× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রংধনু চেয়ারম্যানকে ফাঁসানোর অপচেষ্টা

রূপগঞ্জে সব অঘটনের নেপথ্যে শাহ আলম

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৪ ০৯:৪৬ এএম

আপডেট : ১১ জুন ২০২৪ ১৭:৫২ পিএম

আহমেদ আকবর সোবহান ওরফে শাহ আলম (বামে) এবং অস্ত্র হাতে সন্ত্রাসী নিরব ডানে। কোলাজ প্রবা

আহমেদ আকবর সোবহান ওরফে শাহ আলম (বামে) এবং অস্ত্র হাতে সন্ত্রাসী নিরব ডানে। কোলাজ প্রবা

দ্বীন ইসলাম হত্যাকাণ্ডের পাঁচ দিন পরও রূপগঞ্জের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোশারফ হোসেন মোশার বড় ছেলে নিরবকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ৬ জুন নাওড়া এলাকায় মোশা বাহিনীর তাণ্ডব চলাকালে নিরবের গুলিতে মারা যান দ্বীন ইসলাম। হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, পুলিশের ওপর হামলাসহ ৫৩ মামলার আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী মোশারফ হোসেন মোশাকে বহুদিন ধরে আশ্রয়-প্রশ্রয়, টাকা ও অস্ত্র দিয়ে আসছে বসুন্ধরা গ্রুপ। 

স্থানীয়রা জানায়, এই মোশা বাহিনীর মাধ্যমে রূপগঞ্জের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছেন ভূমিদস্যুদের গডফাদার হিসেবে খ্যাত আহমেদ আকবর সোবহান ওরফে শাহ আলম। তার নির্দেশে একের পর এক অঘটন ঘটছে রূপগঞ্জে। যেখানেই ঘটনা ঘটুক না কেন, নিরীহ গ্রামবাসীকে উঠিয়ে এনে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় গড়ে তোলা আস্তানায় মাসের পর মাস আটকে রেখে তাদের দিয়ে রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ রফিকুল ইসলাম রফিকের বিরুদ্ধে মামলা করাতে বাধ্য করা হয়। রক্তপাত হয় রূপগঞ্জে আর শাহ আলম লোকজন তুলে এনে বিচার করেন বসুন্ধরার ভেতরে। রূপগঞ্জের মানুষ সব সময় আতঙ্কের মধ্যে থাকে কখন তাদের ওপর হামলা হবে, তুলে নেওয়ার পর নির্যাতনের শিকার হতে হবে। 

ভুক্তভোগীরা জানায়, কয়েক মাস আগেই পানিতে ডুবে নাওড়া গ্রামের শিশু স্বাধীনের মৃত্যু হলেও ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বানিয়ে রফিকুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলার অভিযোগ দায়ের করা হলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে আদালতে সিআর মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি করার আগে শিশু স্বাধীনের পরিবারকে গ্রাম থেকে তুলে এনে বসুন্ধরার ভেতরে আটকে রাখা হয়। ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের বাধ্য করা হয় রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে। এখানেই থেমে থাকেনি বসুন্ধরার ভূমিখেকো শাহ আলমের কুকর্ম। ৬ জুন শীর্ষ সন্ত্রাসী মোশার ছেলে নিরবের ছোড়া গুলিতে দ্বীন ইসলাম হত্যার ঘটনায়ও রফিকুল ইসলামকে ফাঁসাতে উঠেপড়ে লেগেছে বসুন্ধরা গ্রুপ। তারা প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে যারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত নয় তাদের জড়িয়ে একটি সাজানো অভিযোগ তৈরি করে থানায় জমা দিয়েছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দ্বীন ইসলাম হত্যার ঘটনায় বসুন্ধরা গ্রুপের সাজানো অভিযোগটি মামলা আকারে লিপিবদ্ধ করানোর জন্য শাহ আলম আইনপ্রয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থাকে চাপ দিচ্ছেন। কখনও টেলিফোনে কখনোবা শাহ আলম নিজেই সেসব সংস্থার দপ্তরে গিয়ে ক্রমাগত তদবির চালাচ্ছেন। রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা না নিলে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের মতো পরিণতি হবে বলেও শাহ আলম হুমকি দিচ্ছেন বিভিন্ন সংস্থার কর্তাব্যক্তি, এমনকি মন্ত্রীদেরও! তার এমন অব্যাহত হুমকি-ধমকিতে অনেকে ভীত হয়ে পড়েছেন। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, দ্বীন ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যাদের আসামি করে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, তদন্তে তাদের কোনো সম্পৃক্ততাই খুঁজে পাওয়া যায়নি। 

বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, মোশার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে নাওড়া এলাকার মানুষ। তাদের ক্ষোভের মুখে নাওড়া থেকে বিতাড়িত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোশাকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আশ্রয় দিয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ। দ্বীন ইসলাম হত্যাকাণ্ডের পর মোশার বড় ছেলে নিরবকেও অজ্ঞাত স্থানে লুকিয়ে রেখেছে তারা। যেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরবকে গ্রেপ্তার করতে না পারে। 

প্রকাশ্যে এমন অপকর্ম ঘটিয়েও শাহ আলম কীভাবে ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছেন, তা নিয়ে বিস্মিত রূপগঞ্জের মানুষ। তারা বলছে, রূপগঞ্জকে ঘিরে এক আজব লীলাখেলায় মেতে উঠেছেন ভূমিদস্যু শাহ আলম। অপরাধ করে এবং অপরাধীদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে তিনি আইন-আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন বারবার। কোনো কিছুরই যেন তোয়াক্কা করেন না তিনি। খুন-খারাবি, জবরদখল করে রূপগঞ্জকে নিজের হাতের মুঠোয় রাখতে চান। এজন্য রূপগঞ্জে যা-ই ঘটুক না কেন, সব দায় রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের ওপর চাপাতে মরিয়া শাহ আলম।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা