চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৪ ২১:১৩ পিএম
আপডেট : ১০ জুন ২০২৪ ২১:২৬ পিএম
বিদেশি অপারেটরের অধীনে চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) ভিড়ল প্রথম বাণিজ্যিক জাহাজ। প্রবা ফটো
বিদেশি অপারেটরের অধীনে চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) ভিড়ল প্রথম বাণিজ্যিক জাহাজ। সোমবার (১০ জুন) বিকাল ৩টায় মায়ের্সক দাভাও নামের জাহাজটি পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালে ভিড়ে। এর মধ্য দিয়ে বিদেশি অপারেটরের হাত ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে টার্মিনালটির অপারেশন কার্যক্রম।
ক্রেনযুক্ত মায়ের্সক দাভাও জাহাজটি মালয়েশিয়ার পোর্ট ক্ল্যাং থেকে পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালে আসে। এখান থেকে রপ্তানি পণ্যের কন্টেইনার নিয়ে জাহাজটি ইন্দোনেশিয়ার বেলাওয়ান বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দিবে।
কার্যক্রম শুরু উপলক্ষে (১০ জুন) সোমবার বিকেলে পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল এবং রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এরউইন হেইজ বক্তব্য দেন।
চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল বলেন, প্রথমবারের মতো কোনো বিদেশি অপারেটরকে আমরা বন্দরের টার্মিনাল অপারেশনের দায়িত্ব দিয়েছি। এখন থেকে আগামী ২২ বছর রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল অপারেট করবে। এটি আমাদের জন্য একটি বিশেষ মুহুর্ত। কারণ এর মধ্য দিয়ে বিদেশি অপারেটরের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বন্দরের টার্মিনাল পরিচালনার কাজ শুরু হলো।
তিনি আরও বলেন, পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালের কাজ শুরু করতে পারায় আমরা অনেক খুশি। টার্মিনালটির অপারেশন কার্যক্রম শুরু হওয়ায় আমরা রাজস্ব পাওয়া শুরু করেছি। এককালীন ফি ২০ মিলিয়ন ডলার আমরা আজকে পাব। এর মধ্য দিয়ে ডলার আসা শুরু হয়ে গেল।
রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এরউইন হেইজ বলেন, আমরা ক্যাপ্টেন মায়ো থান এবং মায়েসর্ক দাভাওকে টার্মিনালে স্বাগত জানাতে পেরে গর্বিত এবং এই নতুন কনসেশন চুক্তির অধীনে প্রথম আনুষ্ঠানিক জাহাজ আগমনের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক উদযাপন করছি। আমরা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এবং বৈশ্বিক লজিস্টিক চেইনে চট্টগ্রাম বন্দরের কেন্দ্রীয় ভূমিকা বাড়াতে অবদান রাখার জন্য উন্মুখ।
তিনি আরও বলেন, এটি হলো ট্রায়াল অপারেশন। ট্রায়াল অপারেশন সফলভাবে শেষ হওয়ার পর আমরা টার্মিনালটিতে পুরোদমে বাণিজ্যিক অপারেশন শুরু করব।
বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ৫৮০ মিটার দীর্ঘ পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালে ১০ মিটার ড্রাফট রয়েছে। এখানে এক সঙ্গে তিনটি জাহাজ হ্যান্ডলিং করতে পারবে। রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল টার্মিনালটির অপারেশন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সরঞ্জাম এবং প্রযুক্তি নির্ভর বন্দর ব্যবস্থাপনায় ১৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা করেছে। যার মধ্যে চারটি উন্নত উচ্চ ক্ষশতা সম্পন্ন শিপ টু শোর (এসটিএস) ক্রেন, রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন এবং অন্যান্য আধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং সরঞ্জাম রয়েছে। এই টার্মিনালে বছরে ২ লাখ ৫০ হাজার থেকৈ ৬ লাখ টিইইউস কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা রয়েছে।
রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল সৌদি আরব ভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান। এটি মধ্যপ্রাচ্যের দ্রুত বর্ধনশীল পোর্ট চালিত কন্টেইনার হ্যান্ডলিং এবং ভ্যালু-অ্যাডেড সেবা প্রদানকারীদের মধ্যে অন্যতম। প্রতিষ্ঠানটি ৬০ শতাংশ রেড সি পোর্ট ডেভেলপমেন্ট ইন্টারন্যাশনাল এবং ৪০ শতাংশ পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড সৌদি আরবের যৌথ বিনিয়োগের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত।
প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ২০২৩ সালের ৬ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এরপর গত ৬ জুন টার্মিনালটিতে অপারেশন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে অনুমতি দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।