চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৪ ২২:৪৫ পিএম
আপডেট : ১৩ জুন ২০২৪ ১৭:৫৯ পিএম
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে এ বছরও কোরবানির পশু কম খরচে ঢাকা নেওয়ার ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। আলাদাভাবে ‘ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন’ চালু না হলেও ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেনে আলাদা ওয়াগনে কোরবানির পশু পরিবহন শুরু হয়েছে।
বুধবার (১২ জুন) বিকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে চতুর্থাবারের মতো ট্রেনে গরু পরিবহনের কার্যক্রম শুরু হয়। এদিন চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন থেকে চারটি ওয়াগনে ৮০টি কোরবানির পশু রাজধানী ঢাকায় পরিবহন করা হয়। এর মধ্যে ৭১টি গরু ও বাকি ৯টি ছাগল। এতে রেলওয়ের আয় হয় ৬১ হাজার ৮৮০ টাকা। বিশেষায়িত এ ট্রেন একটানা তিন দিন অর্থাৎ ১৪ জুন পর্যন্ত চালু রাখবে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা।
যমুনা সেতুর পরিবর্তে পদ্মা সেতু দিয়ে এবার ট্রেনটিতে গরু পরিবহন করা হবে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রতিদিন বিকাল ৪টায় ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে এই ট্রেন। যাত্রাপথে রহনপুর স্টেশন থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, আব্দুলপুর, ঈশ্বরদী, পোড়াদহ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও ভাঙ্গা স্টেশনসহ মোট ১৫টি স্টেশনে যাত্রাবিরতি নেবে বিশেষ এই ট্রেন। আম ও পশু পরিবহনকারী ট্রেনটি ঢাকায় পৌঁছাবে রাত ২টা ১৫ মিনিটে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, প্রথমবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ২০২১ সালের ১৭ জুলাই ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন চালু হয়। ট্রেনটি ১৯ জুলাই পর্যন্ত গরু পরিবহন করে। তিন দিন ধরে চলা এ ট্রেনটিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে কোরবানিযোগ্য পশু পরিবহন করা হয় মাত্র ৭৭টি, আয় হয় ৪৫ হাজার ৫৮৪ টাকা। ২০২২ সালের ৬ জুলাই দ্বিতীয়বারের মতো চালু হয় ক্যাটল ট্রেন। ২৩টি কোরবানির পশু পরিবহন করে রেলওয়ের আয় হয় ১১ হাজার ২৩৯ টাকা। ২০২৩ সালের ২৫ জুন তৃতীয়বারের মতো পশু পরিবহন শুরু হয়। একদিন চলা এই ট্রেনে ৪৬টি পশু পরিবহন করে রেলওয়ের আয় হয় ২৩ হাজার ৬৬০ টাকা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার ওবায়দুল্লাহ বলেন, চারটি ওয়াগনে এবার ৮১টি গরু-ছাগল ঢাকায় পাঠিয়েছেন খামারিরা। যমুনার পরিবর্তে পদ্মা সেতু দিয়ে ট্রেনটি যাওয়ায় গতবারের তুলনায় এবার ভাড়া বেড়েছে ৩ হাজার ৬৫০ টাকা।
এদিকে কম খরচে ঢাকায় পশু নিতে পেরে খুশি খামারিরা। শহিদুল ইসলাম নামে এক খামারি বলেন, কম খরচে ট্রেনে ঢাকায় গরু পরিবহন করতে পেরে আমি খুশি। লাখ টাকা দিয়ে ট্রাক ভাড়া করে ২০-২২ ঘণ্টা পর গরু পৌঁছাবে ঢাকায়। এতে সময়ও লাগে বেশি, টাকাও গুনতে হয় বেশি। অন্যদিকে ট্রেনে গাদাগাদি ছাড়া ঢাকায় গরু পরিবহন করা যায়। এতে গরুর কষ্ট হয় না, শারীরিকভাবে জখম হওয়ার তো প্রশ্নই আসে না।