বরগুনা সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৫ নভেম্বর ২০২২ ১৭:১২ পিএম
আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০২২ ১৭:৫৫ পিএম
মায়ের (বামে) সঙ্গে সিডর বেবি মারিয়া (ডানে)। সম্প্রতি তোলা ছবি।
‘অভাবের কারণে লেখাপড়া বন্ধ করে আমাকে বিয়ে দিয়েছে। আমার স্বামী মাছ ধরে যা রোজগার করে তা দিয়ে মা-বাবার সঙ্গে থেকেই খাই। আমার লেখাপড়াটা যদি কেউ চালিয়ে নিত তবে আমি অনেক বড় হতে পারতাম। এই বয়সে আমাকে সংসার করতে হতো না।‘
কথাগুলো বলছিলেন ‘সিডর বেবি’ হিসেবে পরিচিত মারিয়া। ১৫ বছর আগে তার জন্ম। সেবছর (২০০৭ সাল) আঘাত হেনেছিল ঘূর্ণিঝড় সিডর।
পাথরঘাটার বলেশ্ব নদীর পাড়ে পদ্মা গ্রামে মা-বাবার সঙ্গে মারিয়ার বসবাস। দুই বছর আগে বিয়ে বয়েছে তার। বিয়ের পর মারিয়ার স্বামী নয়ন মিয়াও থাকছেন তাদের বাড়িতেই। কিন্তু অভাব তাদের নিত্যসঙ্গী।
মারিয়ার বাবা ফারুক মোল্লা ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে সংসারের খরচ মেটান। মা জাকিয়া বেগমের পৈত্রিকসূত্রে পাওয়া একখণ্ড জমিতেই তাদের বসবাস। এনজিও থেকে একটি ঘর করে দিলেও সেটি এখন জীর্ণশীর্ণ। ভেঙেও গেছে।
মারিয়ার মা জাকিয়া বেগম বলেন, সিডরের সময় মারিয়ার যখন জন্ম হয় তখন এনজিও থেকে একটা ঘর দিয়েছিল। বাবার দেওয়া জমিতে ঘরটা তুলে সেই ঘরেই সবাই থাকি। গরীব মানুষ আমরা, মেয়ে বড় হলে বিয়ে দিয়েছি। ১৫ বছর আগে দেওয়া ঘরটাও ভেঙে গেছে। এই ঘরে মেয়ে জামাই নিয়ে এখন থাকি।
মারিয়ার নানা গোলাম মোস্তফা বলেন, সিডরের সময় অনেকেই আমার নাতনিকে অনেককিছু দেবে বললেও কেউই তেমন কিছু দেয়নি। আমি ওকে থাকার জন্য একটু জায়গা দিয়েছি। সেই যায়গায় এখন থাকে।
রিয়া বলেন, সিডরের সময় জন্ম নিয়ে জীবনটাও সিডরের মতো হয়ে গেছে। নানুর বাড়িতে থাকি। বাবা যা রোজগার করে তাতে আমাদের সংসার চালাতে অনেক কষ্ট হয়।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন বলেন, সিডর বেবি মারিয়া ও তার পরিবারের দিন কাটছে খুব কষ্টে। আমরা সাধ্যমতো সহযোগিতা করছি।