সবাজারের মধ্যে দুটি ট্রেন সার্ভিস চলাচল শুরু হয়েছে। এর ফলে শুধু যোগাযোগ-পরিবহনের ক্ষেত্রে নয়, অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও ব্যাপক সচলতা এসেছে। পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে। তবে গত এপ্রিলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের জন্য চালু হওয়া স্পেশাল ট্রেন সার্ভিসটিকে বন্ধ করে দেওয়ার পর কক্সবাজারবাসী শঙ্কিত হয়ে ওঠেন। এরপর থেকে এই আলোচনা-সমালোচনা পল্লবিত হতে থাকে যে, ট্রেন চালু হওয়ার পর বাসের ভাড়া কমিয়েও সুবিধা করতে না পারায় বাসমালিকরা সিন্ডিকেট করে ট্রেনযাত্রা ব্যাহত করতে চাইছেন। এমন প্রেক্ষাপটে কক্সবাজার রেলকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার এবং ট্রেনে যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, টিকিটের সহজলভ্যতা এবং এই রুটে ট্রেন সার্ভিস বাড়ানোর দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।
আবারও শুরু হয়েছে বিশেষ ট্রেন চলাচল
গতকাল বুধবার সকাল সাতটায় চট্টগ্রাম থেকে যাত্রা শুরু করে শত ভাগ যাত্রী নিয়ে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনে এসে পৌঁছে বিশেষ ট্রেন। স্টেশন মাস্টার মো. গোলাম রব্বানি বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, ‘স্পেশাল এ ট্রেনটি সকাল সাতটায় চট্টগ্রাম থেকে যাত্রা করে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে কক্সবাজারে এসেছে। এখান থেকে এ ট্রেনটি সন্ধ্যা সাতটায় যাত্রী নিয়ে রওনা হবে এবং রাত ১০টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম গিয়ে পৌঁছবে।’ তিনি জানান, এ ট্রেনটি ২৪ জুন পর্যন্ত চলাচল করবে।
উল্লেখ্য, ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে ট্রেন চালুর পর গত ঈদুল ফিতরের সময় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে বিশেষ একটি ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা করে রেল বিভাগ। গত ৮ এপ্রিল থেকে চালু হওয়া এই ট্রেন মাত্র দুই মাসের মাথায় বন্ধ করে দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ জানায়, ইঞ্জিন ও লোকো মাস্টার সংকটের কারণে ট্রেনটি বন্ধ করা হয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, বাসমালিকদের চাপেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
যাত্রীসহ সচেতন মহল বলছেন, বছরের পর বছর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার যাতায়াতে সড়কই ছিল একমাত্র পথ। এখানে বিমান এবং নৌযোগাযোগ নেই। সময় ও অর্থসাশ্রয়ী, নিরাপদ ও আরামদায়কÑ এসব বিবেচনায় ট্রেনের এই স্পেশাল সার্ভিস তাই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের দূরত্ব সড়কপথে ১৪৫ কিলোমিটার। যেখানে বাসে সময় লাগে পাঁচ ঘণ্টার কাছাকাছি। নন-এসি বাসে ৪২০ টাকা, এসি বাসে ১ হাজার টাকা ভাড়া নেওয়া হয়। এর বিপরীতে ট্রেনে নন-এসি শোভন চেয়ারের ভাড়া ২৫০ টাকা, এসি স্নিগ্ধা চেয়ারের ভাড়া ৪৭০ টাকা। ট্রেনে যেতে সময় লাগে ৩ ঘণ্টা ২০ মিনিট।
প্রাপ্ত তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে ঢাকা-কক্সবাজারের মধ্যে চালু থাকা দুটি ট্রেনে চট্টগ্রামের জন্য বরাদ্দ মাত্র ২৩০টি সিট। অর্থাৎ প্রতিদিন দুটি ট্রেনে যাতায়াত করতে পারে চট্টগ্রামের ২৩০ জন যাত্রী। কিন্তু চট্টগ্রাম-কক্সবাজার স্পেশাল ট্রেনে আসন ছিল ৭০৫টি।
রেল কর্তৃপক্ষের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই ট্রেন মাত্র দুই মাসেই লাভজনক হয়ে ওঠে। ৮ এপ্রিল চালু হওয়া এই ট্রেন থেকে ৫ মে পর্যন্ত মোট ২৫ দিনে ৫১ লাখ ২৫ হাজার ৩৬২ টাকার রাজস্ব আয় হয়। অর্থাৎ প্রতিদিন আয় হয় দুই লাখ টাকার বেশি।
এরপরও ট্রেন সার্ভিসটি বন্ধ হয়ে গেলে এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী অভিযোগ করেন, ‘বাসমালিকদের প্রেসক্রিপশনে কক্সবাজার স্পেশাল ট্রেন বন্ধ করা হয়েছে।’
বিবৃতিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে যাত্রীরা যখন এই ট্রেনে নিয়মিত যাতায়াত করছিলেন, তখন সব বাস পরিবহনেই যাত্রী সংকট দেখা দিতে থাকে। বাসমালিকরা তখন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে যাত্রীপ্রতি বাস ভাড়া ১০০ টাকা পর্যন্ত কমিয়ে আনে। গত ২৭ মে প্রথম বাসভাড়া কমায় সৌদিয়া পরিবহন। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার পর্যন্ত তাদের সরাসরি বাসভাড়া ছিল নন এসি ৪২০ টাকা; এখন তা ৩৩০ টাকা। পুরবী পরিবহনও ভাড়া কমিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের টিকিট ৩২০ টাকায় বিক্রি করছে। এরপরই বন্ধ ঘোষণা করা হয় এই সার্ভিসটি।
এই নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে গতকাল বুধবার থেকে আবারও স্পেশাল ট্রেন চালুর কথা জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনের মাস্টার মো. গোলাম রব্বানি বলেন, ‘ভবিষ্যতে রেলপথে আরও সুযোগ-সুবিধা বাড়বে। ট্রেনের সংখ্যাও বাড়তে পারে। যাত্রীসেবার মান আরও বাড়ানোর ব্যাপারেও কর্তৃপক্ষ বেশ আন্তরিক রয়েছে।’
ট্রেনের যাত্রী ধারণক্ষমতা ও সার্ভিস বাড়ানোর দাবি
রেল কর্তৃপক্ষ বলছে, গত ছয় মাস ধরে ঢাকা-কক্সবাজারের মধ্যে চলাচলকারী ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ এবং ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ দুটি ট্রেন সার্ভিসে এক হাজার করে মোট দুই হাজার যাত্রী আসা-যাওয়ার সুযোগ ছিল। গত ১ জুন থেকে এই দুটি সার্ভিসে তিনটি করে কেবিন কোচ সংযুক্ত হয়েছে। ফলে আরও ১৫৩ যাত্রী আসা-যাওয়া করতে পারছে। এর মধ্যে কক্সবাজার এক্সপ্রেসে ৯৯টি সিট এবং রাতে চলাচলকারী পর্যটক এক্সপ্রেসে ৫৪টি সিট বেড়েছে।
‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ও ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ ট্রেনে ঢাকা-কক্সবাজার এসি (স্নিগ্ধা) ভাড়া ১ হাজার ৩২৫ টাকা এবং নন-এসি (শোভন চেয়ার) ভাড়া ৬৯৫ টাকা। এ ট্রেনে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ভাড়া এসি কক্ষে ৪৭০ টাকা এবং নন-এসিতে ২৫০ টাকা। আর কেবিনের প্রতি আসনের ভাড়া ভ্যাটসহ ২ হাজার ৪৩০ টাকা।
কিন্তু দুই ট্রেনে ২,১৫৩ জন যাত্রী আসা-যাওয়া পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করেন কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা।
তিনি বলেন, ‘দেশের অন্যান্য জেলার সঙ্গে কক্সবাজার জেলা মিলিয়ে ফেলা যাবে না। এ জেলাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। সমুদ্র শহরের পর্যটনকেন্দ্র, মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের কারণে জড়িত দেশি-বিদেশি এনজিও প্রতিনিধি ও বিদেশিদের আনাগোনা, মাতারবাড়ীর মেগা প্রকল্পসহ বিভিন্ন ধারাবাহিক উন্নয়ন কার্যক্রম কক্সবাজারকে আলাদা করে দিয়েছে। এখানে ট্রেনের আসন ও সংখ্যা বাড়ানো খুব জরুরি।’ যত ট্রেন এবং আসন বাড়ানো হবে, ততই রেল লাভজনক হবে বলে মনে করেন তিনি।
কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মো. মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী জানান, ‘কক্সবাজারের মানুষ এবং কক্সবাজারে আগত পর্যটকের কথা বিবেচনা করলে ট্রেনের সার্ভিস একেবারেই কম। সপ্তাহে ৬ দিন করে ঢাকা-কক্সবাজার রেলপথে দুটি সার্ভিস চালু আছে। ফলে কক্সবাজার রেললাইন নিয়ে জেলাবাসী যে স্বপ্ন দেখছেন, তা পূরণ হচ্ছে না। সড়কপথে বাস ভাড়ার কথা বিবেচনায় নিয়ে ট্রেনের প্রতি মানুষের আগ্রহ অনেক বেশি। সময়ের কথা বিবেচনা করলেও সবার পক্ষে বিমানে আসা-যাওয়া সম্ভব না। ট্রেনের প্রতি সবার আগ্রহ থাকায় এখানে সার্ভিস বাড়ানো খুবই জরুরি।
কক্সবাজারে আবাসিক হোটেল মোটেল গেস্ট হাউসের সংখ্যা পাঁচ শতাধিক মন্তব্য করে ‘কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাসেম সিকদার জানান, ‘কক্সবাজারে প্রতিদিন গড়ে এক লাখ পর্যটকের রাত্রি যাপনের সুযোগ আছে। অথচ ট্রেনের আসন দুই হাজারের মতোÑ যা নিঃসন্দেহে কম। যত ট্রেন আসবে, ততই পর্যটকের আগমন বাড়বে। ফলে পর্যটনসংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা পূরণ হবে।’
টিকিট ভোগান্তি, অথচ আসন ফাঁকা!
কক্সবাজার রেললাইনের উদ্বোধনের পর ১ ডিসেম্বর থেকে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। তারপর প্রথম সপ্তাহেই অভিযোগ ওঠে, ট্রেনের টিকিট কালোবাজারে বিক্রি হচ্ছে। এর জের ধরে আদালতের স্বপ্রণোদিত আদেশে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি রোধে মাঠে নামে র্যাব। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। যদিও টিকিট নিয়ে অভিযোগ এখনও আছে।
রেল কর্তৃপক্ষের নিয়ম মতে, প্রতিদিন সকাল ৮টায় ট্রেন সার্ভিসের ১০ দিন আগের টিকিট অনলাইনে আসে। অনলাইনে একজন তার এনআইডির বিপরীতে ৪টা করে টিকিট কাটতে পারেন। কিন্তু প্রায়ই অনলাইনে ট্রেনের টিকিট না পাওয়ার অভিযোগ করে থাকেন একাধিক যাত্রী।
কক্সবাজারের স্কুলশিক্ষক সাইফুল কবীর জানান, গত ৩১ মে ঢাকা যাওয়ার জন্য টানা ১০ দিন আগে থেকে দুটি ট্রেনে একাধিকবার চেষ্টা করেও টিকিট পাননি। ফলে বাধ্য হয়ে বাসেই ঢাকা যান তিনি।
অথচ একই দিন কক্সবাজার এক্সপ্রেসযোগে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় যাওয়া যাত্রী ব্যবসায়ী আসিফুল ইসলাম জানান, ‘ওইদিন ট্রেনে কম হলেও ৩ শতাধিক আসন খালি ছিল।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘এসব আসনের টিকিটের জন্য কি যাত্রী মেলেনি? নাকি এসব টিকিট বিক্রিই করা হয়নি?’ এমন পরিস্থিতির পেছনে কোনো ‘পরিকল্পিত চক্রান্ত’ও থাকতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বলেন, ‘কক্সবাজারের ট্রেনের টিকিট আরও সহজলভ্য করতে হবে। টিকিট অনলাইনে বিক্রির সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠান বা রেল কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাসমালিকদের সম্পর্ক নিয়ে নানা কথা শোনা যাচ্ছে। শূন্য আসন নিয়ে ট্রেনযাত্রা তারই অংশ কি না, সেটা অনুসন্ধান করা তাই খুবই জরুরি। একজন যাত্রী টিকিট পেলেন না, অনলাইনে শতভাগই বুকিং দেখানো হলোÑ অথচ ট্রেনে উঠে দেখা গেল, আসন শূন্য পড়ে আছে!’ বিষয়টি ভিন্ন কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
অবশ্য আইকনিক রেলস্টেশনের মাস্টার মো. গোলাম রব্বানী বলছেন, ‘কালোবাজারে টিকিট যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ট্রেনের টিকিট মূলত শতভাগই অনলাইনে নিয়ন্ত্রিত হয়। যা নিয়ন্ত্রণ করা হয় ঢাকা থেকে। ১০ দিন আগের টিকিট সকাল ৮টায় অনলাইনে আসে। প্রতিদিন সকাল ৮টায় টিকিটের জন্য লাখের বেশি মানুষ চেষ্টা করেন। আবার অনেকে টিকিট কেটে শেষ পর্যন্ত বাতিল করেন বা যান না। এখানে কোনো প্রকার অনিয়মের সুযোগ নেই। রেল কর্তৃপক্ষ কক্সবাজারের মান উন্নয়নে আন্তরিক।’